সর্বশেষ সংবাদ
মৃত্যুর আগে পানি চেয়েও পায়নি কিশোর  » «   সিলেটে ৫৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, থাকছে তিনস্তরের নিরাপত্তা  » «   জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১১ জনের নাম প্রকাশ  » «   মানবতা বিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত সু চি-সেনাপ্রধান  » «   শাবির ভর্তি পরীক্ষা ১৮ নভেম্বর  » «   তিন ছেলে পুলিশ কর্মকর্তা, তবু ভিক্ষা করেন মা!  » «   চালের দামের লাগাম টানতে নিষেধাজ্ঞা উঠল প্লাস্টিকের বস্তা থেকে  » «   লিজে আনা বোয়িং ফেরতের উপায় খুঁজছে বিমান  » «   লন্ডনে পাতাল রেলে বিস্ফোরণ ‘সন্ত্রাসী হামলা’, আহত ১৮  » «   মহানগর কমিটির সভা: এসডিসির সদস্য আব্দুস শুকুর স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  » «   মিরতিংগা চা বাগানে মস্তকবিহিন লাশ উদ্ধার, আটক ২  » «   অভিনয় ছাড়ছেন মিশা সওদাগর  » «   লাউয়াছড়ায় গলায় ছুরি ধরে ট্রেনের দুই যাত্রীর টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই  » «   মিয়ানমারে সাইবার হামলা চালিয়েছে বাংলাদেশি হ্যাকার গ্রুপ  » «   রাখাইনে সহিংসতায় দায়ী পাকিস্তান ও আইএসআই  » «  

ব্যাংকিং খাত :সব সূচকেই এগিয়ে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো



fox   হাছান আদনান:    আমানত ও ঋণ প্রবৃদ্ধি, এডি রেশিওর (আমানতের তুলনায় ঋণ বিতরণের হার) মতো সূচকগুলোয় প্রচলিত ব্যাংকের চেয়ে ভালো করছে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো। ভালো অবস্থানে আছে সম্পদের বিপরীতে আয় (আরওএ), ইকুইটির বিপরীতে আয় (আরওই) ও মুনাফা মার্জিনেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট-২০১৬-এর তথ্য পর্যালোচনায় এ চিত্র পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দেশের ব্যাংকিং খাতের আমানত প্রবৃদ্ধি হয় ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ। একই সময়ে ইসলামী ব্যাংকিং খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। চলতি বছরেও আমানত প্রবৃদ্ধির এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোয়। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইসলামী ব্যাংকিং খাতে আমানত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। ঋণ প্রবৃদ্ধিতেও প্রচলিত ব্যাংকগুলোর চেয়ে ভালো করেছে এগুলো। ২০১৬ সালে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ। একই সময়ে প্রচলিত ব্যাংকিংয়ে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ ধারা অব্যাহত আছে চলতি বছরও। ২০১৭ সালের প্রথম ছয় মাসে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮ দশমিক ২৮ শতাংশ।
এছাড়া ২০১৬ সালে প্রচলিত ব্যাংকিংয়ে আমানতের তুলনায় ঋণ বিতরণের হার বা এডি রেশিও ৮০ শতাংশের কাছাকাছি হলেও ইসলামী ধারার ব্যাংকিংয়ে এ হার ছিল ৯৩ শতাংশের বেশি।
১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের যাত্রা হয়। বর্তমানে দেশের বেসরকারি খাতের ৪০টি ব্যাংকের মধ্যে আটটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ধারার ব্যাংকিং করছে। ব্যাংকগুলো হলো— ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, এক্সিম ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ও চতুর্থ প্রজন্মের ইউনিয়ন ব্যাংক। সারা দেশে ১ হাজার ৬৮টি শাখার মাধ্যমে কার্যক্রম চালাচ্ছে ব্যাংকগুলো।
নৈতিকতা ও গুণগত মানের সেবার কারণে মানুষ ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে বলে জানান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, এ কারণে গ্রাহকরা ইসলামী ব্যাংকে এসে ভিড়ের মধ্যেও টাকা জমা কিংবা উত্তোলন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আমাদের দেশের তৈরি পোশাক ও বৃহত্ শিল্পের বড় অংশই ইসলামী ব্যাংকের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মাঝে ক্ষুদ্রঋণ ও কৃষকদের কৃষিঋণ প্রদান করে ইসলামী ব্যাংক আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
একটি ব্যাংক ভালো করছে না মন্দ, তা বোঝার অন্যতম নির্দেশক সম্পদের বিপরীতে আয় বা রিটার্ন অন অ্যাসেট (আরওএ)। নিট মুনাফা ব্যাংকের মোট সম্পদের কত শতাংশ, তার ভিত্তিতে হিসাব করা হয় আরওএ। এ সূচকেও প্রচলিত ব্যাংকের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দেশের পুরো ব্যাংকিং খাতের আরওএ ছিল শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর আরওএ ছিল শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।

ব্যাংকিং খাতের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক ইকুইটির বিপরীতে আয় (রিটার্ন অন ইকুইটি বা আরওই)। ২০১৬ সালে পুরো ব্যাংকিং খাতের আরওই ছিল ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। অথচ ওই সময়ে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের আরওই ছিল ১৩ দশমিক ১ শতাংশ।
এছাড়া ২০১৬ সালে দেশের পুরো ব্যাংকিং খাতের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ নিট মুনাফার মার্জিন থাকলেও ইসলামী ব্যাংকিংয়ে তা ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
ইসলামী ধারায় ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া বলেন, সাধারণ ব্যাংক ও ইসলামী ধারার ব্যাংকের কর্মীদের আচার-আচরণ, গ্রাহককে সেবা দেয়ার মানসিকতাসহ সবকিছুতেই বড় ধরনের তফাত রয়েছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণীর মানুষই ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে লেনদেন নিরাপদ মনে করে। এ কারণে বিশ্বব্যাপী ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ধারণা দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করছে।
ইসলামী ধারায় পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি শাখা খুলে ইসলামী ব্যাংকিং করছে ১৯টি ব্যাংক। আটটি ব্যাংক চালু করেছে ২৫টি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো।

চলতি বছরের জুন শেষে দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাতে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। একই সময়ে ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৮৫ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আমানত ও ঋণের দিক থেকে দেশের ব্যাংকিং খাতের এক-পঞ্চমাংশই এখন নিয়ন্ত্রণ করছে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো।
তবে পূর্ণাঙ্গ ধারার ইসলামী ব্যাংকগুলো ভালো প্রবৃদ্ধি করলেও ইসলামী ব্যাংকিং শাখা ও উইন্ডো চালু করা ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি সুবিধাজনক নয়। সাধারণ মানুষের আস্থার ঘাটতি থাকায় এ শাখাগুলো ভালো করতে পারছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইসলামী উইন্ডো চালু করে ব্যাংকিং পরিচালনাকারী ব্যাংকগুলোর একটি ট্রাস্ট ব্যাংক। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ট্রাস্ট ব্যাংকের ইসলামী শাখাগুলো ভালো করছে। বিশ্বব্যাপী ইসলামী ধারার ব্যাংক সম্প্রসারিত হচ্ছে। সে হিসাবে বাংলাদেশেও ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যত্ উজ্জ্বল। তবে প্রচলিত ধারার অনেক ব্যাংকের ইসলামী শাখার পরিস্থিতি ভালো নয়।
সাধারণ ব্যাংক থেকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ধারার ব্যাংকে রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করেছে বেসরকারি খাতের স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড। এর আগেও ইসলামী ব্যাংক শাখা ও উইন্ডো চালুর অনুমোদন চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করেছে একাধিক ব্যাংক।
তবে নতুন করে প্রচলিত ধারার কোনো ব্যাংককে ইসলামী শাখা বা উইন্ডো চালুর অনুমোদন দেয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আবু ফারাহ মো. নাছের। তিনি বলেন, শাখা বা উইন্ডো চালু করা ব্যাংকগুলো ইসলামী ব্যাংকিংয়ের নীতিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারে না। একটি প্রচলিত ধারার ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকে রূপান্তরিত হওয়ার জন্য এ মুহূর্তে আবেদন করে রেখেছে। এর আগেও কয়েকটি ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ধারায় যাওয়ার আবেদন করেছিল।

Developed by: