সর্বশেষ সংবাদ
রাজ-শুভশ্রী এক বাঁধনে  » «   বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করেছে : প্রধানমন্ত্রী  » «   আগাম বন্যার আশঙ্কা  » «   ঈদে আসছে ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’  » «   বজ্রপাতে একদিনে সারাদেশে ৩০ জনের মৃত্যু  » «   জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের ইন্তেকাল  » «   জাতিসংঘ মিশন : সিলেটের ২০০ স্বপ্নবাজ তরুণের নেতৃত্বে হাওরসন্তান সোহাগ  » «   বিয়ানীবাজারে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার  » «   বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন সোনম কাপুর আর আনন্দ আহুজা  » «   এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষন শুরু : একাদশে ভর্তি ১৩ মে থেকে  » «   ষাঁড়ের গুতোয় কৃষকের মৃত্যু  » «   পা-ই তার সাফল্যের চাবিকাটি  » «   গাছ ভেঙে পড়ায় সিলেটের সাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ  » «   এসএসসিতে সিলেটে পাস ৭০.৪২% : জিপিএ-৫ ৩১৯১ জন  » «   নিয়োগ চলছে কামা পরিবহন (প্রা. লি.)-এ।  » «  

সুরমা নদীর তীর দখলে খোদ সিটি করপোরেশন



5স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহমান সুরমা নদীর তীর দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন মহল থেকে এসব উচ্ছেদের দাবি জানানো হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। এবার খোদ সিলেট সিটি করপোরেশনই দখল করে রেখেছে সুরমার তীর। নগরীর কীনব্রিজ এলাকায় কিনব্রিজ এলাকায় সুরমা নদীর তীর দখল করে নিজেদের যানবাহনের অস্থায়ী স্ট্যান্ড বানিয়েছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।

যদিও বছর দশেক আগে নদী তীরের এই স্থানটির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নগরবাসীর বেড়ানো ও বিনোদনের জন্য দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজিয়েছিলো সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সওজ’র উদ্যোগের পর প্রতি বিকালে নগরীর অনেকে নির্মল বাতাসের জন্য ভিড় করতেন কিনব্রিজ আর আলী আমজদের ঘড়ির পাশ্ববর্তী ঐতিহাসিক ওই স্থানে। তবে নগরকর্তৃপক্ষের যানবাহনের স্ট্যান্ড গড়ে তোলায় বিপাকে পড়েছেন নগরবাসী।

বিনোদনের সুযোগহীন এই নগরে বিনোদনের একটি স্থান খোদ সিটি কর্তৃপক্ষ দখল করে নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। তাদের মতে, গ্যারেজ-সংকট থাকলে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ অন্য কোনো স্থান ভাড়া নিতে পারত।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) কর্তৃপক্ষের দাবি, সিসিকের যানবাহন অনেক বেড়ে যাওয়ায় অস্থায়ীভাবে নদী তীরের ওই খোলা জায়গায় যানবাহন রাখা হচ্ছে। নতুন নগরভবনের নির্মান কাজ চলছে। নির্মান কাজ শেষ হলেই নতুন ভবনের আঙ্গিনায় যানবাহন পার্কিং করা হবে। তখন নদী তীরের স্থানটি ফের উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

জানা যায়, ২০০৬ সালে কিনব্রিজ এলাকায় সুরমা নদীর তীর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উদ্যোগে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আওতায় নদীর পাড়ে স্টিলের পাত বসানো, ওয়াকওয়ে স্থাপন এবং বৃক্ষরোপণ করা হয়। নগরবাসীর বিনোদনের জন্যই স্থানটি এভাবে দৃষ্টিনন্দন করা হয়। পরে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সওজ কর্তৃপক্ষ স্থানটি সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। প্রতিদিন বিকেলে নগরীর অনেকেই এখানে জড়ো হয়ে আড্ডা দেন।

২০১২ সালে নগরীর বন্দরবাজারের পুরনো নগরভবন ভেঙ্গে নতুন করে সুপরিসর ভবন নির্মানের কাজ শুরু হয়। এরপর কার্যক্রম চালানো জন্য সিসিকের অস্থায়ী কার্যালয় হয় সুরমা নদী তীরবর্তী তোপখানা এলাকার পীর হবীবুর রহমান পাঠাগারে। এখনো এই পাঠাগারেই চলছে সিসিকের কার্যক্রম। অপরদিকে, নতুন নগর ভবনের কার্যক্রমও শেষ পর্যায়ে।

নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও ছড়াখাল উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য চলতি বছরে বেশকিছু নতুন ট্রাক, এক্সকাভেটরসহ আরো কিছু গাড়ি ক্রয় করে সিসিক। অস্থায়ী ভবন আঙ্গিনায় এগুলোর স্থান সংকুলান না হওয়ায় ও নিজস্ব গ্যারেজ না থাকায় কীনব্রিজের পাশ্ববর্তী চাঁদনী ঘাটে সুরমা নদীর তীর দখল করেই অস্থায়ী পার্কিং গড়ে তুলে সিসিক। এতে বিপাকে পড়েন নগরীর বিনোদন পিয়াসুরা। বৈকালিক ভ্রমণের জায়গা সংকুচিত হয়ে এসেছে তাদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কিনব্রিজ এলাকায় নদীর পাড় থেকে শুরু করে কিনব্রিজ-তোপখানা মূল সড়ক পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের অনেকগুলো গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা রয়েছে। এর মধ্যে ছিল বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের যানবাহন, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের ট্রাক এবং খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর)। এ ছাড়া সড়ক নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত দুটি বৃহৎ যানবাহনও এখানে রাখা হয়েছে। এসব যানবাহনের ফলে সেখানে এখন হাঁটাচলা করার স্থানটুকুও অবশিষ্ট নেই।

এব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, নতুন নগর ভবনের নির্মান কাজ শেষ পর্যায়ে। শীঘ্রই আমরা নতুন ভবনে উঠবো। তখন আর এখানে আর যানবাহন পার্ক করা হবে না। জায়গার স্বল্পতার কারণে অস্থায়ীভাবে কিনব্রিজ এলাকায় সুরমা নদীর পাড়ে যানবাহনগুলো রাখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আলাদা গ্যারেজ নির্মানের জন্য আমরা একটি তবে উন্মুক্ত জায়গা খুঁজছি।

Developed by: