সর্বশেষ সংবাদ
ঈদের ছবি নিয়ে হিসাব-নিকাশ এখনো মিলছে না  » «   ১১ প্রশ্নে ৮২ ভুল!  » «   মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল : আরেকটা হাতছানি  » «   ২ সেপ্টেম্বর শাবিতে ভর্তির আবেদন শুরু  » «   এ্যাকশনে পুননির্বাচিত আরিফ  » «   ঈদের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছে বিএনপি  » «   সমকাল সম্পাদককে শেষ শ্রদ্ধা  » «   অনবদ্য তামিম ইকবাল  » «   ওরা এখনো নজরকাড়া  » «   শাবিপ্রবি’র হল বন্ধ  » «   সিলেটে ২১ আগষ্ট থেকে ৫ দিন বন্ধ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ  » «   ইকুয়েডরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত  » «   ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন হ্যাক করা অত্যন্ত সহজ!  » «   সারা’র রুপে মুগ্ধ সবাই  » «   আবারও সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু কাপ  » «  

সামাজিক অবক্ষয়ের ভয়াবহ আকার : উত্তরণ প্রয়োজন



editorial
সামাজিক অবক্ষয় দিনে দিনে চরম আকার ধারণ করছে। হেন কোনো অপরাধ নেই, যা সমাজে সংঘটিত হচ্ছে না। স্বামী স্ত্রীকে, মা-বাবা নিজ সন্ত্মানকে, ভাই ভাইকে অবলীলায় হত্যা করছে। প্রেমের কারণে অর্থ-সম্পত্তির লোভে সমাজে এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অন্যদিকে, হতাশা নিঃসঙ্গতা বঞ্চনা অবিশ্বাস আর অপ্রাপ্তিতে সমাজে আত্মহননের ঘটনাও বেড়ে গেছে। বেড়ে গেছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। মাদকের অর্থ যোগাড় করতে না পেরে ছেলে খুন করছে বাবা-মাকে, স্বামী খুন করছে স্ত্রীকে কিংবা পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে। অন্যের সম্পত্তি আত্মসাৎ করার জন্য কিংবা কাউকে ফাঁসিয়ে দেবার নিমিত্তে নিজের সন্ত্মানকে হত্যা পর্যন্ত্ম করছে। পারিবারিক বন্ধন স্নেহ ভালোবাসা মায়া-মমতা আত্মার টান সবই যেন আজ স্বার্থ আর লোভের কাছে তুচ্ছ। এর পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে দেশের কোমলমতি শিশুরা। দিনের পর দিন এই নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা বেড়েই চলছে। এটা নিঃসন্দেহে আতঙ্কজনক ঘটনা।
এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পরকীয়া প্রেমের জেরে সন্ত্মানকে শেফালী আক্তার নামে এক মা ও তার প্রেমিক পুড়িয়ে মেরেছে। শেফালীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মোমেনের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া চলছে। বিষয়টি নিয়ে তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় সন্ত্মানদের হত্যার পরিকল্পনা করে শেফালী ও তার প্রেমিক মোমেন। শুক্রবার দিনগত রাতে শেফালী তার প্রেমিক মোমেনকে নিয়ে ঘুমন্ত্ম অবস্থায় তার দুই সন্ত্মান হৃদয় ও শিহাবকে কাঁথায় পেঁচিয়ে ম্যাচের আগুন ধরিয়ে দেন। আশপাশের লোকজন সন্ত্মানদের চিৎকারে বেরিয়ে আসে। কিন্তু অগ্নিদগ্ধ হৃদয় (৯) এর মধ্যে মারা যায়। আশপাশের লোকজন আরেক সন্ত্মান অগ্নিদগ্ধ শিহাবকে (৭) উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্ত্মর করেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। পুলিশ শেফালীকে গ্রেপ্তার করেছে।
আমাদের প্রশ্ন, একজন মা কী করে এমন নিষ্ঠুর বর্বর ঘটনা ঘটাতে পারে। এটা সামাজিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত্ম নজির। সমাজে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। আসলে আমরা আজ যে সমাজে বাস করছি- সে সমাজ আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না, এমনকি, যে রাষ্ট্রে বাস করছি- সে রাষ্ট্রও নিরাপত্তাদানে অপারগ। আমরা নানারকম সামাজিক এবং রাষ্ট্রিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেও বারবার ব্যর্থ হচ্ছি। পা পিছলে ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে গড়িয়ে পড়ে যাচ্ছি। আকাশ সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমাজ ও পরিবারে। বিদেশি সিনেমা ও নাটকে অনৈতিক সম্পর্ক, বেপরোয়া জীবনাচার এবং শিশু হত্যার ঘটনা দেখানো হচ্ছে হরহামেশা। অথচ এ ধরনের সংস্কৃতি দেশের সামাজিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে পারিবারিক অশান্ত্মি ব্যাপক হারে বাড়ছে, যার শিকার হচ্ছে শিশুরা। শিশুর ওপর নৃশংসতা বন্ধ করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অপরাধীকে দৃষ্টান্ত্মমূলক শাস্ত্মির ব্যবস্থা করতে হবে।
শিশু নির্যাতন ও হত্যার বর্তমান চিত্র একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য কিছুতেই স্বস্ত্মির হতে পারে না। শিশু হত্যার সার্বিক কারণ অনুসন্ধান করে রাষ্ট্রকেই তা প্রতিরোধে উদ্যোগ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, আজকের শিশুরাই আগামী দিনে দেশের কর্ণধার, ভবিষ্যৎ কান্ডারি। তাদের নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত করা না যায় এবং রাষ্ট্র যদি তাদের মেধা বিকাশে ও নিরাপত্তা দানে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয় তবে তা কেবল দুর্ভাগ্যজনকই নয়, দেশের ভবিষ্যতের জন্যও হুমকিস্বরূপ। তাই এ ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপই প্রত্যাশিত।

Developed by: