সর্বশেষ সংবাদ
ঈদের ছবি নিয়ে হিসাব-নিকাশ এখনো মিলছে না  » «   ১১ প্রশ্নে ৮২ ভুল!  » «   মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল : আরেকটা হাতছানি  » «   ২ সেপ্টেম্বর শাবিতে ভর্তির আবেদন শুরু  » «   এ্যাকশনে পুননির্বাচিত আরিফ  » «   ঈদের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছে বিএনপি  » «   সমকাল সম্পাদককে শেষ শ্রদ্ধা  » «   অনবদ্য তামিম ইকবাল  » «   ওরা এখনো নজরকাড়া  » «   শাবিপ্রবি’র হল বন্ধ  » «   সিলেটে ২১ আগষ্ট থেকে ৫ দিন বন্ধ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ  » «   ইকুয়েডরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত  » «   ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন হ্যাক করা অত্যন্ত সহজ!  » «   সারা’র রুপে মুগ্ধ সবাই  » «   আবারও সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু কাপ  » «  

বন্যার আশঙ্কায় বিরামহীন ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকরা



56605
প্রান্ত ডেস্ক :
শুধু কালবৈশাখি নয়, বন্যার আশংকাও করা হচ্ছে এ মাসে। আবহাওয়াসূত্র এমনটাই জানিয়েছে। তাই কাচাপাকা ধান যত দ্রুত ঘরে তুলে নিতে ব্যস্ত হয়েছেন কৃষক। বিশেষ করে গত বন্যায় সর্বস্ব হারানো হাওরের কৃষকরা এবার আর ফসল হারাতে রাজি নন। সদর উপজেলা মোগলগাও ইউনিয়নের ঝিলকির হাওরে গিয়ে রবিবার দেখা যায়, ধান কাটার ধুম পড়েছে। গত বছরের আগাম বন্যায় বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় এবার আগেই ঘরে ফসল তুলতে চাইছেন হাওরের কৃষকরা। তাই তারা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
ফসলহানির ভয়ে বাংলা বর্ষবরণের আনন্দও আর আগের মতো নেই। তারা সবকিছু ভুলে এখন ধান কাটায় ব্যস্ত। উপজেলার মোগলগাও ইউনিয়নের ঝিলকির এলাকার কৃষকরা জানান, এখন আকাশের পানে চেয়ে থাকি কখন কালো মেঘ ভাসে। ভয় হয় কখন ঝড় আসে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি ও শিলা পড়লে তো আর ফসলের রক্ষা নাই। তাই যেভাবেই হোক ধান কেটে গোলায় ভরতে হবে। আর তাই ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছি।
কৃষকরা আরও জানান, এবার বোরো ধানের ফসল ভালো হয়েছে। আর তাই শ্রমিক নিয়ে ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। গত বছরের ফসলহানিতে এবার ধান চাষ করতে গিয়ে ঋণের বোঝা বেড়েছে। বোরো ধানের এই ফসলই এবার তার ভরসা। আগে বোরো ফসল ঘরে তুলতে হবে। পরে সারা বছরের খাওয়ার ধান রেখে বাকি ধান বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এ চিন্তা নিয়ে ফসলের মাঠে-ময়দানে আছি। ফসল তলিয়ে যাবার ভয়েই এবারের বৈশাখের আনন্দ মাটি হয়ে গেছে।
হাওরের ধান কাটা শুরু হয়েছে। হাওরের জমিতে সোনালী ধানের এ মহাসমারোহ যেনো কৃষকের মুখে সোনালী হাসির ঝিলিক নিয়ে এসেছে। মহা-আনন্দে তাই কৃষকরাও। ধান কেটে মাথায় করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন কৃষক। কৃষক সানুর মিয়া বলেন, বাকি ধান কেটে ঘরে তুলতে চিস্তায় আছি। ঝড়-তুফান হলে উপায় নাই, ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। আর তাই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফসলের মাঠে কাজ করছি। এবার নববর্ষ ও পহেলা বৈশাখের আনন্দ নেই।
আলতাব মিয়া বলেন,আগের মতো ধান বিক্রি করে পরিবারের ছেলে-মেয়েদের জন্য জামা কাপড় কিনতে পারবো না। এবারের পহেলা বৈশাখ তাই নিরানন্দে কাটবে। গেলো সপ্তাহে বৃষ্টির সঙ্গে শিলা হওয়ায় কিছু এলাকায় বোরো ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আর তাই এলাকার কৃষকরাও আগে ভাগে ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত। তিনি আরও বলেন, আগে পহেলা বৈশাখ এলে কৃষক আনন্দে কাটাতো। ধান বিক্রি করে বৈশাখী মেলায় যেতো। কয়েক বছর ধরে বোরো ফসল মার খাওয়ায় কৃষকের মনে আনন্দ নেই। আস্তে আস্তে হাওর অঞ্চলের পহেলা বৈশাখ সাদামাটা হয়ে গেছে, এমনটাই আক্ষেপ করে বলেন তিনি।

Developed by: