সর্বশেষ সংবাদ
রাজ-শুভশ্রী এক বাঁধনে  » «   বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করেছে : প্রধানমন্ত্রী  » «   আগাম বন্যার আশঙ্কা  » «   ঈদে আসছে ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’  » «   বজ্রপাতে একদিনে সারাদেশে ৩০ জনের মৃত্যু  » «   জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের ইন্তেকাল  » «   জাতিসংঘ মিশন : সিলেটের ২০০ স্বপ্নবাজ তরুণের নেতৃত্বে হাওরসন্তান সোহাগ  » «   বিয়ানীবাজারে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার  » «   বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন সোনম কাপুর আর আনন্দ আহুজা  » «   এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষন শুরু : একাদশে ভর্তি ১৩ মে থেকে  » «   ষাঁড়ের গুতোয় কৃষকের মৃত্যু  » «   পা-ই তার সাফল্যের চাবিকাটি  » «   গাছ ভেঙে পড়ায় সিলেটের সাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ  » «   এসএসসিতে সিলেটে পাস ৭০.৪২% : জিপিএ-৫ ৩১৯১ জন  » «   নিয়োগ চলছে কামা পরিবহন (প্রা. লি.)-এ।  » «  

চট্টগ্রামে গৃহশিক্ষকের হাত ধরে পালালেন প্রবাসীর পত্নী



37753_31স্বামী থাকেন বিদেশে। ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা করার তেমন কেউ নেই। তাই ভালভাবে পড়ালেখা করাতে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল আবু বক্কর (২৬)-কে। উদ্দেশ্য প্রতিদিন একবার করে বাড়িতে এসে এক সন্তানকে পড়িয়ে যাবে। মাস শেষে দেয়া হবে টাকা।
আবু বক্কর মাদরাসার ছাত্র। তাই বাড়ির সবাই তাকে পছন্দ করলেন। কিন্তু কে জানতো শেষ পর্যন্ত এই বক্করের হাত ধরেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যাবেন প্রবাসী স্বামীর পত্নী শাবলী আকতার। পরকীয়ার টানে ঘর ছেড়ে হয়ে যাবেন নিরুদ্দেশ। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ঘটে যাওয়া এমনি এক প্রেমের ঘটনা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। এই ঘটনায় থানায় দায়ের করা হয়েছে মামলা।
সূত্র জানায়, ৭ বছর আগে প্রবাসী স্বামী নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে বিয়ে হয় শাবলীর। তার গ্রামের বাড়ি সেখানকার  হোছনাবাদ ইউনিয়নের নিশচিন্তা গ্রামে। পিতার নাম আবদুল মালেক। তার স্বামী নেজামের বাড়ি পার্শ্ববর্তী লালা নগর ইউনিয়নের পূর্ব খিলমোগল নজরুল পাড়ায়।
বিয়ের কয়েক বছর পরই বিদেশে পাড়ি জমান নেজাম। এরই মধ্যে তাদের ঘরে জন্ম নেয় দু’টি সন্তান। একটি ছেলে, একটি মেয়ে। স্বামী না থাকায় শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে লালানগর এলাকায় তাদের সঙ্গে সন্তানদের নিয়ে থাকতেন এই প্রবাসীর পত্নী।
একসময় মেয়েটিকে পড়ানোর জন্য নিয়োগ দেয়া হয় ওই গ্রামের মাদরাসা পড়ুয়া উঠতি যুবক আবু বক্করকে। মেয়েটিকে পড়ানোর কৌশলে পরকীয়ায় মত্ত বক্কর ভাব জমায় শাবলীর সঙ্গে। প্রথমে দিনে এক ঘণ্টা করে পড়ালেও একসময় সে ঘন ঘন আসা-যাওয়া করতে শুরু করে ওই বাড়িতে। এভাবে একদিন দু’দিন যাওয়ার পর তার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন শাবলী। এক পর্যায়ে গড়ে তোলেন অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। তবে বিষয়টি টের পেয়ে যান প্রতিবেশীরা। তারা এই নিয়ে আপত্তি তোলেন। একই সঙ্গে মাদরাসা ছাত্র বক্করকে আর না পড়াতে নির্দেশ দেন। বিষয়টি এলাকায় সালিশ পর্যন্ত গড়ায়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় অন্য গৃহশিক্ষক রাখা হবে। ঘটনার পর শ্বশুর-শাশুড়ি আর স্বামীর কড়া নির্দেশের জালে আটকা পড়েন শাবলী। তিনি চেষ্টা করতে থাকেন তার সঙ্গে দেখা করতে। বিষয়টি টের পেয়ে বক্কর সুযোগ পায় তার সঙ্গে অবাধে মেলামেশার। চলতি মাসের ১৩ই আগস্ট সকালে শাবলীকে নিয়ে সে উধাও হয়ে যায়।  যাওয়ার সময় শাবলী নিয়ে যায় তার  দেবরের স্ত্রীর সোনার চেইন, দোকানে বন্ধক থাকা ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন, নগদ ১০ হাজার টাকাসহ আরও নানা কিছু। সঙ্গে নিয়ে যায় নিজের ছোট মেয়েকেও।
সারাদিন শাবলীকে খুঁজে পাওয়া না যাওয়ায় সন্দেহ হয় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। এই সময় তারা খবর নিয়ে জানতে পারেন  সেই প্রেমিক মাদরাসা ছাত্র বক্করও বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তাদেরকে একসঙ্গে এলাকা ছাড়তে দেখেছেন লোকজন। ঘটনার পরপরই থানায় গিয়ে মামলা করেন পালিয়ে যাওয়া শাবলী আকতারের শ্বশুর মজলিস মিয়া। এতে তিনি অভিযোগ করেন, পরপুরুষের হাত ধরে পালিয়ে গেছে তার পুত্রবধূ। নিয়ে গেছে দামি দামি জিনিসপত্র। রেখে গেছে কোলের এক শিশু সন্তান। পারিবারিক সূত্র জানায়, সুন্দরী শাবলীর শোকে তার পিতা আবদুল মালেক অনেকটা দিশাহারা। এলাকায় এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার পরিবার পড়েছেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। তবুও তিনি মেয়েকে ফিরে পাওয়ার কথা জানান। বলেন, আমি কিচ্ছু চাই না। শুধু মেয়েকে ফেরত চাই। মেয়ের এমন ঘটনার খবর শুনে শাবলীর মা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
শাবলী আকতারের শ্বশুর মজলিশ মিয়া বলেন, কোথায় গেছে আমরা জানি না। তবে তাদেরকে খুঁজছি। মাদরাসা ছাত্র বক্করকে ভাল ছেলে মনে করে বাড়িতে পড়ানোর অনুমতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সে এমন একটা কাজ করবে তা বুঝতে পারিনি।

Developed by: