সর্বশেষ সংবাদ
রাজ-শুভশ্রী এক বাঁধনে  » «   বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করেছে : প্রধানমন্ত্রী  » «   আগাম বন্যার আশঙ্কা  » «   ঈদে আসছে ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’  » «   বজ্রপাতে একদিনে সারাদেশে ৩০ জনের মৃত্যু  » «   জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের ইন্তেকাল  » «   জাতিসংঘ মিশন : সিলেটের ২০০ স্বপ্নবাজ তরুণের নেতৃত্বে হাওরসন্তান সোহাগ  » «   বিয়ানীবাজারে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার  » «   বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন সোনম কাপুর আর আনন্দ আহুজা  » «   এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষন শুরু : একাদশে ভর্তি ১৩ মে থেকে  » «   ষাঁড়ের গুতোয় কৃষকের মৃত্যু  » «   পা-ই তার সাফল্যের চাবিকাটি  » «   গাছ ভেঙে পড়ায় সিলেটের সাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ  » «   এসএসসিতে সিলেটে পাস ৭০.৪২% : জিপিএ-৫ ৩১৯১ জন  » «   নিয়োগ চলছে কামা পরিবহন (প্রা. লি.)-এ।  » «  

রাখাইনের স্বাধীনতাই একমাত্র সমাধান : হেফাজত



5প্রান্ত ডেস্ক: ‘রাখাইনের স্বাধীনতাই রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সমাধান’- এমনটি দাবি করেছে হেফাজতে ইসলাম। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, বাংলাদেশের প্রত্যেক মুফতি, ওলামা-মাশায়েখ ঐকমত্যে পৌঁছেছেন যে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জিহাদ ফরজ হয়ে গেছে। এই জিহাদের প্রাথমিক অংশ হিসেবে আমরা আগামী সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও করব। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে দলটি এই ঘোষণা দেয়। সোমবার জাতিসংঘের ঢাকা অফিসে স্মারকলিপিও দেবে তারা। হেফাজতের বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর কমিটির নায়েবে আমির নূর হোসেন কাসেমী। তিনি সমাপনী ভাষণে বলেন, ‘আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর হবে আরেকটি শাপলা চত্বরের ন্যায় সমাবেশ। সেখানে আপনারা, ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাইরা সকলে উপস্থিত হবেন। মিয়ানমারের জালেম সরকারকে আমরা বোঝাতে চাই, নিপীড়ন-নির্যাতন হত্যা-ধর্ষণ বন্ধ করুন। রাখাইনের স্বাধীনতাই হবের এর একমাত্র সমাধান। এজন্য প্রয়োজনে আমরা মিয়ানমারে যাব। যুদ্ধ করব। রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করব।’

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের বিষয়ে সরকারকে অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। প্রয়োজনে যুদ্ধ হবে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষা করতে প্রয়োজনে লং মার্চ করা হবে। আমাদের ভাইদের রক্ষা করতে আমরা প্রস্তুত।

সমাবেশ ঘিরে জুমার নামাজে শেষে হাজারও মুসল্লির প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে রাজধানীতে বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণ। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে জুমার নামাজের আগে থেকেই দলটির হাজার হাজার কর্মী সেখানে জড়ো হতে থাকেন। এতে অংশ নেন সাধারণ মানুষও। নামাজ শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও শান্তিতে নোবেল জয়ী ‘অং সান সু চির কফিন (প্রতীকী) নিয়ে বিক্ষোভ করা হয়। পরে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিদের স্লোগান ছিল, ‘বিশ্ব মুসলিম ঐক্য গড়ো, আরাকান স্বাধীন করো, বিশ্ব মুসলিম লড়াই করো মিয়ানমারকে ধ্বংস করো’। ‘আমরা আনসার’, ‘রোহিঙ্গা ভাইরা মেহমান।’

বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে আয়োজিত এ সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরীর সহ-সভাপতি আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, মক্কা থেকে যেভাবে মদিনায় হিজরত করে মুসলমানরা আশ্রয়-নিরাপত্তা পেয়েছিল তেমনিভাবে মিয়ানমারে চলা মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন ও হত্যা-ধর্ষণে হিজরত করে আসা রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয়-নিরাপত্তা ও খাদ্য-বস্ত্র দিয়ে সাহায্য করব। তারা আমাদের মেহমান। বাংলার মানুষ রাখাইনের স্বাধীনতা চায়। হেফাজতের ঢাকা মহানগরের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক বলেন, মিয়ানমার সরকার যা করছে এর প্রতিবাদ জানানোর মতো আমাদের ভাষা নেই। এখন সময় এসেছে অস্ত্রের বদলা অস্ত্র দিয়েই করার। রোহিঙ্গা মুসলমান নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় আমাদের যা যা করার করব। সহ-সভাপতি আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, জাতিসংঘ, ওআইসি’সহ সব আন্তর্জাতিক সংগঠনের মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যা করছে তা ইতিহাসে বর্বরোচিত ঘটনা হিসেবে স্থান পাবে। কিন্তু এর প্রতিবাদ আমাদের করতেই হবে।

ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির ড. ঈশা সাহিদি বলেন, ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত ও বর্বরোচিত এই হামলায় বিশ্ব মুসলিম নীরব থাকতে পারে না। রোহিঙ্গা মুসলমানসহ মিয়ানমারে সকল নির্যাতিতের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে। তাদের নাগরিক অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে জিহাদে অংশ নিতে আমরা প্রস্তুত। হেফাজতে ইসলামের নেতা ও মিরপুর জামেয়া ইমদাদিয়া মাদরাসার মুহতামিম আবু তাহের জিহাদি বলেন, সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রশংসা পেয়েছে। কিন্তু আমরা তা করতে পারছি না। কারণ আমরা রোহিঙ্গা ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়াতে চাই। তাদের আশ্রয় দিতে চাই। কিন্তু এখনও বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের আশ্রয়, খাদ্য-বস্ত্র ও নিরাপত্তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। তাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে সরকারকে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বেগবান করতে হবে। এই জিহাদ আমরা প্রধানমন্ত্রীর নের্তৃত্বেই করতে চাই।

হেফাজত নেতা জোনায়েদ আল হাবিব বলেন, সু চির নীরবতা মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে আরও বেগবান করেছে। মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যার প্রতিবাদে জিহাদ করা আমাদের ওপর ফরজ হয়ে গেছে। আমরা জিহাদ করতে চাই। নিপীড়িত মানবতার মুক্তি চাই। তিনি বলেন, আমাদের আমির বলেছেন, মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে আসা মুসলমানদের ন্যায় আমরাও রোহিঙ্গা ভাই-বোনদের আশ্রয় দেব। তিনি ১০ লাখ রোহিঙ্গার জন্য ১০ লাখ মুসলমানকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা রোহিঙ্গা ভাইদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।

Developed by: