সর্বশেষ সংবাদ
সালমান শাহের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে সময় পেল পিবিআই  » «   এসডিসি কার্য্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত  » «   মৌলভীবাজারের ৫ জনের যুদ্ধাপরাধের রায় যে কোনো দিন  » «   এরা এখনো বিশ্বাস করে না পৃথিবী গোল!  » «   সাগরে লঘুচাপ, হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস  » «   লাউয়াছড়ায় অবমুক্ত করা হয়েছে বিরল প্রজাতির লেজের ‘মোল’  » «   লন্ড‌নে এসিড হামলায় দু‌টি চোখ হারা‌লেন বাংলা‌দেশী তরুন  » «   জাফলংয়ে মাটি চাপায় কিশোরী নিহত, আহত ৪  » «   ক্লিনিক আর ডায়গনাস্টিক সেন্টারে সড়কজুড়ে যানজট  » «   কমরেড আ ফ ম মাহবুবুল হক আর নেই  » «   গোলাপগঞ্জে তেলবাহী লেগুনায় আগুন  » «   পিলখানা হত্যাকাণ্ড : হাইকোর্টের রায় ২৬ নভেম্বর  » «   লোদীর বাসায় মেয়র আরিফ: বিরোধের অবসান!  » «   নগরীতেে কোনদিন কোথায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ  » «   সৌদির বিরুদ্ধে লেবাননের যুদ্ধ ঘোষণা!  » «  

অপরাজনীতিই করছে নারী ধর্ষন



10স্টাফ রিপোর্টার: বর্তমানে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ঘটছে চরম অবনতি। নারী ধর্ষন, নারী অপহরন, শিশু ধর্ষন, খুন, ছিনতাই, রাহাজানি ঘটছে প্রতিদিন। দেশ সংঘটিত অপরাধের কারনে চরম আতংকে দিন অতিবাহিত করছেন নাগরিকরা। নাগরিকদের এ আতংক বিরাজ করছে সাত তলা থেকে গাছ তলা পর্য্যন্ত।
চলমান অপরাধ প্রবনতা সমাজ ব্যবস্থার ফসল না দেশের অপরাজনৈতিক তৎপরতার বর্হি প্রকাশ? প্রশ্নটি আপামর নাগরিকের। এব্যাপারে প্রবীন নাগরিকরা বলছেন সংঘটিত অপরাধ সমুহ অপরাজনৈতিক কর্মকান্ডের অংশ। তাদের মতে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারকে উৎখাত করতে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র সারা দেশ জুড়ে চালাতে থাকে গুম, খুন, গুপ্তহত্যা, ধর্মিয় প্রতিষ্ঠানে হামলা, সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ। আর সংঘটিত এসব ঘটনার দায় চাপায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও প্রগতিশীলদের উপর। এর এক পর্যায়ে ঘটে ৭৫’ সালের ১৫ আগস্টের ভয়াবহ ঘটনা। ক্ষমতায় আসে বঙ্গঁবন্ধুর সহচরখ্যাত খন্দকার মোস্তাক, তারাও চালায় জন ক্ষোভ রোধে এ জাতীয় জঘন্য কর্মকান্ড।
এরই ধারাবাহিকতায় আসে জিয়াউর রহমানের তথা বিএনপি’র শাসন। তখন সিলেটেই সৃষ্টি হয় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, সিলেট থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকায় জামায়েতের এক অধ্যাপক সদস্য, মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর অবমাননাকর একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন, আবার জামায়েত-খেলাফত মিলে সিলেটে চালায় তান্ডব। পুলিশের গুলিতে নিহত হন ৬জন ধর্মপ্রান নাগরিক। অপর দিকে এই শক্তিই সংঘটিত ঘটনার জন্য দায়িকরে প্রগতিশীল শক্তিকে। পরের বছর ১৯৮১ সালে চট্রগ্রামে দলীয় দ্বন্দ্ব নিরসনে গিয়ে নিহত হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যার দায় চাপে মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল মুঞ্জুরের উপর। হত্যা করা হয় জেনারেল মঞ্জুরকে। জেনারেল মঞ্জুর হত্যার বিচার আজও শেষ হয়নি। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদত বরনের পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহন করেন উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। ১৯৮২ সালের ২৪মার্চ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে রক্তপাতহীন (১ম পাতার পর)
অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ। তার শাসন আমলেও চলতে থাকে লুট, খুন,নারী নির্যাতন আর দায় চাপাতে থাকে বিরোধী রাজনৈতিক শাক্তির উপর। ৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানে রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয় এরশাদ। তত্বাবধায়ক সরকারের আধিনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে বিএনপি। ক্ষমতাসীন বিএনপি উৎখাতেও চলে দেশ জুড়ে গন-পিটুনীতে মানুষ হত্যা, নারী শিশু নির্যাতন, হাইজাক, ডাকাতি, হরতাল, বোমাবাজী, নরহত্যা। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসে  আওয়ামী লীগ। শুরু হয় একই ধারার অপকর্ম। ২০০১ সলে ক্ষমতায় আসে বিএনপি জামায়েত। শুরু হয় বোমাবাজী, নরহত্যা, অবৈধ অস্ত্র আমদানী, সামাবেশে গ্রেনেড হামলা, বিচারক হত্যা, আইনজীবি হত্যা। আর দায় চাপাতে থাকে প্রগতিশীলদের উপর।
২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগসহ মহাজোট। শুরু হয় ইভটিজিং, গুম, অপহরণ, প্রতিবাদ সমাবেশে বোমা হামলা, নরহত্যা। আসে ২০১৪ সালের নির্বাচন। তত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচন না হওয়ার কারণে বিএনপি অংশগ্রহন করেনি দশম জাতিয় নির্বাচনে। দেশ জুড়ে তারা চালাতে থাকে বেমাবাজী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকান্ড, নির্বাচনী কর্মকর্তা হত্যা। এর পর চলে সড়ক অবরোধ, চলে ইভটিজিং, ছাত্রী নির্যাতন যা আজ ধর্ষন, নেড়াকরা ও খুন, অপহরনে ভয়াবহ রূপ ধারন করেছে।
বিজ্ঞজনরা বলছেন সমাজ ব্যবস্থার কারনে দু’একটি ধর্ষনের ঘটনা ঘটতে পারে তবে কোন ভাবেই সামাজিক কারনে এমন ভয়াবহ ধর্ষন, নারী নির্যাতন, ঘটবেনা-ঘটতে পারেনা। তাদের অভিমত হচ্ছে এ জঘন্য অপরাধ তান্ডবের পেছনে সক্রিয় রয়েছে অপরাজনৈতিক তৎপরতা। যতক্ষন পর্যন্ত অপরাজনৈতিক তৎপরতা রোধ করা যাবেনা ততক্ষন চলবে এ অপরাজনীতি। তাদের ভাষায় রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে রাখা বা দখল করতেই শাসক শ্রেনী করছে অপরাজনীতি আর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধরন জনগনকে। মা-বোনদেরকে।

Developed by: