সর্বশেষ সংবাদ
ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি : ঘোষণা উপজেলার, বাতিল জেলার  » «   ক্রীড়া সংগঠক আব্দুল কাদিরের মায়ের ইন্তেকাল  » «   রণবীর-দীপিকা বিয়ে নভেম্বরে?  » «   যাদুকর ম্যারাডোনার পায়ের অবস্থা করুণ  » «   একটু আগেবাগেই শীতের আগমণ  » «   চট্টগ্রামে আইয়ুব বাচ্চুর জানাযা বাদ আছর  » «   রাবণ পোড়ানো দর্শনকারী ভিড়ের উপর দিয়ে ছুটে গেলো ট্রেন : নিহত ৬০  » «   গোলাপঞ্জে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন উদ্বোধন করলেন শিক্ষামন্ত্রী  » «   বিসর্জনের দিন সিলেটে আসনে ‘দেবী’  » «   বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে মেয়র আরিফ  » «   সিলেটে স্বয়ংক্রিয় কৃষি-আবহাওয়া স্টেশন স্থাপিত  » «   শীতে ত্বক সজীব রাখতে শাক-সবজি খান  » «   সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সংস্কার হচ্ছে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে  » «   কোম্পানীগঞ্জে টাস্কফোর্সের অভিযানে পেলোডার মেশিন জব্দ  » «   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনে সরকারকে নোটিশ  » «  

জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে খালেদার সাজা



afsan motantor copy
আফসান চৌধুরী :
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সাজা বাড়াতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে এরই মধ্যে রুলও জারি করেছেন হাইকোর্ট। খালেদার কারাদণ্ড প্রদানের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূচনা হয়েছে, যেখানে এরইমধ্যে বৈরিতা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার মেরিট নিয়ে মাথা ব্যাথা শুধু আইনজীবীদের। কিন্তু এর প্রভাব পড়ছে সবার ওপর। খালেদার ৫ বছর কারাদ-ের কারণে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারাবেন কি না, সেই সুরাহা পরে হবে উচ্চ আদালতে। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগের বাকি সময়টা আরও দীর্ঘ হয়ে উঠবে।
দেশের খুব কম মানুষই বিশ্বাস করে যে, খালেদা জিয়ার এই মামলা দুর্নীতিতে জড়িত রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। কারণ এদের অনেকেই আরামে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের সংস্কৃতির মূলে এই বিশ্বাস রয়েছে, অধিকাংশ রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়, সেগুলো সত্যি নয়। কারাদ- কারো রাজনৈতিক ভাবমূর্তির ক্ষতি করে না। তাই, এর ক্ষতি ততটা নয়, যতটা ভাবা হচ্ছে। তাহলে খালেদা জিয়ার পেছনে লাগার বিষয়টিও অনিশ্চিত। তবে খালেদাকে কারাগারে থাকলে বিএনপি ভেঙে যাবে, এমনটা খুব ভালো করেই চাইবে আওয়ামী লীগ।
খালেদা জিয়ার জামিন না পেলে বিএনপির একটা অংশ আলাদা হয়ে নতুন বিএনপি গড়ার সম্ভাবনা আছে। সেটা বাস্তবায়ন হলে বিএনপির বিচ্ছিন্ন অংশটিই মূল বিএনপি হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে পারে। আর খালেদাসহ মূলধারার বিএনপিকে রাজনীতির বাইরে ঠেলে দেবে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য সেটা হতে পারে।
বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই ভোটের রাজনীতির অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর নয়। তাই বিরোধী দলের নেতা কারাগারে থাকার পরেও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়ার ব্যাপারে খুব একটা আশাবাদী হওয়া যায় না। সেই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কি না তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে খালেদার এই সাজার মধ্যে দিয়ে। তবে রাজনৈতিক বিরোধী দলের চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে আদালতের যেকোনো মামলা যে রাজনৈতিক, সেটা বলা যায়।
দীর্ঘ দিন ধরে সরকারে থাকা দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, দেশের পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে। দলটির একাধিক নেতা এবং সরকার প্রধানও তেমনটি বলে আসছেন। আর বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যেকোনো পরিস্থিতি তারা নির্বাচনে অংশ নেবে। কিন্তু কথা হলো যদি উভয়েই তারা আগ্রহী হয়, তাহলে এই দ্বন্দ্বটা হচ্ছে কেন?
তাত্ত্বিকভাবে হয়তো অবাধ রাজনৈতিক পরিবেশকে স্বাগত জানাবে আওয়ামী লীগ। কিন্তু বাস্তবে বিএনপি নির্বাচন বয়কট করলেই তারা খুশি। অবশ্যই, সেটা হঠাৎ করেই হয়ে যাবে না। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হবে বিএনপির জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি কঠিন করে তোলা, যাতে বিএনপি স্বাভাবিকভাবে এই বয়কটের সিদ্ধান্তের দিকে যায়। কেউ কেউ মনে করছেন, খালেদা জিয়ার কারাদ- সেই পথেরই একটি অংশ।
২০১৪ সালে নির্বাচন থেকে সরে আসাটা বিএনপির জন্য ছিল অনেকটা আত্মহত্যার মতো। এ কারণে বিএনপি মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের ভুগতে হচ্ছে। গত চার বছর ওই সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হচ্ছে বিএনপিকে। এখন অস্তিত্বের খাতিরেই নির্বাচনের দিকে মনোযোগী হয়েছে, কারণ যদি পরপর দুইবার নির্বাচনে তারা অংশ না নেয়, তাহলে দলের নিবন্ধনই বাতিল হয়ে যাবে।
এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি যখন নির্বাচনের কথা বলছে, তখন তারা গুরুত্বের সঙ্গেই সেটা বলছে। তাই সব দিক বিবেচনা করে দলটির নেতারা আর নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে হয় না। ওই বছর তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠ তরুণ নেতারা নির্বাচন থেকে সরে আসার পক্ষে ছিলেন। তাদের হয়তো এমন ধারণা ছিল, এর মাধ্যমে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান করবে। কিন্তু সেই ইচ্ছা তাদের মেটেনি।
বিএনপি চেয়ারপারসনকে দুর্বল করতে এই কারাদ- যথেষ্ট কি না, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। সবাই ধারণা করেছিল, রায় ঘোষণার পর বিএনপি সহিংসতার দিতে যেতে পারে। কিন্তু দলটির নেতাকর্মীরা সেই পথে হাঁটেননি। এতে বিএনপির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ দলীয় ক্যাডাররা সমাবেশ ও নিষেধাজ্ঞা সত্বেও মোটরসাইকেল মিছিল করেছে, যেটা তাদের ভাবমূর্তির জন্য ইতিবাচক হবে না।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যদি প্রধান দুই রাজনৈতিক দল সংঘাতের দিকে আগাতে থাকে তাহলে মানসম্পন্ন নির্বাচনের সম্ভাবনা খুবই কম। যদি একটা সহিংস পথ পাড়ি দিয়ে নির্বাচনে যেতে হয়, তাহলে এর ফলাফল কি হবে তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে বাংলাদেশের রাজনীতি সেই দুর্বল জায়গাতেই রয়ে যাবে, যেখানে এতদিন ছিল।
আফসান চৌধুরী : সাংবাদিক ও গবেষক

Developed by: