সর্বশেষ সংবাদ
খালেদার চিকিৎসা বিষয়ক রিটের শুনানি ১ অক্টোবর  » «   হবিগেঞ্জ প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি : হামলায় নারী আহত  » «   শিল্পা শেঠি বৈষম্যের শিকার!  » «   মেসি’র বিস্ময়কর কাণ্ড  » «   মাছের পেটে ৬১৪ পিস ইয়াবা!  » «   সিলেটে বসছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আসর  » «   নিজের ছবির নায়িকা রিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে মহেশ ভাটরিয়া চক্রবর্তী ঘনিষ্ঠ!  » «   এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ : ভিয়েতনামকে হারিয়ে গ্রুপসেরা বাংলাদেশের মেয়েরা  » «   বিসিবির প্রধান নির্বাচক নান্নুর বাসায় চুরি  » «   ঢাকায় সামার ওপেন ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার সুপার সিক্সটিন পর্ব : সিলেটী-সিলেটী লড়াই  » «   আটক চার ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর  » «   জগন্নাথপুরের রুহুল আমিন ইতালিতে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত  » «   জিয়াদের পরিবারকে খুঁজছে সিলেট কোতোয়ালি পুলিশ  » «   বন্য হাতির আক্রমণে কুলাউড়ার যুবদল নেতার মৃত্যু  » «   এ কী বললেন পপি!!!  » «  

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও আমাদের ‘ফেসবুকীয় গর্ব’



41487135_319425905533978_8177861312064258048_n
রেজাউল হক ডালিম
সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুকে ইদানিং অনেকের ওয়ালে ‘কানাডার সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ড. ইউনুসের জীবনী’ এই জাতীয় স্ট্যাটাস ঝুলতে দেখি। স্ট্যটাসে ড. ইউনূসের প্রতি বর্ষানো প্রশংসাবাণীর পাশাপাশি তাকে ‘অবমূল্যায়ন’ করার জন্য অনেকে এ দেশকে, এ জাতীকে তিরস্কার করেছেন, ধিক্কারও দিয়েছেন। হাপিত্তেশ করছেন ‘ক্ষণজন্ম এ রত্ন’কে না চেনার জন্য।
বিষয়টা আমাকেও নাড়া দিলো। বাক্কা (অনেক) বড় কথা। উন্নত একটি দেশের পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশি এক ‘গুণী ব্যক্তি’র জীবনী! বিষয়টা হেলা-ফেলার নয়। কানাডা ঠিকই চিনলো- আমরা চিনলাম না! তাইলে তো কানাডা আরো এগিয়ে যাবে আর আমরা পড়ে থাকবো সেই খালে দ্বারেই! গুগল মামাকে একটু ডিস্টার্ব করলাম। কিন্তু তিনি আমাকে সদুত্তর দিতে পারলেন না। বাংলা-ইংলিশ দু’ভাবেই তাকে জিজ্ঞেস করলাম। কিন্তু এরকম কোনো নিউজ লিংক আমাকে তিনি সার্ভ করলেন না। ফেসবুকে স্ট্যাটাসকারীরা অবশ্য সাথে একটা ছবি দিয়েছেন। যে ছবিতে শুধু শিরেনামটাই পড়া যাচ্ছে- ‘মুহাম্মদ ইউনূস এন্ড দ্যা গ্রামিন ব্যাংক’। শিরোনামের পাশে বড় করে ড. ইউনূসের এবং তার পাশে ছোট করে বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটি স্ক্যাচ ছবি। নিচের লেখাগুলো পড়া যাচ্ছে না। এতে কী বুঝা গেল? এই লেখাটা কি আদৌ কোনো পাঠ্যসূচির? না কোনো বিদেশি ম্যাগাজিনের? পাঠ্যসূচিতে থাকলে কোনো মিডিয়ায় নেই কেন? আর পাঠ্যসূচিতে না থাকলে এই গুজবের ‘কারিগর’ কে? আমি আপাতত: সে সব প্রশ্নের জবাব খুঁজতে চাচ্ছি না।
ড. ইউনূস সম্পর্কে ছোট বাক্যে একটি বড় প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে- তিনি কি আসলেই জাতির কোনো উপকারে লাগতে পেরেছেন? সোজা হ্যাঁ অথবা না উত্তরে না গিয়ে আসুন একটু ঘুরে দেখি তার এলাকা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বড় কীর্তি গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা। ১৯৮৩ সালে একটি সামরিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা লাভ করে। শুরুতে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ছিল ৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের ১ কোটি ৮০ লাখ এবং ঋণ গ্রহীতাদের ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। কয়েক বছর আগের হিসাব মতে- গ্রামীণ ব্যাংকের সম্পদ ও সম্পত্তির পরিমাণ হচ্ছে ১২ হাজার ৫৩৯ কোটি ৬৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। এখন এর পরিমাণ হয়তো আরো বেড়েছে। নিশ্চয়ই ড. ইউনূসের শ্রম ও মেধা এই প্রতিষ্ঠানটিকে আজকের অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছে। দরিদ্র অসহায় নারীদের ভাগ্যোন্নয়ন বা ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকের ২০ তলা একটি আলীশান ভবন হয়েছে রাজধানীর মিরপুরে, এটা কি কম বড় সাফল্য! তবে যাদের বিন্দু বিন্দু সঞ্চয়ের জামানতে গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল ফুলে-ফেঁপে উঠেছে, সত্যিকার অর্থে তাদের ভাগ্যের কতটা উন্নতি হয়েছে- বড় দাগে তার কোনো প্রমাণ আজও কেউ দিতে পারেনি। ক্ষুদ্রঋণে দরিদ্র নারীরা দারিদ্র্যমুক্ত হয়ে ক্ষমতায়িত হয়েছে, না উল্টো তারা ঋণের আঁচড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে ঘরের চালার টিন পর্যন্ত খুলে দিতে হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছে- সে খোঁজ ‌‌’ফেসবুকীয় গর্বকারীরা’ রাখেন না।
ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে দেশে দেশে যে এত হৈচৈ, অথচ গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যরা এই ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে কতটা উপকৃত হয়েছেন, তাদের অবস্থা ও অবস্থানের সত্যিকার অর্থে কী পরিবর্তন হয়েছে তার কোনো বিশ্বাসযোগ্য গবেষণা আজ পর্যন্ত হয়েছে কি? গ্রামীণ ব্যাংকের যে লাখ লাখ সুবিধাভোগীর কথা বলা হয় তাদের ঋণ সুবিধা নেওয়ার আগে-পরের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কি পাওয়া যায়? অথচ পত্রিকার পাতায় প্রায়ই দেখি- ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় অমুক গ্রামের অমুক গরিব দম্পতিকে পিটিয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মচারী-কর্মকর্তারা। আহারে আমাদের ‘গর্বে’র ড. ইউনূস ভাই…।
পশ্চিমা দুনিয়ায় ড. ইউনূসের এত কদর কেন? এমন প্রশ্নের সুন্দর একটি উত্তর দিয়েছিলেন এক সমাজবিশ্লেষক। তিনি বলেছিলেন, ‘পশ্চিমা তথা পুঁজিবাদী দুনিয়া ড. ইউনূসের কাছে কৃতজ্ঞ এ কারণে যে- তিনি এমন একটি পন্থা উদ্ভাবন করেছেন যার মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষকেও খুব সহজভাবে শোষণ করা যায়। ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে যাদের কিছুই নেই, যারা একেবারেই সহায় সম্বলহীন, তাদেরও শোষণের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। আগে এটা সম্ভব ছিল না। তাদের রিলিফ দেওয়া ছাড়া তাদের কাছ থেকে পাওয়ার কিছু ছিল না। ইউরোপ-আমেরিকার কোন অর্থনীতিবিদ-গবেষক-পন্ডিত শোষণের এ ধরনের অভিনব পদ্ধতির কথা ভাবতেই পারেননি। ড. ইউনূস গরিবকে তার অবস্থা পরিবর্তনের জন্য সহায়তার নামে অল্প সামান্য টাকা ঋণ দিয়ে তা থেকে মাত্রাতিরিক্ত সুদ নিয়ে অবিরাম শোষণের যে প্রক্রিয়া চালু করেছেন তাতে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার রক্ষকরা তাজ্জব বনে গেছেন বলেই ড. ইউনূসকে নিয়ে তাদের এত মাতামাতি। ‘
ঠিকই তো- গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের কাছ থেকে জামানত গ্রহণ, ঋণদান প্রক্রিয়া, সুদের হার ইত্যাদি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এটা এক মারাত্মক দুষ্টচক্র। এর মধ্যে একবার ঢুকলে বের হওয়া কঠিন।’
আহারে আমাদের ‘গর্বে’র ড. ইউনূস ভাই…।

Developed by: