সর্বশেষ সংবাদ
রাজ-শুভশ্রী এক বাঁধনে  » «   বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করেছে : প্রধানমন্ত্রী  » «   আগাম বন্যার আশঙ্কা  » «   ঈদে আসছে ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’  » «   বজ্রপাতে একদিনে সারাদেশে ৩০ জনের মৃত্যু  » «   জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের ইন্তেকাল  » «   জাতিসংঘ মিশন : সিলেটের ২০০ স্বপ্নবাজ তরুণের নেতৃত্বে হাওরসন্তান সোহাগ  » «   বিয়ানীবাজারে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার  » «   বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন সোনম কাপুর আর আনন্দ আহুজা  » «   এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষন শুরু : একাদশে ভর্তি ১৩ মে থেকে  » «   ষাঁড়ের গুতোয় কৃষকের মৃত্যু  » «   পা-ই তার সাফল্যের চাবিকাটি  » «   গাছ ভেঙে পড়ায় সিলেটের সাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ  » «   এসএসসিতে সিলেটে পাস ৭০.৪২% : জিপিএ-৫ ৩১৯১ জন  » «   নিয়োগ চলছে কামা পরিবহন (প্রা. লি.)-এ।  » «  

জগন্নাথপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস পালিত



ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল সোমবার দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসন, রানীগঞ্জ শহীদ স্মৃতি পাঠাগার, রানীগঞ্জ কলেজ, কুশিয়ারা থিয়েটার, রানীগঞ্জ থিয়েটার, শহীদ-গাজী ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন, শোক র‌্যালি, আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ দিন ব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালিত হয় । দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে পৃথক-পৃথক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রানীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী সুন্দর আলীর সভাপতিত্বে ও আহমদ আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদির আহমদ মুক্তা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, রানীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মজলুল হক, ইউপি সদস্য মুক্তার মিয়া, আব্দুল তাহিদ জুয়েল, মমরাজ হোসেন রাজ, রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুল হালিম, সমাজ সেবক ডাঃ ছদরুল ইসলাম, মাওলানা নিজাম উদ্দিন জালালী, মাদ্রাসা শিক্ষক সামসুদ্দোহা, সালেহ আহমদ ও সাদ্দাম হোসেন মায়া।
জানাগেছে, ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী জগন্নাথপুর থেকে নৌকা যোগে রানীগঞ্জ বাজারে যায়। বাজারে গিয়ে তাদের সাথে থাকা তাদের দোসর রাজাকার আল বদরদের দিয়ে শান্তি কমিটির আহবানে বাজারে আসা প্রায় শতাধিক লোকজনদের এক স্থানে সমবেত করে। এ সময় সমবেত লোকজনদের পাক বাহিনী শান্তি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাবে রাজি না হলে পাক সেনারা ক্ষিপ্ত হয়ে সমবেত লোকজনকে পিচমোড়া করে বেধে সারিবদ্ধভাবে লাইন ধরিয়ে নির্বিচারে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যাযজ্ঞ চালায়। তখন তাদের আর্তচিৎকারে জমি ও আকাশ কেপে উঠেছিল। এ সময় ভাগ্যক্রমে মৃত ব্যক্তিদের সাথে  নদীর পানিতে পড়ে কয়েক জন বেঁচে গিয়েছিলেন। তখন ছিল জোহরের নামাজের সময়। তাদেরকে নামাজ পড়ারও সুযোগ দেয়নি পাক বাহিনী। হত্যার পর শহীদ হওয়া লোকজনদের মৃতদেহ পার্শ্ববর্তী রতœা ও কুশিয়ারা নদীর মোহনায় ফেলে দেয়া হয়। তখন তাদের তাজা রক্তে নদীর পানি লাল হয়ে গিয়েছিল। পরে পাক বাহিনী রানীগঞ্জ বাজারে আগুন ধরিয়ে দেয়। অগ্নিকাণ্ডে বাজারের প্রায় সকল দোকান পুড়ে যায়। পাক বাহিনী চলে যাওয়ার পর শহীদ হওয়া লোকজনের আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় তাদের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠে। পাক বাহিনী বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষকসহ সর্বস্তরের শতাধিক লোকজনকে হত্যা করলেও মাত্র ৪২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি হতভাগ্যদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি অনেকের লাশ। নদীর পানির স্রোতে তাদের লাশ  ভেসে গিয়েছিল। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডে ৩ জন পঙ্গুত্ব বরণ করেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন ৪ জন। তাদের মধ্যে আজ কেউ বেঁচে নেই। শুধু কালের স্বাক্ষী হয়ে পঙ্গু মজমিল আলী বেঁচে আছেন।
দেশ স্বাধীনের পর এসব শহীদদের স্বরণে স্থানীয় রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। প্রতি বছরের ১ লা সেপ্টেম্বর রানীগঞ্জ আঞ্চলিক গণহত্যা দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।

Developed by: