সর্বশেষ সংবাদ
চুনারুঘাটে দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১  » «   মিয়ানমারে আবারও সেনা অভ্যুত্থানের শঙ্কা  » «   সিলেট বিভাগে সেরা র‍্যাংকিংয়ে এমসি কলেজ  » «   ফেনীতে মুসলমান শিক্ষককে খুন করলেন বৌদ্ধ সহকর্মী শিক্ষক !  » «   বায়োলজিক্যাল ঘড়ি কী, যে কারণে নোবেল পুরস্কার  » «   নগরীতে বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্যসহ ২ শীর্ষ ব্যবসায়ী আটক  » «   চিকিৎসায় নোবেল পেলেন মার্কিন তিন বিজ্ঞানী  » «   সিলেটে বিদ্যুতের ডিজিটালাইজেশনের ফাঁদে দুই লাখ গ্রাহক!  » «   ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজারে বাড়ছে ঝুঁকি  » «   মৃত্যুর আগে পানি চেয়েও পায়নি কিশোর  » «   সিলেটে ৫৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, থাকছে তিনস্তরের নিরাপত্তা  » «   জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১১ জনের নাম প্রকাশ  » «   মানবতা বিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত সু চি-সেনাপ্রধান  » «   শাবির ভর্তি পরীক্ষা ১৮ নভেম্বর  » «   তিন ছেলে পুলিশ কর্মকর্তা, তবু ভিক্ষা করেন মা!  » «  

মহাজোট, জোট ক্ষমতাধর দৈত্য তৃতীয় গনতান্ত্রিক শক্তির বিকাশ প্রয়োজন



11স্টাফ রিপোর্টার: সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায় বহাল রেখে আপীল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সরকারে তৈরী হয়েছে অস্বস্তি। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র সিনহা রাষ্ট্র, সমাজ, সামরিক শাসন, রাজনীতি, নির্বাচন কমিশন ও সংসদ বিচার বিভাগ সম্পর্কে কড়া সামালোচনা করেছেন। রাষ্ট্র ও সমাজ সম্পর্কে তিনি বলেছেন “একটি পঙ্গুঁ সমাজে আমরা আছি যেখানে ভালো মানুষ আর ভালো স্বপ্ন দেখেনা, কোন একজন ব্যক্তি দ্বারা কোন একটি দেশ বা জাতি তৈরী হয়নি, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা চাইলে আমিত্বের আসক্তি এবং আমিত্বের উচ্ছবিলাস মুক্ত থাকতে হবে” ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দাম্ভিকতা দেখানোর ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার মত কোন নজরদারি প্রতিষ্ঠান নেই” থাকার প্রয়োজন। সামরিক শাসন প্রসঙ্গেঁ বলেছেন “সামরিক শাসকেরা ক্ষমতার দখলদার এবং দেশকে তারা দু’বার ব্যানানা রিপাবলিকে পরিণত করেছিল” রাজনীতি সম্পর্কে বলেছেন, রাজনীতি এখন আর মুক্ত নয় এটি এখন বানিজ্যে পরিণত হয়েছে। পূর্ব পুরুষেরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চেয়ে ছিলেন, ক্ষমতাধর দৈত্য জন্ম দিতে চাননি, মেধা নয় ক্ষমতার মাধ্যমেই এখন সরকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রনের প্রবনতা দেখা দিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও সংসদ নির্বাচন কমিশন প্রাতিষ্ঠানিকরন হয়নি। উচ্ছ আদালতের বিচারকদের অপসারন ক্ষমতা সংসদের হাতে দিলে তা হবে আত্মঘাতি বিচার বিভাগ। একমাত্র বিচার বিভাগই অপেক্ষকৃত স্বাধীন, যদিও তা ডোবার পথে।
প্রধান বিচারপতি ষোড়শ সংশোধনীর আপিল বিভাগের ৭৯৯ পৃষ্ঠার পূর্নাঙ্গঁ রায়ে বলেছেন “এমন একটি পঙ্গুঁ সমাজের আমরা আছি যেখানে ভালো মানুষ আর ভালো স্বপ্ন দেখেনা। কিন্তু খারাপ লোকেরা আরও লুট পাটের জন্য বেপরোয়া ক্ষমতার অপব্যবহার ও দাম্ভিকতা দেখানোর ক্ষেত্রে বাঁধা দেয়ার মত কোন খবরদারী বা তদারকি প্রতিষ্ঠান নেই, এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার ও ব্যবস্থা নেই, নির্বাহী দাম্ভিক নিয়ন্ত্রনহীন হওয়ায় আমলাতন্ত্র কখনই দক্ষতা অর্জনে সচেষ্ট হবেনা। মেধা নয় ক্ষমতার মাধ্যমেই এখন দেশের সব সরকারী প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রনের প্রবনতা দেখা যাচ্ছে। সামরিক শাসন সম্পর্কে “সামরিক শাসকেরা ক্ষমতার দখলদার এবং দেশকে তারা দু’বার ব্যানানা রিপাবলিকে পরিনত করেছিল” যেখানে ক্ষমতা লোভীরা তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য জনগনকে পণ্যরূপে দেখেছে, ধোকা দিয়েছে, তারা জনগনকে ক্ষমতায়ন করেনি অপব্যবহার করেছে, তারা নানা রকম ধোকাবাজির আশ্রয় নিয়েছে, কখনও ভোটের নামে, কখনও জোরপূর্বক নির্বাচনের মাধ্যমে, কখনও নির্বাচন না করে এর সবটাই করা হয়েছে, তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে এবং এর মধ্য দিয়েই সুস্থ ধারায় রাজনীতি পুরোপুরি ধবংস প্রাপ্ত হয়েছে। এসব অগনতান্ত্রিক শাসন আমলের নোংরা রাজনীতির চর্চা আমাদের সার্বিক রাজনীতির মারাত্মক ক্ষতি করেছে।
তিনি বলেছেন এখন রাজনীতি মুক্ত নয় এটি বানিজ্যিক বিষয়। আর অর্থ রাজনীতি পরিচালনা করে। আর সেটিই তার লক্ষ্য উদ্দেশ্য নির্ধারন করে দেয়। এখানে মেধা নয় ক্ষমতাই সব জনপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রনকারী।
প্রধান বিচারপতি বলেছেন অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় স্বাধীনতার আকাঙ্খা ও প্রতিরোধের স্পৃহার মাধ্যমে আমরা সামরিক শাসনের থাবা থেকে মুক্ত হয়েছি কিন্তু পরাজিত হয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র, এমনকি স্বাধীনতার ৪৬বছর পরও আমরা আমাদের একটি জন প্রতিষ্ঠানকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারিনি। কোথাও আমাদের ভারসাম্য নেই, তদারকি নেই, আর এ কারনেই সুবিধা ভোগীরা ক্ষমতার অপব্যবহারে উৎসাহিত এবং যত্রতত্র ক্ষমতার অপ-ব্যবহারের ধৃষ্ঠতা দেখান। রাষ্ট্র ক্ষমতা কেন্দ্রিভুত করণের আত্মঘাতি প্রবনতা ক্রমেই বাড়ছে। ক্ষমতার লিপ্সা মহামারির মত যা একবার ধরলে সর্বত্র দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলতে চাই এটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নও উদ্দেশ্য ছিলনা, আমাদের পুর্ব পুরুষরা একটি গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছিলেন। কোন ক্ষমতাধর দৈত্যের জন্য নয়।
ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের প্রদত্ত রায়ে চরম সত্য উঠে এসেছে। আর তা হচ্ছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ, উদ্দেশ্য, আদর্শ আজ প্রায় নির্ভাসিত। গনতান্ত্রিক বলে দাবীদার শাসক শ্রেনীর প্রধান দুই অংশ মহাজোট ও জোট মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি নিবেদিত নয়, কার্যত তারা ক্ষমতার দৈত্য।
ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের প্রদত্ত রায় পড়ে বিশ্লেষন করে দেশের ব্যপক জনগন, মহামান্য আদালত ও বিচারকদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন এবং মহাজোট, জোট নামক ক্ষমতাধর দৈত্যদের প্রতিরোধ প্রতিহতকরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে জনগনকে একজোটবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাচ্ছেন।

Developed by: