সর্বশেষ সংবাদ
ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি : ঘোষণা উপজেলার, বাতিল জেলার  » «   ক্রীড়া সংগঠক আব্দুল কাদিরের মায়ের ইন্তেকাল  » «   রণবীর-দীপিকা বিয়ে নভেম্বরে?  » «   যাদুকর ম্যারাডোনার পায়ের অবস্থা করুণ  » «   একটু আগেবাগেই শীতের আগমণ  » «   চট্টগ্রামে আইয়ুব বাচ্চুর জানাযা বাদ আছর  » «   রাবণ পোড়ানো দর্শনকারী ভিড়ের উপর দিয়ে ছুটে গেলো ট্রেন : নিহত ৬০  » «   গোলাপঞ্জে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন উদ্বোধন করলেন শিক্ষামন্ত্রী  » «   বিসর্জনের দিন সিলেটে আসনে ‘দেবী’  » «   বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে মেয়র আরিফ  » «   সিলেটে স্বয়ংক্রিয় কৃষি-আবহাওয়া স্টেশন স্থাপিত  » «   শীতে ত্বক সজীব রাখতে শাক-সবজি খান  » «   সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সংস্কার হচ্ছে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে  » «   কোম্পানীগঞ্জে টাস্কফোর্সের অভিযানে পেলোডার মেশিন জব্দ  » «   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনে সরকারকে নোটিশ  » «  

মন্তব্য প্রতিবেদন : প্রসঙ্গ- সদ্য সমাপ্ত সিলেট সিটি নির্বাচন> কাউকে কিছু বলে বুঝাতে হয় না



6666666666666666666666666666666
রেজাউল হক ডালিম
এই সময়ে, একবিংশ শতাব্দিতে, ২০১৮ সালে মানুষকে সবকিছু বলে বুঝানোর প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। এখন সবাই সবকিছুই বুঝে। কেউ বুঝে তাৎক্ষণিক। কেউ বুঝে সামান্য সময় নিয়ে। তবে বুঝেই। আর কার বক্তব্যে-মন্তব্যে কী পরিমাণ গাঁজা কিংবা আফিমের সহবাস তাও মানুষ অনায়াসে বুঝে ফেলে। তাই কথা বলার আগে অন্তত: একবার মনে হয় চিন্তা করা উচিৎ- আমি যা বলছি তা মানুষের কাছে কতোটা বিরক্তিকর বিনোদনের।
সিসিক নির্বাচন। কতো জল্পনা-কল্পনা, আলোচনা-সমালোচনা, কিস্তিমাত-খিস্তিমাত, গালি-গুলি, উত্তেজনা-প্রতারণা, সরল অংক-গরল অংকের প্রান্তর পেরিয়ে অবশেষে গত সোমবার অনুষ্ঠিত হলো। ৩০ তারিখের আগেও দেখেছি ফেসবুকে ঊঁচু স্তরের-নিচু স্তরের ব্যক্তিবর্গের নানা ধরনের বক্তব্য। ফেসবুকে মুক্তভাবে একজন তার অভিমত প্রকাশ করতেই পারেন। অপরজন তার প্রতিউত্তরে কিছু একটা মন্তব্যও করতে পারেন। কিন্তু যারা একটু আপার লেভেলের। মানে সমাজে গণ্যি-মান্যি (গণ্যমান্য)। মানে যাদের কথাবার্তা ধর্তব্যের দাবি রাখে। তাদের অনেকের কথায় যখন দেখি যৌক্তিকতা, শিক্ষণীয়তা কিংবা মাধুর্যতার লেশমাত্র নেই, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার হীন নিমিত্তে তাদের কথার মধ্যে যখন দেখি কেবলই প্রতিহিংসা লেপ্টে আছে, তখন একটা শ্রেণি তা থেকে খুঁজে নেন হাস্যরস-বিনোদন, আর আমরা হই চরম হতাশ। হই ব্যাপক মন:ক্ষুণ্ণ।
সদ্য সমাপ্ত সিলেট সিটি নির্বাচনে আরিফুল হক চৌধুরী (প্রায়) বিজয় লাভ করেছেন। নির্বাচনের দিন কতো রকমের নাটক যে সিলেটে মঞ্চস্থ হয়েছে তা সিলেটবাসী বেশ ভালো করেই দেখেছেন গণমাধ্যমগুলোর বদৌলতে। এ দিনের ‘সাদা’ জিনিসটা ‘সাদা’ হয়েই এবং ‘কালো’ জিনিসটা ‘কালো’ হয়েই জনগণের কাছে ভেসে উঠেছে। সেখানে আপনি-আমি হেন আর তেন বললেই কী- আর না বললেই কী!!!
গত দু’দিন থেকে ফেসবুকে দেখছি বিভিন্ন দলের দলীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিক ব্যক্তিবর্গসহ অনেকেই বিভিন্ন ধরনের বিচার-বিশ্লেষণমূলক পোস্ট দিয়েছেন। অনেকে কামরান সাহেবের পরাজয়ের কারণগুলো সংখ্যাভিত্তিক বিশ্লেষণ করেছেন। কেউ কেউ আবার জামায়াতের এতো কম ভোট পাওয়ার বিষয়টা উল্টে-পাল্টে তুলে ধরেছেন। কিন্তু আসলে ফায়দাটা কী? কথাতো সেই আগেরটাই। ‘সাদা’ জিনিসটা ‘সাদা’ হিসেবে এবং ‘কালো’ জিনিসটা ‘কালো’ হিসেবেই সচেতন সিলেটবাসী বুঝতে পেরেছেন।
অবশ্য আপনি অন্ত:সারশূন্য কিছু কথা বলতেই পারেন। আপনাকে কেউ মানা করবে না। তবে এতে একটা লাভ হবে। আপনার ‘অবকাঠামোটা’ মানুষের কাছে ফুটে উঠবেই উঠবে।
আর যাদের কথাবার্তা পাত্তা দেয়ার মতো না, তাদের কথা বাদই দিলাম। তারা বলছেন ‘তাদের মতো’ করেই।
সংক্ষেপে বলি। ‘কামরান সাহেবের ভরাডুবি হয়েছে তাদের দলীয় কোন্দল, নেতাকর্মীদের সমন্বয়হীনতা আর সেলফিবাজির কারণে’- কথাগুলো বোগাস, হাস্যকর। সিলেটে ৩০ তারিখ বিএনপির আরিফ জয়লাভ করেন নি। করেছেন জনগণের আরিফ। আরিফের মতো কামরানকে নগরবাসীর কাছে ‘আস্তাভাজন কামরান’ তৈরি করে দিন। ভবিষ্যতে সিলেটবাসী কামরানকেই ‘বিজয়’ উপহার দিবেন- নিশ্চিত। আপনারা এখন বলছেন- এ নির্বাচন মানি না। অথচ দিনে কামরান সাহেব ক্যামেরার সামনে বললেন- ফলাফল যাই হোক আমরা মেনে নিবো। কেন এসব করেন? এসব করাই কি আপনাদের সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে?
এবার আসি জামায়াতের বিষয়ে। এদের আসলে এইবার অন্তত বুঝা উচিৎ যে- এরা না আসছে দ্বিনের কাজে, না আসছে দুনিয়ার কাজে। জাতি এদের থেকে কিছুই পেলো না আজ পর্যন্ত। এদেরকে আসলে এখনই একটা নির্দিষ্ট পথ ধরা দরকার। ইসলামের লেভেলে আসলে দুনিয়াখুরি চলে না। বিভিন্ন প্লাটফর্মে বিভিন্নভাবে বেইজ্জতই হতে হয়। জামায়াতিরা বলছেন- তাদের ভোট নাকি পুরোপুরি গণনাই করা হয়নি। আসলে মানুষের মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে গেলে কখন কি বলে তাতো আর নিজে বুঝতে পারে না। তবে অন্যরা ঠিকই বুঝে। ভাইরে- এটাই আপনাদের ঝুড়ির মাল। বলছেন- দেড় লাখ ভোট গেলো কই? সোজা বিষয়টাকে এতো প্যাঁচাচ্ছেন কেনরে ভাই? ভোটের দিন সকাল ১১টা থেকেই বিভিন্ন সেন্টারে গন্ডগোল শুরু হয়ে গেলো। এমনিতেই নির্বাচনের প্রতি মানুষের ব্যাপক অনীহা। তার উপর গন্ডগোল। মানুষতো ভোট কেন্দ্রেই আসেন নি। যদি জাল ভোটের ছড়াছড়ি না হতো তবে এই অবস্থায় ভোট সর্বসাকুল্যে লাখ খানেকের কাছাকাছিই থাকতো। এর বেশি হতো না। হ্যা যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হতো তবে হয়তো ৩ লাখের মতো ভোট কাস্ট হতো। তো ৩ লাখ ভোট কাস্ট হলে কী হতো? আপনারা ১ লাখ পেয়ে যেতেন? পাবলিককে আর হাসির খোরাক দিয়েন না প্লিজ। এমনিতেই হাসতে হাসতে জাতির পেটব্যথা। বড়জোর ২০ হাজার ভোট পেতেন। তাতেই মেয়রের চেয়ার পেয়ে যেতেন তাই না? সারা সিলেট বিভাগের নেতাকর্মীদের নগরীতে নিয়ে এসে কয়দিন যে প্রতিক্রিয়াহীন শোডাউন দিলেন তাতো সে সময়ই মানুষ দেখতে আর বুঝতে পেরেছিলো।
তাই শুরুর কথা দিয়েই শেষ করছি। এই সময়ে, একবিংশ শতাব্দিতে, ২০১৮ সালে মানুষকে সবকিছু বলে বুঝানোর প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না…।

-নিউজ ইনচার্জ

Developed by: