সর্বশেষ সংবাদ
এ্যাকশনে পুননির্বাচিত আরিফ  » «   ঈদের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছে বিএনপি  » «   সমকাল সম্পাদককে শেষ শ্রদ্ধা  » «   অনবদ্য তামিম ইকবাল  » «   ওরা এখনো নজরকাড়া  » «   শাবিপ্রবি’র হল বন্ধ  » «   সিলেটে ২১ আগষ্ট থেকে ৫ দিন বন্ধ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ  » «   ইকুয়েডরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত  » «   ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন হ্যাক করা অত্যন্ত সহজ!  » «   সারা’র রুপে মুগ্ধ সবাই  » «   আবারও সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু কাপ  » «   সিলেটে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি  » «   প্রতিদ্বন্দ্বি যখন যমজ বোন  » «   বিএনপি নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে : কাদের  » «   পঁচাত্তরে যেমন ছিল বাংলাদেশ  » «  

ধোঁকাবাজি করে ভারত থেকে চলচ্চিত্র আনার অভিযোগ



dd0cfb471b2e2f6cb28e057a0e4d0350-5b619213b9008
প্রান্ত বিনোদন
২০১৬ সালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি ‘আয়নাবাজি’।  সে ‘আয়নাবাজি’র নাম করে ভারত থেকে নতুন চলচ্চিত্র আনার অভিযোগ উঠেছে। বিনিময় চুক্তির অধীনে আমদানি করা চলচ্চিত্র দুটি নিয়ে এ অভিযোগ। ভারতের কলকাতার ‘ফিদা’ ও ‘পিয়া রে’ ছবি দুটি আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশের ‘আয়নাবাজি’ ও ‘চোখের দেখা’ ছবিগুলো রপ্তানির কথা বলছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। অথচ রপ্তানি করা ছবি দুটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ব্যাপারটি জানেন না।
জানা গেছে, গত রোববার ২ ঘণ্টা ২৭ মিনিট দৈর্ঘ্যর ‘ফিদা’ এবং গতকাল সোমবার ২ ঘণ্টা ২১ মিনিট দৈর্ঘ্যের ‘পিয়া রে’ ছবি দুটি চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা দেখেছেন। দুটি ছবিরই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, তাদের কাছে থাকা কাগজপত্রে আছে, ‘ফিদা’ ও ‘পিয়া রে’ ছবি দুটি আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশের ‘আয়নাবাজি’ ও ‘চোখের দেখা’ ছবি দুটি রপ্তানি করছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।
ছাড়পত্র পাওয়া দুটি ছবিই বাংলাদেশে মুক্তির জন্য পরিবেশনার দায়িত্ব নিয়েছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। তারা ছবি মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ব্যাপারে জাজ মাল্টিমিডিয়ার স্বত্বাধিকারী আবদুল আজিজ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ৩ ও ১০ আগস্ট ছবি দুটি বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হবে।
‘ফিদা’ ও ‘পিয়া রে’ ছবি দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের আরাধনা এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী কার্তিক দে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিনিময় চুক্তির আওতায় এ দুটি ছবি বাংলাদেশে আনা হয়েছে। বিনিময়ে ভারতে গেছে “আয়নাবাজি” ও “চোখের দেখা”।’ অথচ ‘আয়নাবাজি’ ছবির অন্যতম প্রযোজক গাউসুল আলম শাওন বললেন, ‘কারও সঙ্গে আমাদের কোনো চুক্তি হয়নি। এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে আরাধনা এন্টারপ্রাইজ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কথা হয়নি।’ ‘চোখের দেখা’র পরিচালক পি এ কাজল মারা গেছেন গত বছর। ছবির নায়ক সাইমন সাদিক বলেন, ‘ছবিটি বিনিময় চুক্তির অধীনে ভারত যাচ্ছে, এমন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। এ ব্যাপারে কিছুই জানি না।’
বাংলাদেশে ছবিগুলো পরিবেশনার দায়িত্ব নিয়েছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। তারা ছবি মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাজ মাল্টিমিডিয়ার স্বত্বাধিকারী আবদুল আজিজ বলেন, ‘আমরা শুধু পরিবেশনার দায়িত্ব পালন করছি। “ফিদা” ও “পিয়া রে”র বিনিময়ে কলকাতায় এ দেশের কোন ছবি চলবে, তা আমাদের জানা নেই।’  বুধবার আবারও যোগাযোগ করা হয় কার্তিক দের সঙ্গে। তিনি দাবি করেন, প্রযোজকদের সঙ্গে তাঁর চুক্তি হয়েছে। চুক্তির কাগজ দেখতে চাইলে কার্তিক দে বলেন, ‘আজ পারব না। পরে দেখাব।’
সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশে নির্মিত চলচ্চিত্র রপ্তানির বিপরীতে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি-সাফটাভুক্ত দেশগুলো থেকে সমানসংখ্যক চলচ্চিত্র তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সাপেক্ষে আমদানি করা যাবে। একইভাবে বাংলাদেশের একটি চলচ্চিত্র ভারতে রপ্তানি ও প্রদর্শনের বিপরীতে ভারতের একটি ছবি আমদানি করে এখানে দেখানো যাবে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে বলে দিতে হবে কোন ছবিগুলো আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘এটা নতুন কিছু নয়। সব সময় ভারত থেকে একেবারেই নতুন ছবি এ দেশে আসে। বিনিময়ে এখান থেকে যে ছবিগুলো যায়, সেসব অনেক পুরোনো। মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাই নিয়মে তোয়াক্কা করে না। তারা চায় ঢালাওভাবে ছবি আমদানি হোক।’
উল্লেখ্য, ‘আয়নাবাজি’ মুক্তি পেয়েছিল ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। ‘চোখের দেখা’ মুক্তি পায় একই বছর ১৪ অক্টোবরে। অন্যদিকে, কলকাতার ছবি ‘ফিদা’ মুক্তি পেয়েছে এ বছর ১৩ জুলাই আর ‘পিয়া রে’ ১০ আগস্ট ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে একসঙ্গে মুক্তি পাবে।
চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি কমিটির প্রধান তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবুয়াল হোসেন আজ দুপুরে জানান, কয়েক মাস আগে এ দুটি ছবির আমদানি বিষয়ে কথা হয়। তাই তাঁর মনে নেই ছবি দুটি কোন চলচ্চিত্রের অধীনে ‘ফিদা’ ও ‘পিয়া রে’ আনা হয়েছে। তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি কমিটির অন্যতম সদস্য মুশফিকুর রহমান গুলজার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমদানি-রপ্তানির চুক্তি কিংবা এ ধরনের কাগজ দেখার দায়িত্ব মূলত মন্ত্রণালয়েরই। অনুরোধ করা সত্ত্বেও আমাদের সঙ্গে এ বিষয়গুলো শেয়ার করা হয় না, আমরা জানতেও পারি না। কাজেই ছবি দেখে আমরা শুধু বিবেচনা করি, ছবিগুলো বাংলাদেশে দেখানোর অবস্থায় আছে কি না। এখানে নিয়ম মানা কিংবা না মানার বিষয়গুলো দেখার সুযোগ আমাদের নেই।’

Developed by: