সর্বশেষ সংবাদ
সালমান শাহের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে সময় পেল পিবিআই  » «   এসডিসি কার্য্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত  » «   মৌলভীবাজারের ৫ জনের যুদ্ধাপরাধের রায় যে কোনো দিন  » «   এরা এখনো বিশ্বাস করে না পৃথিবী গোল!  » «   সাগরে লঘুচাপ, হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস  » «   লাউয়াছড়ায় অবমুক্ত করা হয়েছে বিরল প্রজাতির লেজের ‘মোল’  » «   লন্ড‌নে এসিড হামলায় দু‌টি চোখ হারা‌লেন বাংলা‌দেশী তরুন  » «   জাফলংয়ে মাটি চাপায় কিশোরী নিহত, আহত ৪  » «   ক্লিনিক আর ডায়গনাস্টিক সেন্টারে সড়কজুড়ে যানজট  » «   কমরেড আ ফ ম মাহবুবুল হক আর নেই  » «   গোলাপগঞ্জে তেলবাহী লেগুনায় আগুন  » «   পিলখানা হত্যাকাণ্ড : হাইকোর্টের রায় ২৬ নভেম্বর  » «   লোদীর বাসায় মেয়র আরিফ: বিরোধের অবসান!  » «   নগরীতেে কোনদিন কোথায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ  » «   সৌদির বিরুদ্ধে লেবাননের যুদ্ধ ঘোষণা!  » «  

বন্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন নদী শাসন



বন্যা কবলিত সিলেট। বন্যার এ আক্রমন ভয়াবহ। সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ৮টি উপজেলার ইতোমধ্যে-ই আক্রান্ত হয়েছে। এবারের বন্যায় ৮ উপজেলা ৫৫টি ইউনিয়ন ও ২ পৌরসভার ৪৬৬টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৩২হাজার ৭শ ৪৮টি পরিবার।
বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে প্ল­াবিত দক্ষিণসুরমা, ছাতক ও কম্পানিগঞ্জ উপজেলার নতুন নতু এলাকা। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার উপর দিয়ে। ইতোমধ্যে বন্যার করাল থাবায় আক্রান্ত উপজেলা গুলোতে ৭ হাজার ২শ ১৪টি গবাদি পশু ও হাস-মুরগী মারা গেছে।
অপর দিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের তত্বাবধায়নে জেলা ত্রান ও পূনর্বাসন কেন্দ্রের সংগ্রহিত তথ্যানুযায়ী ৮ উপজেলার ৫৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা ৪ হাজার ৩শ ৩০টি হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন  ৪ হাজার ৪শ ৯১টি পরিবার, মারা গেছে ৭ হাজার ২শ ১৪টি গবাদী পশু ও হাস-মুরগী। বন্যা আক্রান্ত মানুষদের বাচাঁতে জেলা প্রশসনের পক্ষথেকে বণ্টন করা হয়েছে ১২৭ মেট্রিকটন চাল ও ২লক্ষ ৭৭হাজার ৬শত টাকা।
হয়ত একসময় বন্যা কমবে। ফিরে আসবে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় কেন বার বার জনগন বন্যায় আক্রান্ত হয়।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বৃটিশ বেনিয়াদের শাসনাধীন ভারতবর্ষের অংশ আজকের বাংলাদেশ সে সময়ও বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। বৃটিশ শাসকগোষ্টির বিদায়ের মাধ্যমে সৃষ্ট পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্থান নামক আজকের বাংলাদেশও হয়েছে বন্যা আক্রান্ত। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ঐসময়ে পূর্বপাকিস্তানে বসবাসকারী লাখো বাঙ্গালী। শাসক শ্রেণীর যে সব বঞ্চনার কারনে বৃটিশ বেনিয়া, পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠি বিতাড়ীত করে আজকের বাংলাদেশ তৈরী করল মহান মুক্তিযুদ্ধ ৩০লাখ শহীদ, ২লাখ মা-বোন। সেই রক্তাত্ব বাংলাদেশে কেন মানুষ বন্যা ও দুর্ভিক্ষে শিকার হচ্ছে? স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮৮, ১৯৯২, ১৯৯৮, ২০০০, ২০০৪, ২০১০সালে বয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত হয়। এছাড়াও প্রতিবছর কোন না কোন জেলা, উপজেলা বাসী আক্রান্ত হচ্ছে বন্যায়। এবারের বন্যার জন্য পানি উন্নায়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের দায়ী করা হচ্ছে। আসলেইকী তাই?
বিজ্ঞজনরা মনে করেন, বন্যা সমস্যার জন্য দায়ী পানি উন্নয়নবোর্ড সহ প্রতিটি শাসক গোষ্ঠি। তাদের মতে পৃথীবির সৃষ্টি লগ্নে সৃষ্ট নদ, নদী, খাল-বিল এখন পর্যন্ত কোন শাসন আমলেই খনন করা হয়নি, ব্যবস্থা করা হয়নি সুষ্ঠু পানি প্রবাহের। এব্যপারে অনেক কথা আশ্বাস বানী শুনলেও কার্যত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অভিজ্ঞজনের মতে বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করার পেছনে রয়েছে দেশের শাসক গোষ্ঠির আদর্শিক পরনির্ভশীলতা, প্রভুর তোষামোদী এবং উঠতি বাঙ্গালী ধনি গোষ্টির স্বার্থ সংরক্ষন ও প্রতিষ্ঠা।
বিজ্ঞজনরা বলছেন আমাদের শাসক শ্রেণী বন্যাক্রান্ত মানুষকে চরম দুর্ভোগে ভিক্ষা দিয়ে ধন্যাবদ লাভ করে। আর দিন কয়েক যাবার পর বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবীদার জনগোষ্ঠিকে করে লাঠিপেঠা, গ্রেফতার, কারাগারে নিক্ষেপ এবং ক্রসফায়ার।
অভিজ্ঞজনরা মনে করছেন বন্যা সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে যেসব শাসক গোষ্ঠি গন-নির্যাতন চালায় তারা গন-মিত্র ছদ্মাবরন ধারী গন শত্রু, বাংলাদেশের শত্রু, মুক্তিযুদ্ধের শত্রু, ৩০ লাখ ও ২ লাখ মা-বোনের শত্রু।
আমরা মনেকরি বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধ চেতনার ধারক-বাহক। তাই বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের দাবী নদী, খাল, বিলের অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ এগুলো খনন তথা নদী শাসন শুরু করুন। আমরা মনেকরি পরিকল্পিত ও যথাযথ ভাবে নদী খনন না করলে একদিন নদী ভাঙ্গন বন্যাসহ বিভিন্ন কারনে বাংলাদেশ জলাশয়ে রূপান্তরিত হতে পারে। তাই নদী শাসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দেশপ্রেমিক সরকারে উচিত বলে মনে করি।
আশা করি বর্তমান সরকার আমাদের দাবী মেনে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে উদ্যেগী হবেন  এবং রক্ষা করবেন রক্তার্জিত বাংলাদেশ ও তার অধিবাসীদের

Developed by: