সর্বশেষ সংবাদ
সুরমা নদীর তীর দখলে খোদ সিটি করপোরেশন  » «   কেন বাদ দেয়া হলো মুমিনুলকে?  » «   নাটকে একসঙ্গে তিন বন্ধু  » «   ৬ দিন হচ্ছে ঈদের ছুটি  » «   গোয়াইনঘাটের সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ পানি বন্দি  » «   ‘নিহত জঙ্গি ছাত্র শিবির করতো, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হামলার পরিকল্পনা ছিল’  » «   প্রতিবছর লাখ লাখ শিশু হারিয়ে যায় কেন?  » «   পরিবহন জটিলতায় কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডে অচলাবস্থা  » «   গোলাপগঞ্জে যুবক অপহরণ, প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ  » «   নৌকা যাদের ভরসা  » «   শাহ্জালাল মাজারে বখাটে কর্তৃক মহিলাদের হয়রানীর অভিযোগ  » «   রুবির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে পিবিআই  » «   সিলেটে ২ ছাত্রলীগ কর্মীর উপর হামলার ঘটনায় ছাত্রশিবিরের বিবৃতি  » «   সিলেটে সবজির দাম বেড়েছে  » «   টিলা খেকোদের নিয়ন্ত্রনে সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তর  » «  

বন্ধ হচ্ছে না পাথর উত্তোলন



53723_b1 স্টাফ রিপোর্টার : বন্ধ হচ্ছে না পাথর উত্তোলন। অভিযানও চলছে। কোনো লাভ হচ্ছে না। গত ২৩শে জানুয়ারি থেকে ৯ই মার্চ পর্যন্ত ১১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বদলি করা হয়েছে কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও মাসুম বিল্লাহকে আর প্রত্যাহার করা হয়েছে ওসি বায়েছ আলমকে। সোমবার সিলেটের বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারিতে গিয়েও দেখা গেছে একই দৃশ্য। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটরা লাঠিয়াল বাহিনী তৈরি করে লুটপাট চালাচ্ছে। তবে- এখনই দাবি উঠেছে জাফলং ও বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারির উৎসমুখ খুলে দেয়ার। দুটি উৎসমুখই পাথরে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে চলতি মৌসুমে দুটি কোয়ারির উৎসমূলের পাথর সংগ্রহ না করলেও বর্ষার মৌসুমে আর সীমান্তের ওপার থেকে পাথর আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা। কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরফিন টিলা, গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারি ও কানাইঘাটের লোভাছড়া কোয়ারিতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাথর উত্তোলন চলছে। শাহ আরফিন টিলায় প্রথম দফা ৬ শ্রমিক মারা যাওয়ার পর প্রশাসনের ঘুম ভাঙে। আর মারা যাওয়া শ্রমিকদের লাশও গোপনে সরিয়ে নেয়া হয়। পাঠিয়ে দেয়া হয় গ্রামের বাড়িতে। একইভাবে ৯ই ফেব্রুয়ারি বিছনাকান্দি কোয়ারিতে নিহত হন তিন শ্রমিক। তাদের লাশও ভোর হওয়ার আগেই সরিয়ে ফেলা হয়। শারপিন টিলা ও বিছনাকান্দি কোয়ারির শ্রমিকরা জানিয়েছেন- শ্রমিক সরদারদের মাধ্যমেই তারা কাজে এসেছেন। এবং তাদের বসবাসের জন্য কোয়ারির ভেতরেই খুপরিঘর বানিয়ে দেয়া হয়। একেকজন সরদার ১০০ থেকে দেড়শ শ্রমিকের তদারকি করেন। তারা কোনো কাজ করেন না। তারা কেবল মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করেন। কোনো শ্রমিক মারা গেলেই তার লাশ গোপনে শ্রমিক সরদারকে কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। শারপিন টিলা ও বিছনাকান্দিতে এরকম অর্ধশতাধিক শ্রমিক সরদার রয়েছে। তাদের মাধ্যমেই লাশগুলো গোপনে সরিয়ে নেয়া হয়। শারপিন টিলা লুটপাটের ঘটনায় ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত টিম অর্ধশতাধিক সিন্ডিকেটের তালিকা পেয়েছে। তবে- বিছনাকান্দির ঘটনাটি এখনো পরিষ্কার নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটি বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারির সামগ্রিক চিত্র তুলে আনবে। গতকাল সিলেটের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার ড. আ.ক.ম আক্তারুজ্জামান বসুনিয়া জানিয়েছেন- কোয়ারিগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্য আনা একমাত্র পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়। পুলিশের কাজ হলো আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, ভূমি মন্ত্রণালয়, জনপ্রতিনিধি সবার ঐক্যবদ্ধতায় কোয়ারিগুলোতে প্রাণহানি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন- কোয়ারি এলাকার বাসিন্দারা সবাই সুবিধাভোগী। এ কারণে কোনো শ্রমিক মারা গেলে লাশ পুলিশকে না জানিয়েই সরিয়ে ফেলা হয়। তবে- পুলিশ সব কটি লাশই উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি পুলিশ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মামলাও করেছে। কিন্তু কোনো ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করেনি। সিলেটের গোয়াইনঘাটের রুস্তুমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন- সিলেটের এই কোয়ারিতে যেসব শ্রমিকরা কাজ করে তাদের বাড়ি সিলেটের বাইরে। এদের মধ্যে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ থেকে শ্রমিকরা এসে কাজ করে। কেউ মারা গেলে তাদের সন্ধান খুঁজে বের করা কষ্ট হয়ে পড়ে। তবে- তিনি জোর দেন পরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলনের প্রতি। বলেন- নির্ধারিত মাত্রায় পাথর উত্তোলন করলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাবুদ্দিন সাবই জানিয়েছেন- বিছনাকান্দি কোয়ারিতেই প্রায় ২০-৩০ হাজার শ্রমিক পাথর উত্তোলনের মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করে। একটি দুর্ঘটনার কারণে কোয়ারি বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ে। সুতরাং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনলে কোয়ারিতে দুর্ঘটনা কমে আসবে জানান তিনি। আর স্থানীয় মুরব্বি আবদুন নুর সরকার জানিয়েছেন- যারা মারা যাচ্ছে তারা চোর। রাতের বেলা পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকে। আর ওই সময় পাথর চুরি করতে এসে তারা মারা যায়। এদিকে- তিন শ্রমিক নিহত হওয়ার পরও বিছনাকান্দি কোয়ারিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়নি। কোম্পানীগঞ্জ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রুহুল আমিন জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বেই পুলিশ বোমা মেশিন বিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। উপজেলার কোথাও বোমা মেশিন চালুু নেই। তবে উৎমা কোয়ারিতে বোমা মেশিনের অনুমতি আছে বলে লোকমুখে শুনেছি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তিনি পুলিশের চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

Developed by: