সর্বশেষ সংবাদ
বিসর্জনের দিন সিলেটে আসনে ‘দেবী’  » «   বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে মেয়র আরিফ  » «   সিলেটে স্বয়ংক্রিয় কৃষি-আবহাওয়া স্টেশন স্থাপিত  » «   শীতে ত্বক সজীব রাখতে শাক-সবজি খান  » «   সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সংস্কার হচ্ছে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে  » «   কোম্পানীগঞ্জে টাস্কফোর্সের অভিযানে পেলোডার মেশিন জব্দ  » «   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনে সরকারকে নোটিশ  » «   স্যুটকেসের ভিতরে নারী মডেলের মৃতদেহ  » «   ভারতীয় অর্থায়নে বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনে সিসিক মেয়র ও ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার  » «   মেসিবিহীন আর্জেন্টিনাকে হারালো ব্রাজিল  » «   নিজ গ্রামে সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আ.লীগ নেতা মনির হোসাইনের মতবিনিময়  » «   বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ট্রফি আজ বাংলাদেশে আসছে, সিলেটে শুক্রবার  » «   সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী শিক্ষাবিদ ও আইনজীবি মনির হোসাইনের মতবিনিময় আজ  » «   জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ২৯ অক্টোবর  » «   সনাতন ধর্মালম্বীদের আজ মহাসপ্তমী  » «  

আজও চালু হয়নি ওসমানী গ্রন্থাগার ও স্মৃতি যাদুঘর



127934
ওসমানীনগর প্রতিনিধি
লতাপাতা উঁকি দিচ্ছে ভবনের জানালা দিয়ে। সর্বত্র ঝুলছে মাকড়সার জাল। ভবনের দেয়ালের রং খসে পড়ছে। সামনের ফুলের বাগানে হরেক রকমের ফুল ফুটলেও লতাপাতা ও আগাছায় ঢেকে রেখেছে ফুলের সৌন্দর্য। সীমানা প্রাচীরও ঢেকে গেছে লতাপাতায়। এভাবেই ওসমানী গ্রন্থাগার ও স্মৃতি যাদুঘরটি উদ্বোধনের পর থেকে অযত্নে আর অবহেলায় পড়ে রয়েছে।
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীরে ভবন নির্মাণ করার পর যাদুঘরটি উদ্বোধন করা হলেও আজ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের দেখার জন্য এখানে কোনো সরঞ্জামাদি রাখা হয়নি। তাছাড়া পরিচর্যা করার জন্য স্থায়ীভাবে কাউকে নিয়োগ না দেয়ায় পুরো যাদুঘরটির ভেতর আর বাইরে থেকে একেবারেই অপরিচ্ছন্ন হয়ে গেছে। অপরিচ্ছন্নতার কারনে যাদুঘরের হল রুমে কোনো সংগঠনই অনুষ্ঠান করতে আগ্রহী হন না।
ভবনটিতে বিশাল লাইব্রেরি কক্ষ, কেয়ারটেকার কক্ষ, ওয়েটিং কক্ষ, ৫টি কক্ষসহ দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক বাথরুম রয়েছে। ভবনের সুনিপুণ কারুকার্য যে কাউকে আকর্ষণ করে। তবে যাদুঘরটি এক নজর দেখার জন্য দুরদুরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসলেও তাদেরকে নিরাশ হয়ে চলে যেতে হয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত তত্ত¡াবধায়ক সরকার ক্ষমতার গ্রহণের পর ১৯৫২’র ৫ ভাষা সৈনিক ও ১৯৭১’র ৭ শহীদ বীরশ্রেষ্ঠদের স্মৃতি রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করে। পরিকল্পনামাফিক ২০০৭ সালে জুন মাস থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে মহান এই বীরদের জন্মভূমিতে স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানীর পৈতৃক নিবাস ওসমানীনগরের দয়ামীর বাজার সংলগ্ন ওসমানী গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ।
২০০৮ সালে ২২ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘর ভবনের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ৮১ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৫শত ৩৫ বর্গফুটের ১ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ ২০০৯ সালে জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ১ বছর পর অর্থাৎ ২০১০ সালের জুলাই মাসে ভবনটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। ওসমানী স্মৃতি রক্ষায় ১৯৮৪ সালে তৎকালীন এরশাদ সরকার ওসমানীর পৈতৃক নিবাস দয়ামীরে ১টি কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ডায়াবেটিক সেন্টার, মাতৃমঙ্গলসহ ৫০ শয্যার হাসপাতাল, শিক্ষা ফাউন্ডেশনসহ লাইব্রেরির সমন্বয়ে কমপ্লেক্সটি নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। আর এজন্যই স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় ১ একর ভূমি সরকারের নামে দান করে দেন। ১৯৮৪ সালের ২৬ আগস্ট তৎকালীন সরকারের উপ-আঞ্চলিক সামরিক আইন প্রশাসক (উপ-অঞ্চল-১৪) বিগ্রেডিয়ার এমজি রব্বানী কমপ্লেক্সটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ১৯৮৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ পুনরায় কমপ্লেক্সটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সে সময় প্রশাসন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১টি ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। এর পর কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিনে আর চালু হয়নি। বিগত দিনের সরকাররা কমপ্লেক্সটি চালুর ব্যাপারে অঙ্গিকার করলেও বাস্তবে কেউ এগিয়ে আসেনি। এক সময় ভবনটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। ভবনের সামনের খালি জায়গা পরিণত হয় গোচারণ ভূমিতে। এমতাবস্থায় ২০০৮ সালে জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় আনন্দিত হন বঙ্গবীর ওসমানীর স্বজন, ভক্ত ও তার অনুসারীসহ সর্বস্তরের লোকজন। অবশেষে ২ বছরে বেশি সময়ের ব্যবধানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর স্মৃতি রক্ষার্থে “ওসমানী গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর” এর  উদ্বোধন করা হয় ২০১২ সালের ২৮ নভেম্বর।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পশ্চিম প্রান্তে নির্মাণ করা হয়েছে এই ১তলা বিশিষ্ট ভবনটি। ২০১২ সালে সৌন্দর্য্যবর্ধনে ভবনের সামনে বিভিন্ন জাতের ফুলের গাছ লাগানো হয়। মহাসড়ক থেকে ভবনের সৌন্দর্য্য দেখে যে কেউ আকর্ষিত হলেও ভবনটির সামনের কোন অংশে ওসমানীর নাম চিহ্নটুকুও এখন পর্যন্ত লেখা হয়নি। ফলে বুঝার উপায় নেই যে মহান বীর, বাঙ্গালির সূর্যসন্তান ওসমানীর স্মৃতি রক্ষার্থে এখানে এই যাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে । জাদুঘর সম্পর্কে লোকজনের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও চালু না হওয়ার কারণে সেখানে কেউ যেতে চান না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসমানীর ভ্রাতৃপুত্র টিটু ওসমানী বলেন, দেরীতে হলেও ওসমানীর নিজ গ্রামে ওসমানী গ্রন্থাগার ও স্মৃতি যাদুঘরটি তৈরী করে উদ্বোধন করা হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণ দেখিয়ে এটি আর চালু করা হয়নি। সরকার আন্তরিক হলে এটা যে কোন সময় চালু করা সম্ভব।
ওসমানী গ্রন্থাগার ও স্মৃতি যাদুঘর পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু আলা জুবায়ের আহমদ শাহীন বলেন, মাঝে মধ্যে আমি ভবনের ভেতর নিজ খরচে পরিস্কার করাই। দীর্ঘদিনেও প্রতিষ্ঠানটি চালু না হওয়ায় আমরা খুবই হতাশ।

Developed by: