সর্বশেষ সংবাদ
সাগরে লঘুচাপ, হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস  » «   লাউয়াছড়ায় অবমুক্ত করা হয়েছে বিরল প্রজাতির লেজের ‘মোল’  » «   লন্ড‌নে এসিড হামলায় দু‌টি চোখ হারা‌লেন বাংলা‌দেশী তরুন  » «   জাফলংয়ে মাটি চাপায় কিশোরী নিহত, আহত ৪  » «   ক্লিনিক আর ডায়গনাস্টিক সেন্টারে সড়কজুড়ে যানজট  » «   কমরেড আ ফ ম মাহবুবুল হক আর নেই  » «   গোলাপগঞ্জে তেলবাহী লেগুনায় আগুন  » «   পিলখানা হত্যাকাণ্ড : হাইকোর্টের রায় ২৬ নভেম্বর  » «   লোদীর বাসায় মেয়র আরিফ: বিরোধের অবসান!  » «   নগরীতেে কোনদিন কোথায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ  » «   সৌদির বিরুদ্ধে লেবাননের যুদ্ধ ঘোষণা!  » «   বাংলাটিলায় সুন্দর আলীর লাশ উদ্ধার  » «   রান খরায় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা!  » «   আফগানিস্তানে টেলিভিশন স্টেশনে হামলা  » «   অন্যের বায়োমেট্রিক তথ্যে সিম কিনছে অপরাধীরা  » «  

পরিবহন জটিলতায় কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডে অচলাবস্থা



9বিশেষ সংবাদদাতা: সিলেটের গোলাপগঞ্জ কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন পণ্য পরিবহন জটিলতার কারণে গ্যাস ফিল্ড বন্ধ হওয়ার পথে। বিগত দু’দিন ধরে অপরিশোধিত জ্বালানী পদার্থ গোলাপগঞ্জ থেকে দেশের কোথাও সরবরাহ না করায় গ্যাস ফিল্ডগুলোর ট্যাংকি লোড হয়ে গেছে। উত্তোলিত জ্বালানী পদার্থ রাখার কোন স্থান না থাকায় বড়ধরনের বিপাকে পড়েছেন গ্যাস ফিল্ড কর্তৃপক্ষ। এতে কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডের সঙ্গে আরপিজিসিএল ও এলপিজি প্লান্টের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জ্বালানী পদার্থবাহী বাহন ট্যাংকলরীর শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ড কর্তৃপক্ষের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোন সুরাহা হয়নি। শ্রমিক নের্তৃবৃন্দ তাদের দাবীর প্রতি অনড় থাকায় সোমবার বাহির হতে আগত অনেক ট্যাংকলরী পণ্য ছাড়াই খালি অবস্থায় ফিরে যেতে হয়েছে। দ্রুত জটিলতার নিরসন না হলে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে, সেই সঙ্গে জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সমস্যা দেখা দেয়ার আশংকা রয়েছে।
গোলাপগঞ্জ উপজেলায় কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডের নামে ৭টি কুপ রয়েছে। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের অধীন এই কুপগুলো থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার জ্বালানী পদার্থ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। বিশেষ করে কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডগুলোর অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন সহ জ্বালানী পদার্থ বিপিসির মাধ্যমে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা নামক প্রতিষ্ঠান সিলেট ও সিলেটের বাহিরে বিক্রি করছে। জ্বালানী পদার্থ বিক্রয়কারী ঐসব প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানাধিন ট্যাংকলরীর মাধ্যমে পণ্য পরিবহন করে থাকে। তাদের নিবন্ধিত ও নাম সংযুক্ত ট্যাংকলরী দ্বারা এতদিন জ্বালানী পণ্য পরিবহন করলেও স¤প্রতি আলাদা কয়েকটি ট্যাংকলরী দ্বারা মালামাল পরিবহন করতে গিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। রোববার পদ্মা, মেঘনা, যমুনার পক্ষে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্ধারিত বাহন ছাড়া অন্য ট্যাংকলরী দ্বারা মালামাল পরিবহন করতে চাইলে কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডের সামনে ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সদস্যরা বাঁধা প্রদান করে। এতে নতুন ঐ ট্যাংকলরীগুলো পণ্য পরিবহন ছাড়াই খালি অবস্থায় ফিরে যেতে হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ চেরাগ আলী, সেক্রেটারী ইকবাল হোসেন রিপন এ প্রতিবেদককে জানান দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা, মেঘনা, যমুনার নিবন্ধিত ট্যাংকলরীগুলো সিলেট সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানী পদার্থ পরিবহন করে আসছে। উপরোক্ত জ্বালানী পদার্থ বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যক্তি মালিকানাধীন ট্যাংকলরী অন্তর্ভূক্ত করতে জামানত স্বরূপ কখনো ৪ লক্ষ টাকা আবার কখনো ৮ লক্ষ টাকা দিতে হয়েছে। তারপরও নানা জটিলতার কারণে সবসময়ে পরিবহনের সুযোগ হয় না। এতে মালিক ও চালক খুব একটা লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই। স¤প্রতি পদ্মা, মেঘনা, যমুনা পূর্বের নীতিমালা ভঙ্গ করে নতুন ট্যাংকলরীকে মালামাল পরিবহনের সুযোগ দেয়ায় আগের ট্যাংকলরীগুলোর প্রায় ৩ শতাধিক চালক শ্রমিক বড়ধরনের ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। তাদের সঙ্গে চুক্তি বহাল রেখে নতুন লরী দ্বারা মালামাল বহন করতে চাইলে যে কোন মূল্যে তারা প্রতিরোধ করবেন। সোমার সিলেট ডিপো থেকে ১৩ হাজার লিটার ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন ৫টি ট্যাংকলরী গোলাপগঞ্জ কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডের ১নং কুপ লোকেশনে মালামাল পরিবহনের জন্য প্রবেশ করতে চাইলে, ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন তাতে বাঁধা প্রদান করে। এ সময় গ্যাস ফিল্ডের ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল শ্রমিক ইউনিয়নের নের্তৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করে জ্বালানী পদার্থ পরিবহনের সুযোগ দানের জন্য অনুরোধ করলে শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে গ্যাস ফিল্ডের ডিজিএম প্রকৌশলী মুহাম্মদ আব্দুল জলিল প্রমানিকের কার্য্যালয়ে শ্রমিক নের্তৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে জটিলতা নিরসনের লক্ষে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্যাস ফিল্ডের কর্মকর্তাগণ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি আব্দুল আহাদ, সিলেট বিভাগ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ চেরাগ আলী, সেক্রেটারী ইকবাল হোসেন রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান ও ডিপোর জনৈক প্রতিনিধি। এ সময় কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডের ডিজিএম প্রকৌশলী আব্দুল জলিল প্রমানিক বলেন- আমরা চাই বরাবরের মত স্থানীয়রা জ্বালানী পদার্থ পরিবহন করুক। ডিপোগুলো এ ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব চিন্তাধারার প্রতিফলন ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করলে আমরা তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারি না। আমরা চাই নিরাপদে যাতে আমাদের পণ্য পরিবহন করা হয়। কোন জটিলতায় পণ্য পরিবহনে বাঁধার সৃষ্টি হলে কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। এ সময় তিনি আরও বলেন উৎপাদিত জ্বালানী পদার্থ ধরে রাখার জন্য নির্ধারিত পরিমাপের ট্যাংকি রয়েছে। যথাসময়ে জ্বালানী পদার্থ পরিবহন না হলে ওভারলোডের কারণে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হবে। এতে আরপিজিসিএল ও এলপিজি প্লান্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সংকট দেখা দিতে পারে বলে তিনি জানান। এ সময় তিনি একদিনের জন্য ঐ ৫ ট্যাংকলরী দ্বারা মালামাল পরিবহন করার সুযোগ দিতে শ্রমিক নের্তৃবৃন্দকে অনুরোধ করলে তারা ডিজিএমের অনুরোধ অমান্য করে বলে আমাদের সঙ্গে ডিপোগুলো অবিচার করছে, আমরা তাদের সঙ্গে যে চুক্তি করেছি এই চুক্তির কোন লঙ্গন করিনি। যেহেতু ডিপোগুলো চুক্তি লঙ্গন করেছে সেহেতু তাদের পাঠানো কোন বাহন দ্বারা মালামাল নিতে পারবেনা। ফলে উভয়পক্ষের মধ্যকার আলোচনা ফলপ্রসু না হওয়ায় পণ্য নেয়ার লক্ষ্যে আগত ৫ ট্যাংকলরী খালি অবস্থায় ফিরে যায়।
এদিকে ডিপোগুলোর বিশেষ এক প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন- গোলাপগঞ্জের গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে যে সব ট্যাংকলরী দ্বারা জ্বালানী পদার্থ নেয়া হয়, সে গুলোর ধারন ক্ষমতা ৯ হাজার ঘন ফুট। স¤প্রতি পৃথক মালিকানায় ১৩ হাজার ঘন ফুট ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন ক’টি ট্যাংকলরীর সঙ্গে পদ্মা, মেঘনা, যমুনার চুক্তি হলে এরই আলোকে মালামাল পরিবহনের সিদ্ধান্ত হয়। তিনি জানান পূর্বের কম ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন বাহনগুলোতে যে খরচ হয়, ঐ খরচে বেশী ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন বাহন দ্বারা মালামাল পরিবহনে মালিক পক্ষের আগ্রহ বেশী। এ জন্য তারা ১৩ হাজার ঘন ফুট ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাংকলরী ব্যবহার করতে বেশী আগ্রহী। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন ও ডিপো কর্তৃপক্ষের মধ্যে বড়ধরনের বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হচ্ছে কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডগুলোর উৎপাদন কার্যক্রমে। সবকিছু ঠিক থাকার পরও পরিবহন জটিলতার কারনে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে উৎপাদন। মঙ্গলবার এ জটিল বিষয়টি নিরসন না হলে কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন বন্ধ রাখতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। কারণ উৎপাদিত জ্বালানী পদার্থ কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডগুলোর ট্যাংকির ধারন ক্ষমতা অনুযায়ী পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। এখন মালামাল পরিবহন না হলে ট্যাংকিগুলো ওভারলোড অবস্থায় পড়ে থাকবে। এতে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার জ্বালানী পদার্থ উৎপাদন থেকে বিরত থাকতে হবে বলে জানা যায়। কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ড থেকে অপরিশোধিত জ্বালানী পদার্থ সংগ্রহ করে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানী (আরপিজিসিএল) পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন সহ অন্যান্য জ্বালানী পদার্থ তৈরী করে।
অন্যদিকে আরপিজিসিএল পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন সহ অন্যান্য জ্বালানী পদার্থ তৈরীর পর গ্যাস এলপিজি প্লান্টে সরবরাহ করে। কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডগুলোর উপর নির্ভর করে ৩টি প্রতিষ্ঠান। এখানে কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদনে কোন ধরনের জটিলতা বা সমস্যার সৃষ্টি হলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর উপরও অস্তিত্বে ও উৎপাদনে ব্যাঘাত হয়। তাই জরুরী ভিত্তিতে পরিবহন সমস্যা নিরসন করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে জোরালো দাবী জানানো হয়েছে।

Developed by: