সর্বশেষ সংবাদ
ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি : ঘোষণা উপজেলার, বাতিল জেলার  » «   ক্রীড়া সংগঠক আব্দুল কাদিরের মায়ের ইন্তেকাল  » «   রণবীর-দীপিকা বিয়ে নভেম্বরে?  » «   যাদুকর ম্যারাডোনার পায়ের অবস্থা করুণ  » «   একটু আগেবাগেই শীতের আগমণ  » «   চট্টগ্রামে আইয়ুব বাচ্চুর জানাযা বাদ আছর  » «   রাবণ পোড়ানো দর্শনকারী ভিড়ের উপর দিয়ে ছুটে গেলো ট্রেন : নিহত ৬০  » «   গোলাপঞ্জে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন উদ্বোধন করলেন শিক্ষামন্ত্রী  » «   বিসর্জনের দিন সিলেটে আসনে ‘দেবী’  » «   বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে মেয়র আরিফ  » «   সিলেটে স্বয়ংক্রিয় কৃষি-আবহাওয়া স্টেশন স্থাপিত  » «   শীতে ত্বক সজীব রাখতে শাক-সবজি খান  » «   সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সংস্কার হচ্ছে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে  » «   কোম্পানীগঞ্জে টাস্কফোর্সের অভিযানে পেলোডার মেশিন জব্দ  » «   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনে সরকারকে নোটিশ  » «  

‘ফেসবুক ট্রায়াল’র সংস্কৃতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে



facebook-trial
প্রান্ত ডেস্ক
ক্যামেরা ট্রায়াল, মিডিয়া ট্রায়াল— বহুল প্রচলিত শব্দ। প্রচলিত ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে বিচার করা। প্রমাণের আগেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত করে গণমাধ্যমে হাজির করা। এই দুটি টার্মের সঙ্গে ব্যাপক পরিসরে যুক্ত হয়েছে ফেসবুক ট্রায়াল। জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের একটি অংশ কোনো ইস্যু সামনে আসলেই তার সত্যাসত্য যাচাইয়ের ধার ধারছেন না। কাউকে না কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ঘটনার তদন্তকারী সংস্থা এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপে পড়ছে। অনেক সময় অনিচ্ছাতেই অনেককে দীর্ঘদিন আটকে রাখছে। ফলে তার পরিবার চরম বিপাকে পড়ছে, সামাজিকভাবে নানা হয়রানির শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশেও ফেসবুক ট্রায়াল মারাত্মকহারে বেড়ে গেছে। তিলকে তাল বানিয়ে ব্যক্তি বিশেষকে বিপদে ফেলার ক্ষেত্রে এই ফেসবুক বড় ভূমিকা রেখেছে বা রাখছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ফেসবুক ট্রায়ালের সংস্কৃতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। ব্যবহারকারীরা ন্যূনতম সেন্সরশিপেরও তোয়াক্কা করছেন না। একটা কিছু ঘটলেই, সেটিকে ফেসবুকে হাজির করা হচ্ছে। বিচারের দায়ভার দেয়া হচ্ছে পাবলিকের হাতে।
কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলেই, সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগের তদন্ত কিংবা আইনি প্রক্রিয়ার ধার না ধরে তাকে দোষী বানিয়ে ফেলছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। এখন পর্যন্ত ফেসুবক ট্রায়াল বিষয়ে কোনো নীতিমালা নেই বাংলাদেশে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এটিকে ব্যবহার করে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা প্রয়োগ করছে।
ফেসবুকে দোষী, তদন্তে নির্দোষ হাসনাত :
গোটা বিশ্বে বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দিয়ে গেছে গুলশানের জঙ্গি হামলা। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে অস্ত্রধারীরা অভিজাত গুলশানের স্প্যানিশ রেস্টুরেন্ট হলি আর্টিজানে হামলা করে। সেখানে থাকা লোকদের জিম্মি করে হত্যা করা হয়। এ সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ রেস্টুরেন্টে থাকা দেশি-বিদেশি ২২ নাগরিককে হত্যা করা হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টার জিম্মি সংকট শেষ হয় সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযান ‘অপারেশন থান্ডারবোল্টে’। অভিযান শেষে আক্রান্ত হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয় হাসনাত করিম, তাহমিদ হাসিব খানসহ ৩২ জনকে। জীবন নিয়ে ফিরে আসা হাসনাত করিম জানান, ১৩ বছর বয়সী সন্তান রাইয়ান করিমের জন্মদিন উদযাপন করতেই স্ত্রী শারমিন পারভীন ও কনিষ্ঠ সন্তান সাফা করিমকে নিয়ে হলি আর্টিজানে গিয়েছিলেন তিনি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হলি আর্টিজানে জিম্মিদশার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও চিত্র ভাইরাল হয়। এসব ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, আর্টিজানের ছাদে জঙ্গিদের সঙ্গে সাবলীল ভঙ্গিতে কথা বলছেন হাসনাত করিম। রহস্যজনকভাবে চলাফেরাও করতে দেখা যায় তাকে। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া এসব ছবি ও ভিডিও দেখা অনেকেই আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করান হাসনাতকে। রহস্যজনক আচরণের কারণে তাদের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এরপর ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট রাতে হাসনাত করিমকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে ৮ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। ১৩ আগস্ট গুলশান হামলার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তবে মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ গুলশান হামলায় হাসনাতের কোনো সম্পৃক্ততা পায়নি। হাসনাত নিজে এবং ঘটনার সময় জিম্মি হয়ে থাকা অন্যরা পুলিশকে জানান, জঙ্গিদের অস্ত্রের মুখে ছাদে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন হাসনাত করিম। তাই অভিযোগপত্র দাখিলের সময় মামলা থেকে তাকে অব্যাহতির আবেদন করে পুলিশ। অবশেষে দীর্ঘ দুই বছর এক মাসেরও বেশি সময় কারাভোগের পর গত ৯ আগস্ট বিকেলে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে মুক্তি পান ব্রিটেন ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক হাসনাত করিম।
জেল থেকে বেরিয়ে আসার সময় সেখানে তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তখন হাসনাত করিমের স্ত্রী শারমিনা করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা খুশি। অবশেষে হাসনাত জেল থেকে মুক্তি পেয়েছে। আমাদের বিশ্বাস ছিল সে যেহেতু নির্দোষ, সেহেতু আজ হোক, কাল হোক মুক্তি পাবেই। কিন্তু, দুটি বছর আমাদের দুঃসহ জীবন পার করতে হয়েছে। সামাজিকভাবে হেয় হতে হয়েছে।’
ফেসবুকের ছবি নিয়ে বলির পাঁঠা রসরাজ :
২০১৬ সালের ২৮ অক্টোবর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের রসরাজ দাস নামে এক যুবকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়, যা মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই যুবককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। ছবি দেখার পর ফেসবুক ব্যবহারকারীরাও রসরাজের বিপক্ষে অবস্থান নেন। ঘটনা এখানেই থামেনি। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ৩০ অক্টোবর সকাল থেকে নাসিরনগর উপজেলা সদরের কলেজ মোড় এবং খেলার মাঠে নামধারী ধর্মীয় নেতারা লোকবল জড়ো করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ তিন থেকে ৪শ’ লোক সংঘবদ্ধ হয়ে সেখানকার হিন্দু বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। গোটা ব্রাহ্মণবাড়িয়া উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন রসরাজ দাস। তিনি পেশায় একজন জেলে এবং হরিপুর মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক। সে সময় নাসিরনগরেই উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক। মন্ত্রী নিজ এলাকায় থাকাকালীন সংখ্যলঘুদের উপর হামলা হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েন। ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরিফ নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র পোস্ট দেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত রসরাজ দাসকে যে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে, পরে তা স্বীকার করেন মন্ত্রী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘রসরাজের বিরুদ্ধে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ছবি পোস্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে, এটা তো সে করেনি। সাইবার বিশেষজ্ঞরা প্রথমে ধারণা করেছিল এটা কাতার থেকে পোস্ট করা, পরে দেখা যায় ঢাকা থেকে।’
মামলা-মকদ্দমার পর তদন্তে বেরিয়ে আসে, রসরাজ সত্যিই নির্দোষ। ঘটনার ১৩ মাস পর একটি মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা এবং দুই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ মোট ২২৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান রসরাজ দাস। সে সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ফেসবুক চালাইতে জানি না। পাসওয়ার্ড কিতা, এইডাও বুঝি না। আমার একটা দামি টাচ মোবাইল আছিল। হেইডায় চাচাতো ভাই হৃদয় ফেসবুক খুইলা দিছিল। আমি মাঝেমধ্যে ঢুইকা ফেসবুকে ছবি দেখতাম। কিন্তু, আমি কোনো ছবি দেই নাই, আমার নামে মিথ্যা গুজব ছড়ানো হইছে।’
‘বৃষ্টিস্নাত চুম্বন’ ধারণ করে ফেসবুকের কাঁঠগড়ায় জীবন :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) এক প্রেমিক যুগলের চুম্বনের ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। ছবিটি তুলেছিলেন ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদ। গত ২৩ জুলাই সোমবার দুপুরে বৃষ্টিভেজা ক্যাম্পাসে ওই তরুণ-তরুণীর একান্ত মুহূর্ত ক্যামেরায় ধারণ করেন জীবন। পরে তিনি ছবিটি ‘বর্ষা মঙ্গল কাব্য, ভালোবাসা হোক উন্মুক্ত’ ক্যাপশনে নিজের ফেসবুক পেইজে পাবলিক পোস্ট হিসেবে শেয়ার করেন। ছবিটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর ফটোগ্রাফার জীবনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান ফেসবুক ব্যবহারককারীরা। তারা বাংলাদেশের সামাজিক মূল্যবোধ টেনে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করেন। ফটোগ্রাফারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি জনসমাগমস্থানে এভাবে আবেগের বহিঃপ্রকাশের বিরুদ্ধেও কথা বলেন কেউ কেউ। ওই ঘটনায় পরে জীবন আহমেদের সহকর্মীরাও তাকে পরে টিএসসিতে মারধর করেন। তাদের বক্তব্য ছিল, জীবন সাংবাদিকতা পেশাকে কলঙ্কিত করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিদ্যাপীঠকে বিতর্কিত করেছেন। শুধু মারধরই নয়, ওই ঘটনায় জীবন আহমেদকে তার কর্মক্ষেত্র থেকে চাকরিচ্যুতও করা হয়। জীবন  বলেন, সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের বাইরের ফুটপাথে বৃষ্টিস্নাত চুম্বনরত যুগলকে দেখে দৃশ্যটি হাতছাড়া করতে চাইনি। কিন্তু, সেই ছবিটির জন্য আমাকে এতো মাসুল দিতে হবে জানা ছিল না। ছবিটি আমি ব্যক্তিগত টাইমলাইনে শেয়ার করেছিলাম। আর সে কারণে ফেসবুকের অসংখ্য বিচারকের সামনে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে, হতে হয়েছে নির্যাতিত-চাকরিচ্যুত।
ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করা জরুরি :
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ফেসবুক বলেন আর মিডিয়া ট্রায়াল বলেন, এর প্রতিকার রাষ্ট্রের কাছে। যারা এসবের ক্ষেত্রে ইন্ধন দিয়েছেন, যারা সুবিধাভোগী, তাদের কি গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে? নাসিরনগরে ফেসবুক একটি ছবিকে কেন্দ্র করে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল। তার মূল ইন্ধনদাতারা কি ধরা পড়েছেন? আমি মনে করি এক্ষেত্রে সরকারকে সচেতন হতে হবে, আইনের সঠিক প্রয়োগ করতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘মিডিয়া ট্রায়ালের ক্ষেত্রেও আইসিটি আইনের প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার জন্য আইনের আরো গুরুতর লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলেই আমি মনে করি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রথমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তারপর মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পর অস্বীকৃতি জানানো হয়। এমনকি তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে অভিযুক্তদের অবস্থান সম্পর্কেও জানানো হয়নি। এটা স্পষ্টভাবে আইনের লঙ্ঘন।’
ফেসবুক ট্রায়াল ঠেকাতে করণীয় :
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মেহেদী হাসান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রায়ালের বিষয়ে আমাদের দেশে কোনো নীতিমালা নেই। তাই এসব ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ করা হয়ে থাকে। ইদানিং ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে, না জেনে না বুঝে কাউকে দোষী করা হচ্ছে, তাতে আইনের সঠিক প্রয়োগ জরুরি। এটি করা না গেলে আর সামাজিক সচেতনতা না বাড়লে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে।’ ফেসুবক ট্রায়ালের প্রতিরোধ কিভাবে করা যায় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সবার আগে আমাদের সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। ফেসবুকে কোনো একটা অভিযোগ উঠল, সঙ্গে সঙ্গে আমরা বিচারকের আসনে বসে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে ফেললাম; এটা কখনোই করা যাবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব বিষয় ছড়িয়ে অভিযুক্তকে দোষী বানানো হচ্ছে, সেটা কি আসল না বানোয়াট সেটা দেখার বিষয় আছে। আর সেটা আমরা সাধারণ মানুষ যাচাই করব না, যাচাই করবে নিরাপত্তা বাহিনী। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকেও এসব ক্ষেত্রে সচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে।’
যা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী :
পুলিশ বলছে, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ব্লগে পোস্ট, লেখা, লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে উস্কানি ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। অনেকেই গুজব না বুঝে তা শেয়ার করছেন, এতে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। তবে এসব পরিস্থিতি প্রতিহতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
খোদ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে অপপ্রচার ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং সেল গঠন করেছে পুলিশ। এই ইউনিটটির কাজ হবে প্রতিনিয়ত সাইবার পেট্রোলিং করা। তারা প্রতিটি জেলা থেকে আলাদা আলাদাভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কার্যক্রমগুলো মনিটরিং করবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে সংঘবদ্ধ কিছু গ্রুপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অপপ্রচার ছড়ায়। যার ভয়াবহতা আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি। তাই সার্বিক বিবেচনায় উপর মহল থেকে আমাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতিনিয়ত সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং করা হচ্ছে।

Developed by: