সর্বশেষ সংবাদ
বিসর্জনের দিন সিলেটে আসনে ‘দেবী’  » «   বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে মেয়র আরিফ  » «   সিলেটে স্বয়ংক্রিয় কৃষি-আবহাওয়া স্টেশন স্থাপিত  » «   শীতে ত্বক সজীব রাখতে শাক-সবজি খান  » «   সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সংস্কার হচ্ছে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে  » «   কোম্পানীগঞ্জে টাস্কফোর্সের অভিযানে পেলোডার মেশিন জব্দ  » «   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনে সরকারকে নোটিশ  » «   স্যুটকেসের ভিতরে নারী মডেলের মৃতদেহ  » «   ভারতীয় অর্থায়নে বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনে সিসিক মেয়র ও ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার  » «   মেসিবিহীন আর্জেন্টিনাকে হারালো ব্রাজিল  » «   নিজ গ্রামে সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আ.লীগ নেতা মনির হোসাইনের মতবিনিময়  » «   বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ট্রফি আজ বাংলাদেশে আসছে, সিলেটে শুক্রবার  » «   সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী শিক্ষাবিদ ও আইনজীবি মনির হোসাইনের মতবিনিময় আজ  » «   জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ২৯ অক্টোবর  » «   সনাতন ধর্মালম্বীদের আজ মহাসপ্তমী  » «  

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় সড়কে ১৬ মাসে ৩৪ জন নিহত



031556Kalerkantho_18-04-21-24
রনিক পাল, ওসমানীনগর
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। এসব দুর্ঘটনায় ঝরে পড়ছে তাজা প্রাণগুলো। দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অনেকেই চির দিনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করে শয্যাশায়ী হয়ে জীবন পার করছেন।  ক্রমেই সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষজন উদ্বিগ্ন রয়েছেন। মহাসড়কে ভাঙন, বিশাল আকৃতির গর্ত, অদক্ষ চালক, রাস্তা পারাপারের নিদের্শনা না মানায় দিনদিন দুর্ঘটনা বাড়ছে। গাড়ী চলাচলের গতিবেগের নির্দেশনার আইন থাকলেও মাহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে তা মানা হচ্ছেনা। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলোর সামনেও যান চলাচলের গতিবেগের নির্দেশনা নেই। তাই অনতিবিলম্বে মহাসড়ককে চার লেনে উন্নিতকরণের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি ওঠেছে।
এদিকে, মহাসড়কে ত্রুটিপূর্ণ কাগজ নিয়েও দূরপাল্লার বিলাসবহুল যানবাহনগুলো চলাচল করছে। এসব গাড়ির চালকদের অধিকাংশই লাইসেন্সধারী নয়। অনেক চালকরা আবার ছোট গাড়ীর লাইসেন্স দিয়ে বড় ও দূরপাল্লার গাড়ীগুলো চালিয়ে আসছেন বলেও জানা গেছে। দুর্ঘটনা ঘটানো দুর পাল্লার গাড়ীর অভিযুক্ত চালক ও মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও আইনের ফাঁকে তারা অনায়াসেই পার পেয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভের শেষ নেই।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে ১৬ মাসে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ মিলিয়ে ৩৪ জনের প্রাণ হানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন প্রায় আরো শতাধিক যাত্রী ও পথচারী। ২০১৭ সালের জুন-ডিসেম্বর পর্যন্ত পৃথক ১১টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ আহত প্রায় ৩০ এবং  চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পৃথক ১৪ টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১ ও প্রায় অর্ধ শতাধিক আহত হয়েছেন।
২০১৭ সালের ৮ জুন মহাসড়কের ভাঙ্গা নামক স্থানে গজিয়া প্রাইমারী স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র নয়ন মিয়া (১১) বাস চাপায় এবং ৫ জুলাই শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ও সিএনজির মুখোমখী সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হন। নিহতরা হলেন- উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের আনোয়ারপুর গ্রামের আসকন্দর আলী (৫৫), পুর্ব সিরাজনগর এলাকার মঙ্গল মিয়া (১৯), নিজ বুরুঙ্গার আলী হোসেন (৩৫) ও শব্দকর পাড়ার মিন্টু শব্দকর টেনাই (৩৮)। ৮ জুলাই ওসমানীনগর থানার অদুরে ভার্ড চক্ষু হাসপাতালের সামনে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় সকিরুন বেগম (৪৪) নামে এক পথচারী নিহত হন। তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চরাউন খুশহালপুর গ্রামের মোস্তফা মিয়ার স্ত্রী। ২০ জুলাই ভোরে মহাসড়কের গোয়ালাবাজারে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে মিরাজ মিয়া (২০) নামের কাভার্ড ভ্যানের হেলপার নিহত হন। তিনি বান্দরবন জেলার আলীকদম উপজেলার আব্বাস কারবারীপাড়া গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে।
২৫ আগস্ট সন্ধ্যায় বেগমপুর নামকস্থানে প্রাইভেটকার চাপায় সঞ্জব আলী (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। তিনি উপজেলার খছরুপুর গ্রামের মৃত আবারক আলীর পুত্র। ৪ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ গোয়ালাবাজারে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মাসুক মিয়া (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার কালাসারা গ্রামের মৃত তহির আলীর ছেলে। ২৬ সেপ্টেম্বর গোয়ালাবাজার এলাকায় যাত্রীবাহি মিনিবাসের চাপায় ময়না মিয়া ওরফে মন্তই (৬০) নামের এক পথচারি নিহত হন। তিনি উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামের মৃত ছাইম উল্যার ছেলে। ৬ অক্টোবর মহাসড়কের চিন্তামইন এলাকায় সিএনজির ধাক্কায় এক মোটর সাইকেল আরোহী নিহত হন। তিনি বিশ্বনাথ উপজেলার পুরানসিরাজ এলাকার মৃত আব্দুল মুতলিবের পুত্র হাবিবুর রহমান (৫৪)। ২২ নভেম্বর মহাসড়কের ওসমানীনগর থানার সামনে প্রাইভেটকার, সিএনজি ও মাইক্রোবাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক পথচারী নিহত ও ৫ জন আহত জন। নিহত ব্যক্তি উপজেলার ভুদরপুর গ্রামের অরুন গুণ (৫২)। ২২ ডিসেম্বর মহাসড়কের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় দুই ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে সহকারী চালক নিহত হন। তিনি পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার আরকান্দি গ্রামের ইউসুব আলীর পুত্র মাজেদুল হক (২২)। এদিকে একই দিনে কাগজপুর এলাকায় বাসের ধাক্কায় দুই মোটর সাইকেল আরোহী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কবির খান ও উপজেলা ছাত্রদল নেতা এমদাদ আহমেদ আহত হন।
২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল কাগজপুর ব্রীজের উপরে বাসের ছাদ থেকে পড়ে এক অজ্ঞাত যুবক নিহত হয়েছে। ৩ মে কুরুয়া এলাকায় বাস চাপায় মোটর সাইকেল আরোহী বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুর ইউনিয়নের ছান্দাইপাড়া গ্রামের আব্দুল কদ্দুছের ছেলে সাইদুল ইসলাম পংকি (৪১) নিহত হন। ১৩ মে মহাসড়কের দয়ামীর কোনাপাড়া নামকস্থানে একটি প্রাইভেট কার সড়কের বাঁক অতিক্রম কালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে গেলে চালক শামীম মিয়া (৩৫) নিহত হন। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার তাতিকোনা গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার পুত্র।
১৯ মে গোয়ালাবাজার ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় একটি মাইক্রো (ঢাকা মেট্রো ঠ ১১-৪৩১২) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে ধানী জমিতে পড়ে মাইক্রো চালকসহ ৩জন মারাত্মক আহত হন। ৩১ মে মহাসড়কের দত্তগ্রাম নামকস্থানে বিআরটিসি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলে দুই ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হন। তরা হলেন- উপজেলার এওলাতৈল গ্রামের আওলাদ মিয়ার ছেলে খালেদ মিয়া এবং মুহিব মিয়া। ৫জুন তাজপুর বাজার এলাকায় অজ্ঞাতনামা গাড়ির চাপায় আলতেরা বেগম (৫০) নামের এক পথচারী বৃদ্ধা নিহত হন। তিনি উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের গজিয়া গ্রামের আনহার মিয়ার স্ত্রী। ১৬জুন মহাসড়কের উপজেলার উত্তরের সীমানা অংশে অজ্ঞাতনামা গাড়ির ধাক্কায় এক যুবক নিহত হন। ১৭ জুন সাদীপুর ব্রীজের উপরে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি রিকশাকে ধাক্কা দিলে রিকশার ২ যাত্রীসহ ৪ জন আহত হন। ১৮জুন মহাসড়কটির কুরুয়া নামকস্থানে পিকআপ ভ্যানও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে রিজিয়া বেগম (২৭) নামের এক মহিলা নিহত ও অজ্ঞাত এক যুবক আহত হন। নিহত মহিলা হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার আব্দুর রহমানের কন্যা। ১১জুলাই মহাসড়কের সাদিপুর নামকস্থানে পুলিশের ধাওয়াতে দ্রুগতির একটি  ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট ২০/৫০৩৯) পেছন থেকে আসা শ্যামলী পরিবহনের বাসের সাথে ধাক্কা খেলে এতে ৫জন মারাত্মক ভাবে আহত হন।
১৬ জুলাই মহাসড়কের তাজপুর কলেজর সামনে জালালাবাদ পরিবহনের যাত্রীবাহী (চট্ট মেট্রো ব ১১-০১৫৮) বাস হঠাৎ করে উল্টে ১ মহিলা নিহত ও ১১জন  আহত হন।
২৬ জুলাই মহাসড়কের ইলাশপুর বটেরতল এলাকায় ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখী সংঘর্ষে বর যাত্রীসহ ৮জন নিহত হন। সুনামগঞ্জেরে দোয়ারাবাজার থেকে যাওয়া বর যাত্রীবাহি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১৪-০২৮৬) ও বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো ট-১১-২৪৩৩) মধ্যে মুখোমুখী সংঘর্ষে তারা নিহত হন এবং আহত হন আরো ৬ জন। ১৩ সেপ্টেম্বর মহাসড়কের তালেরতল এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনায় এক পিকআপ ভ্যান চালক নিহত হয়েছেন। নিহত চালকের নাম শাহেদ (৩০)। তিনি সিলেটের মোগলাবাজার থানার জালালপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২২ সেপ্টেম্বর মহাসড়কের গজিয়া জামে মসজিদের সামনে একটি লোকালবাস (সিলেট-জ-১১-০৬৪৪) দ্রুত গতিতে মহাসড়কের পাশে পল্লীবিদ্যুতের খুঁটা সরানোর ভ্যান ও লোকজনকে চাপাদিলে সেখানে থাকা অবস্থায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এসময় আহত হন আরো দুইজন। নিহতরা হলেন, গাইবান্ধা জেলার আগাছা থানার চন্দনপার গ্রামের সাদিক আলীর পুত্র আব্দুল হাই (৩৫) ও একই উপজেলার কতুয়া গ্রামের আসাদুর রহমানের পুত্র রাশেদ মিয়া (২০)।
৪ অক্টোবর  পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় অজ্ঞাতনামা এক নারী নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছেন। মহাসড়কের উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম ও তাজপুর কদমতলা সংলগ্ন এলাকায় দূর্ঘটনা দুটি ঘটে। কদমতলা এলাকায় অজ্ঞাতনামা গাড়ীর চাপায় অজ্ঞাতনামা এক নারী (৫০) মৃত্যু হয়। ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় হবিগঞ্জ বিরতিহীন বাস ও প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে বাসটি খাদে পড়ে যায়। এতে প্রাইভেটকার দুমড়ে মুছড়ে যায় এবং বাস ও কারে বহনকারী ৭জন যাত্রী আহত হন।
বালাগঞ্জ (তাজপুর) ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ রাজা মিয়া বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরের অংশে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। যে কোনো দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সাথে-সাথেই আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করি। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন মহড়া প্রদর্শন করে আসছি।

Developed by: