সর্বশেষ সংবাদ
ইলিয়াছ আলীর গাড়ি চালক আনসার আলীর মা-মেয়ে আজও অপেক্ষায়  » «   কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংবাদ সম্মেলন : সাত দিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না করলে ক্লাস বর্জন  » «   ‘করের আওতায় আনা হবে সিএনজি অটোরিকশা মালিকদের’  » «   দীর্ঘ ২৫টি বছর পর…  » «   অবশেষে আরব আমিরাতে খুলেছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার  » «   বালাগঞ্জে ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনা সেতু’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন  » «   দক্ষিণ সুরমায় জোড়া খুনের মামলায় ৪৯ জন কারাগারে : ২ জনের জামিন  » «   প্রেমের টান বড় জোরদার : যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফরিদপুর  » «   অর্ধ মানুষরূপী এটা কি?  » «   ফের আলোচনায় ডিআইজি মিজান : সংবাদ পাঠিকাকে ৬৪ টুকরো করার হুমকি  » «   গোলাপগঞ্জে হামলার শিকার তরুণের মৃত্যু  » «   সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি বারবারা বুশ নেই  » «   ৪০ গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের টিকেট!  » «   প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে পৌঁছেছেন  » «   চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক আজ  » «  

২ দফা ঘুর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত সিলেট : ৪ জন নিহত : বেশিরভাগ এলাকা বিদ্যুৎবিহীন



jhor-300x218
স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দুই দফা প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পৃথক স্থানে মৃত্যু ঘটেছে মোট ৪ জনের। এছাড়াও গত দুই দিন (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) সিলেট নগরীসহ বেশিরভাগ এলাকা ঘুর্ণিঝড়ে লন্ডপ- হয়ে যাওয়ায় ছিলো বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন।
জানা গেছে, সিলেটের কাজিরবাজার সেতুতে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘুর্ণিঝড়ের কারণে দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়া যুবলীগ নেতা মোসাদ্দেক হোসেন মুসা মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল শনিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)।
গত বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মোসাদ্দেক হোসেন মুসা মোটরসাইকেলে করে দক্ষিণ সুরমা থেকে রিকাবীবাজারে আসার পথে কাজিরবাজার সেতুতে দূর্ঘটনার শিকার হন। তখন সিলেটে প্রবল ঝড় বইছিল। মোটরসাইকেলে কাজিরবাজার সেতু পার হওয়ার সময় হঠাৎ করে একটি চটপটির গাড়ি উড়ে এসে তার উপরে পরে। এতে তিনি মোটরসাইকেলসহ ছিটকে পরে যান।
এসময় তিনি গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং কান দিয়ে রক্ত বেরিয়ে যায়। পরে ওসমানী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া শেষে রাতেই তাকে নগরীর ওয়েসিস হাসপাতালে লাইফসাপোর্টে নেওয়া হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় শুক্রবার সকালে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
এদিকে ওসমানীনগর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ওসমানীনগরে ঝড়ের সময় সাদিয়া বেগম (৪২) নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার বোয়ালজুরের সোনাপুর গ্রামের খালিছ মিয়ার স্ত্রী। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা। বৈশাখের আগে হঠাৎ করে বয়ে যাওয়া শক্তিশালী ঝড়ে মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। আবহাওয়া অফিস বলছে, গত শুক্রবার ৭৮ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া এই ঝড় পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসে।
এদিকে, জগন্নাথপুর উপজেলায় গত দুই দিনের ঝড়-তুফানে কাঁচা-ঘরবাড়ী, গাছপালাসহ টিনের প্রায় ২০টি স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া, দক্ষিণ সুরমায় ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তান্ডবে অনেক কাঁচা ঘরগুলোর চালা উড়ে গেছে, বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ। অপরদিকে, ছাতকে ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে দু’শতাধিক ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় প্রায় দু’শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকে আকাশ ছিলো রোদেলা। বিকেলে পুরো আকাশ ডেকে যায় অন্ধকারে। মুহূর্তে বৈরী আবহাওয়া বিকেলকে বানিয়ে দেয় সন্ধ্যা। তারপর কিছু সময়ের জন্য বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় এলোমেলো করে দেয় অনেক কিছু। হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ে অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি ও দোকানপাটের ক্ষতি হয়।
নগরীর মাছুদিঘীর পাড় এলাকার জাফর খান জানান, ঝড়ের সময় বেশ কয়েকটি সুপারি গাছ ভেঙে পড়ে। হেলে পড়ে যায় অনেক প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড। ঝড়ের পর রাত পর্যন্ত বেশিরভাগ এলাকা ছিল বিদ্যুৎহীন। বাতাসের বেগে বিভিন্ন স্থানের অস্থায়ী কয়েকটি বিলবোর্ডও ভেঙে পড়ে যায়। নগরীর মুন্সিপাড়া এলাকার বাসিন্দা জিয়া উদ্দিন জুয়েল জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কয়েকটি নারিকেল গাছ ভেঙে পড়ে যায়। গতকাল কুমারপাড়া এলাকায় তার এক নিকট আত্মীয়ের বাসার উঠোনে অন্যবাড়ির চাল উড়ে এসে পড়ে। এদিকে বিকেলের ঝড়ের পর শহরের অনেক এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে রাত পর্যন্ত অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ছিলো না। শহরের মতো বিভিন্ন উপজেলাতেও প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টির কারণে বাসাবাড়ি এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেক কৃষি জমির নতুন ধান মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। এতে কৃষকদের মুখে হতাশার রেখা ফুটে উঠে। পরপর কয়েকবার অকাল বন্যায় স্বপ্নের ফসল হারিয়ে এবার ঘরে নতুন ধান তোলার আশায় বুক বেঁধে আছেন কৃষকরা। এই অবস্থায় হঠাৎ করে বয়ে যাওয়া ঝড় কৃষক পরিবারের জন্য ছিলো অশনি সংকেত।
অপরদিকে ঝড়ে গাছের থোকায় থোকায় থাকা আমের মুকুল ঝরে পড়ায় চাষীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এছাড়া রবি ফসল, পেঁপে, লিচু ও কলাসহ বিভিন্ন প্রকার গাছ ভেঙ্গে পড়েছে। সিলেটের ওসমানীনগর থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয় গোটা ওসমানীনগর উপজেলায়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত গাছ উপড়ে পড়ে। ঝড়ের তান্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়। এ সময় উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের দশহাল গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে নূরুল আলমের নির্মাণাধীন ঘরের টিন উড়ে গিয়ে গলা কেটে সাদিয়া বেগম (৪২) নামের এক মহিলা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহত সাদিয়া বেগম বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুরের সোনাপুর গ্রামের খালিছ মিয়ার স্ত্রী বলে জানিয়েছেন ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা।
এদিকে ঝড়ের সময় বজ্রপাতে উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের মুক্তারপুর হাওরের তেতইখালিতে পূর্বতিলা পাড়ার ইউছুফ আলীর ৪টি গরু মারা যায়। সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, মার্চ এপ্রিল ও মে মাসে এ ধরনের ঝড় হয়ে থাকে।
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) থেকে সংবাদদাতা জানান, গত দুই দিনের ঝড়-তুফানে কাঁচা-ঘরবাড়ী, গাছপালাসহ টিনের প্রায় ২০টি স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ওপর দিয়ে প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টি বয়ে যায়। এতে করে পৌরসভাসহ উপজেলার আটটি ইউনিয়নের গাছপালা, ঘরের চালের টিন উড়ে যায়। এদিকে বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে তুফান বয়ে যায় উপজেলার ওপর দিয়ে। দুইদিনের ঝড় তুফানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছিলো বিদ্যুৎবিহীন। স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিস জানিয়েছে, ঝড়ে বিদ্যুতের লাইনে ক্রটি দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে কাজ চলছে।
দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি জানান,দক্ষিণ সুরমায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তান্ডবে অনেক কাঁচা ঘরগুলোর চালা উড়ে গেছে, বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ।
গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪ টার দিকে কালবৈশাখী ঝড় নামে। ঝড়ের তান্ডবে কাঁচা ঘরগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উড়ে গেছে ঘরের টিনের চালা। ঝড় আসার আগেই চলে যায় বিদ্যুৎ। হঠাৎ করে এ ঝড়ের তান্ডবে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঝড় দেখে মানুষ এদিক-সেদিক ছুটাছুটি করতে থাকেন। বাড়ীর বাইরে থাকা মানুষজন বিভিন্ন বাজারের দোকানকোঠায় আশ্রয় নেন। সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের মোগলাবাজারে একটি বড় আকারের গাছ রাস্তার উপর উপড়ে পড়ে। রাস্তার পাশে থাকা দু’টি টেম্পুর উপর ঐ গাছ পড়লে ভেঙে যায় টেম্পু দু’টি। গাছটি রাস্তার উপর পড়ে থাকায় উভয় দিক থেকে বন্ধ হয়ে যায় যানচলাচল। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হলে দমকল বাহিনী এসে রাস্তার উপর থেকে গাছের আংশিক অংশ কেটে সরিয়ে নেন। প্রায় ৩ ঘণ্টা পর যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। তাছাড়া কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে হাট-বাজার ও বিভিন্ন বাড়ীতে গাছপালা ভেঙে পড়েছে। এদিকে বিকেল ৩ টা থেকে বিদ্যুৎহীন রয়েছে পুরো উপজেলা। গোটাটিকরস্থ সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সদর দপ্তরের কাছে প্রধান লাইনের ৩৩ হাজার ভোল্টেজ এর তার ছিঁড়ে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে কাজ চলছে।
ছাতক উপজেলা প্রতিনিধি জানান, ছাতকে ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে দু’শতাধিক ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে চারটায় শিলাবৃষ্টিসহ ঝড়ের তান্ডবে উপজেলার সবকটি গ্রামের ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এতে বিভিন্ন স্থানে কাচা ও আধাপাকা ঘরের চাল উড়ে গেছে, আবার কোথাও ভেঙে পড়েছে পুরো ঘর।
এছাড়া, ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পুরো উপজেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, উপজেলার কালারুকা, ছাতক সদর, নোয়ারাই, ইসলামপুর, চরমহল্লা, ভাতগাঁও, খুরমা উত্তর, খুরমা দক্ষিণ, জাউয়া বাজার, সিংচাপইড়, গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও, ছৈলা আফজালাবাদ, দোলারবাজার ইউনিয়ন সহ প্রায় সবকটি গ্রামে ঝড়-তুফানে প্রায় দু’শতাধিক ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড হয়েছে।
এব্যাপারে সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সচিব পীর মোহাম্মদ আলী মিলন জানান, ঝড়ের তান্ডবে বেশ কয়েক স্থানে তারের উপর গাছের ডালপালা পড়েছে। শীঘ্রই এগুলো সরিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করা হবে।
ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাছির উল্লাহ খান জানান, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।
লামাকাজির কাছে রাস্তায় ব্যারিকেড : সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের লামাকাজি ব্রিজের পূর্ব পাশে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এলাকাবাসী বিদ্যুতের দাবীতে রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়। বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় অগ্নি সংযোগ করে বিদ্যুতের দাবি জানিয়ে শ্লোগান দিতে থাকে। এ সময় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এসে অনুরোধ জানালেও তারা ব্যারিকেড প্রত্যাহর করেননি। স্থানীয় লোকজন জানায়, প্রায় আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তারা ব্যারিকেড দিয়ে রাখে। এ সময় ঘটনাস্থলের উভয় পাশে বিপুল সংখ্যক যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জালালাবাদে একজনের মৃত্যু
সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের হাটখোলায় গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় ঝড়ের কবলে পড়ে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। সোহেল আহমদ নামের ওই ব্যবসায়ী স্থানীয় পুরান কালারুকা গ্রামের বাসিন্দা।
গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় পুরানকালারুকা জামিউল উলুম মাদরাসায় মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানায়- শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝড় শুরু হলে সোহেল বাড়ির ছাদের ২য় তলায় মুরগের ফার্মে উঠেন। এ সময় একটি বাঁশ তার মাথায় আঘাত হানে। পরে বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়।
সিলেট সদর উপজেলার ২০টি গ্রাম অন্ধকারে
সিলেটে ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে  শুরু হওয়া ঝড়ের সাথে ছিলো প্রচন্ড বৃষ্টি। প্রবল বেগে  ঘূর্ণিঝড়ে  অনেক বিভিন্ন গ্রামে বসত ঘরের চাল উড়ে যায়। বাসাবাড়ি ও রাস্তাঘাটের উপর গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে।
সিলেট সদর উপজেলার জুনেদ নামক একজন জানান, ঘূর্ণিঝড়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে টিনের তৈরী অনেক ঘরের চাল উড়ে যায়।
শহরতলী এয়ারপোর্ট থানাধীন সাহেবের বাজারের এলাকার প্রায় ২০টি গ্রাম বৃহস্পতিবার থেকে এখন  পর্যন্ত অন্ধকারে নিমজ্জিত।
জানা গেছে, খাদিমনগর ইউনিয়নের পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাধীন সিলেট সদর উপজেলার ফতেগড়, সাহেবের বাজার, কোনাটিলা, গোড়ামারা, রামপুর, দেওয়াইরবহর, ছালিমহল, পাঠানগাও, কান্দিরপথ, ছান্দাই, চানপুর, মোটরঘাট, ফড়িংগড়া, ছড়ারপাড়, টিল্লাপাড়া, বড়বন, কান্দিপাড়া, হানাপাড়া, আলীনগরসহ আরো অনেক গ্রামের প্রায় ১০-১২ হাজারের মত বিদ্যুৎ গ্রাহকরা এখন পর্যন্ত অন্ধকারে রয়েছেন। এতে করে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বিদ্যুৎ না থাকায়  চরম ভুগান্তির মধ্যে রয়েছেন এইচএসি পরীক্ষার্থীরা।
এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়িতে দেখা দিয়েছে খাবার পানির তীব্র সংকট, এ নিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার লোকজন কবে লাগাত বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে সঠিক কোন তথ্য দিতে পারছেন না পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ বিভাগের সংশ্লিষ্টতরা।
এ বিষয়ে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তুফানে অনেক স্থানে খুঁটি ও লাইন ছিঁড়ে পড়ে যায়। তবে ঝড় থামার পরপরই কাজ শুরু হয়েছে। কবে  বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে তা বলা যাচ্ছনা।

Developed by: