সর্বশেষ সংবাদ
নিজের ছবির নায়িকা রিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে মহেশ ভাটরিয়া চক্রবর্তী ঘনিষ্ঠ!  » «   এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ : ভিয়েতনামকে হারিয়ে গ্রুপসেরা বাংলাদেশের মেয়েরা  » «   বিসিবির প্রধান নির্বাচক নান্নুর বাসায় চুরি  » «   ঢাকায় সামার ওপেন ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার সুপার সিক্সটিন পর্ব : সিলেটী-সিলেটী লড়াই  » «   আটক চার ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর  » «   জগন্নাথপুরের রুহুল আমিন ইতালিতে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত  » «   জিয়াদের পরিবারকে খুঁজছে সিলেট কোতোয়ালি পুলিশ  » «   বন্য হাতির আক্রমণে কুলাউড়ার যুবদল নেতার মৃত্যু  » «   এ কী বললেন পপি!!!  » «   ওয়াকারের সর্বকালের সেরা একাদশে যারা  » «   যে পাঁচ উপায়ে ঠিকঠাক থাকবে আপনার কম্পিউটার  » «   শ্রীমঙ্গলে সড়কে গাছ ফেলে গণডাকাতি, হামলায় আহত ৩০ : ২০টি গাড়িতে লুটপাট  » «   দেড় লাখ ইভিএম মেশিন কেনার প্রকল্প অনুমোদন  » «   ‘মাসুদ রানা’র ‘সোহানা’ শারলিন  » «   মৌলভীবাজারে ‘সনাফ’র হরতালের ডাক : প্রতিহত করবে আ.লীগ  » «  

হেরেও ‘হিরো’ টাইগাররা



8787
বিশেষ প্রতিনিধি
বারবার ফাইনালে গিয়ে হারতে কার ভালো লাগে? কারো না। ‘পরাজয়’ ব্যাপারটিই তো কেমন! আর বিশ্ব ক্রিকেটে যখন একটি শক্তি ওঠার পথে এভাবে বারবার শেষটায় গিয়ে কান্নার সাগরে ডোবে তখন সেই দৃশ্যটাও বড় বেশি বেদনাবিধুর লাগে। যেমন লাগলো রোববার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে, নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে। ভারতের কাছে টানটান উত্তেজনার রোমাঞ্চকর ও শাসরুদ্ধকর ম্যাচটা শেষ বলের ছক্কায় টাইগাররা হেরে গেলে। বিয়োগান্ত নয়, এতো গৌরবময় এক শেষের উপাখ্যান যেখানে অন্তিম নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ার তীব্র মানসিক শক্তির প্রবল প্রকাশ। আর সেই ফাইনাল ম্যাচের সাথে যখন টুর্নামেন্টের আরো দু’টি ফোকলোরে তুলে রাখার মতো ম্যাচও থাকে তখন এমন টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন তো বলতে হয় বাংলাদেশের ক্রিকেটকেই!
মুশফিকুর রহীম-মাহমুদউল্লাহ-মোস্তাফিজুর রহমানরা বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে ছোটেন বিশ্বমাঝে। দেশের মাটিতে যতোটা সাফল্য বিদেশের মাটিতে ততোটা নয়। টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে তো নয়ই। কিন্তু ওয়ানডে আর টেস্টের পর এবার শ্রীলঙ্কার আসরটিতে কি বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টিতেও আগামীর শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এলো না? মূলে যে প্রাপ্তি আত্মবিশ্বাস। এই খেলাটাও খুব পারে টাইগাররা। যে ক্রিকেটে ছিল তাদের চরম দুর্বলতা সেটিতেই বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের টি-টুয়েন্টি দেখল ক্রিকেট দুনিয়া।
এই ব্র্যান্ডের কথা তামিম ইকবাল প্রথমে বললেন মুশফিকের কীর্তির পর। তবে তার আগে একটা কথা না বললেই চলছে না। লঙ্কার মাটিতে টাইগাররা পা রেখেছিল কোণঠাসা এক দল হিসেবে। দলে অভিজ্ঞতার অভাব। নিয়মিত অধিনায়ক নেই। তার আগে হারের বৃত্তে শুধুই ঘোরাফেরা। ক্লান্তিকর পথ মোটে শেষ হয় না। সেখানেই শ্রীলঙ্কার ৭০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে যে আয়োজন তার পরতে পরতে সব উত্তেজনা আর রোমাঞ্চে তো খোদাই হয়ে থাকলো বাংলাদেশেরই নাম। শেষ কবে এমন শাসরুদ্ধকর টুর্নামেন্টের দেখা মিলেছে? টুর্নামেন্টের ৭ ম্যাচের ৩টিকেই একরকম কালজয়ী করে রেখে এল টাইগাররা। বারবার যে গল্প ফিরে আসতে বাধ্য মুখে মুখে। কখনো না ফুরোনো উপকথার মতো।
শ্রীলঙ্কাকে প্রথম দেখায় হারানোর পরই সেই বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের কথা আসে। ২১৪ রান করেছিল লঙ্কানরা। বাংলাদেশ ওই দিনের আগ পর্যন্ত টি-টুয়েন্টিতে ২০০ রানের ঘরও ছুঁয়ে দেখেনি। কিন্তু সেই ম্যাচে মুশফিক কি কাণ্ডটাই না করলেন। ৩৫ বলে অপরাজিত ৭২ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলেছিলেন। তারপর তো নাজমুল ইসলাম অপুর আবিষ্কৃত নাগিন নাচে বিজয় উদযাপন করে ওই নাচটাকে দিয়েছেন বিশ্ব পরিচিতি। ফাইনাল চলার সময় যে নাচের মুদ্রা কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কারও দেখিয়েছেন কমেন্টি বক্সে। কতো সংক্রামক! বাংলাদেশ সেদিন টি-টুয়েন্টি ইতিহাসেরই চতুর্থ সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডও গড়েছিল।
বাংলাদেশের ওই জয় আসলে টুর্নামেন্টের মাঝে জমিয়ে দিয়েছিল নিদাহাস ট্রফিকে। যে কোনো দুই দলই যেতে পারতো ফাইনালে। এর পর শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশকে হারিয়ে ভারত সবার আগে ফাইনালে। কিন্তু লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার খেলার জন্য বরাদ্দ থাকে প্রচণ্ড উত্তেজনা। ওখানে খানিকটা কেলেঙ্কারিও থাকল। কিন্তু ক্রিকেটই তো জিতলো। শেষ ৪ বলে ১২ রান দরকার। তার আগেই আম্পায়ার নো বল দেন না বলে মাঠের বাইরে চলে যায় উত্তেজনা। দলকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন সাকিব আল হাসান। ওদিকে মাঠে ঢুকে ঝগড়ায় জড়ান রিজার্ভের নুরুল হাসান সোহান। উত্তেজনা থামে। মাহমুদউল্লাহ স্ট্যান্স নেন। ৪+২। শেষ ২ বলে ৬ লাগে। ২০তম ওভারের পঞ্চম বলটিতে ছক্কা হাঁকিয়ে মাঠটাকেই সাপের বাগান করে দেন মাহমুদউল্লাহ! কি রোমাঞ্চকর সমাপ্তি! বাঘ নামে পরিচিত বাংলাদেশ দল তখন মাঠে কিলবিল করে ফনা উঁচিয়ে, সাপের রূপে। সেই ছোবলে বিষে নীল শ্রীলঙ্কার ঘরের মাঠের টুর্নামেন্ট শেষ ফাইনালে উঠতে না পেরে, কিং কোবরাদের কারণে।
তাহলে? ভারতের মিডিয়া, সাবেক খেলোয়াড়, বিশেষজ্ঞরা নগ্নভাবে এরপর বাংলাদেশকে আক্রমণ করেছেন। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের, চেতনা ও মানসিকতা নিয়ে হামলা করেছেন। মাঠের বাইরের মনস্তাত্বিক যুদ্ধ নামের নোংরা খেলা খেলতে চেয়েছেন। কিন্তু টাইগাররা জবাব দিতে চেয়েছে মাঠে। লড়াইয়ের ময়দানে।
তা আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে যে ১৬৬ উঠলো স্কোরবোর্ডে তা দিয়ে ম্যাচ জেতা যাবে না মনে হচ্ছিল। কিন্তু প্রেমাদাসাকে তো শেষে বাংলাদেশের সাথে মিলে ভারতও নাটকের মঞ্চ বানিয়ে ফেলল! যেখানে অসাধারণ ফেরার গল্প লিখে টাইগাররা থাকে এগিয়ে। শেষটায় হয়তো হয় না, কিন্তু এইটুকু ম্যাচের শেষ ৩ ওভারের বলে বলে ম্যাচটাকে যেভাবে বাঁক খাইয়েছেন মোস্তাফিজ-সৌম্যরা, সেটা তো অনেক দুর্বল দর্শকের শ্বাসযন্ত্রেও টান ধরিয়ে ছেড়েছে!
কি হয়নি! ১৮তম ওভারে এলেন ফিজ। যেন সেই পুরোনো ফিজ। জাদুকর। ১৮ বলে জিততে ৩৫ রান দরকার ভারতের। ৪ উইকেটে ১৩২ তখন তাদের। কঠিন পরিস্থিতি আরো কঠিন করে দেন বিস্ময় বাঁহাতি পেসার টানা চার ডট বলে। এরপর একটি রান। লেগ বাই। এবং শেষ বলে উইকেট! উইকেট মেইডেন! অবিশ্বাস্য বোলিং। মনের মধ্যে বাঁধিয়ে রাখার মতো একটি ওভার। আসেন দিনেশ কার্তিক।
১২ বলে ৩৪, কঠিন সমিকরণ ভারতের জন্য। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে রুবেল হোসেনের ১৯তম ওভারটিকে বাংলাদেশের জন্য নারকীয় বানিয়ে ফেলেন কার্তিক। ৬+৪+৬+০২+৪। সব কার্তিকের বীরত্ব। ২২ রান! শেষ ওভারে ১২ রান, এ আর এমন কি! কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে ম্যাচ আবার রঙ বদলায়। ঘুরে তাকায় বাংলাদেশের দিকে। সৌম্য সরকারের ওভারের শুরু ওয়াইডে। বৈধ চার বলে ৬ রান। শেষ দুই বলে ভারতের লাগে ৫। কিন্তু পঞ্চম বলে বিজয় শঙ্কর বল তুলে আউট! বাংলাদেশ উত্তেজিত। ততক্ষণে স্ট্রাইকে গেছেন কার্তিক। শেষ বলে ৪ হলে সুপার ওভার, ৬ হলে ভারতের শিরোপা। তখনো খুব জিততে পারে বাংলাদেশ। কিন্তু কার্তিক শেষ বলে ছক্কা মেরে টুর্নামেন্টটার শেষ করলেন অবিস্মরণীয়। মাত্র ৮ বলে ২৯ বলের হার নামা এপিক ইনিংসে ভারতকে দিলেন শিরোপা। বাংলাদেশকে দিলেন বুক ভাঙার শব্দসমেত প্রচণ্ড কষ্ট উপহার।
কিন্তু একটু ভাবুন শেষবার। নিদাহাস ট্রফির বাঁকে বাঁকে কি বাংলাদেশেরই নাম লেখা নয়? এবারের এই টুর্নামেন্টটি তো বাংলাদেশের জন্যই পেল রুদ্ধশ্বাস সব ম্যাচের দেখা, স্মরণীয় সব খেলা। হারলো বটে তবে এমন সব কীর্তির জন্য কলম্বোতে শেষ পর্যন্ত সত্যিকারে চ্যাম্পিয়ন কি তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটই নয়! কারণ, ওখানে যে জিতল ক্রিকেটই।

Developed by: