সর্বশেষ সংবাদ
রাজ-শুভশ্রী এক বাঁধনে  » «   বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করেছে : প্রধানমন্ত্রী  » «   আগাম বন্যার আশঙ্কা  » «   ঈদে আসছে ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’  » «   বজ্রপাতে একদিনে সারাদেশে ৩০ জনের মৃত্যু  » «   জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের ইন্তেকাল  » «   জাতিসংঘ মিশন : সিলেটের ২০০ স্বপ্নবাজ তরুণের নেতৃত্বে হাওরসন্তান সোহাগ  » «   বিয়ানীবাজারে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার  » «   বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন সোনম কাপুর আর আনন্দ আহুজা  » «   এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষন শুরু : একাদশে ভর্তি ১৩ মে থেকে  » «   ষাঁড়ের গুতোয় কৃষকের মৃত্যু  » «   পা-ই তার সাফল্যের চাবিকাটি  » «   গাছ ভেঙে পড়ায় সিলেটের সাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ  » «   এসএসসিতে সিলেটে পাস ৭০.৪২% : জিপিএ-৫ ৩১৯১ জন  » «   নিয়োগ চলছে কামা পরিবহন (প্রা. লি.)-এ।  » «  

অর্থনীতির পরিবর্তন ঘটাতে হলে সকল ক্ষেত্রের অপচয় রোধ জরুরী



বাংলাদেশের মানুষ স্বপ্ন দেখে। সচ্ছল জীবনের স্বপ্ন, দারিদ্র্যজয়ের স্বপ্ন। কিন্তু তার সামনে রয়েছে বাধা, জ্বালানী শক্তি ও তাপশক্তির অভাব, এতে তার উদ্যম অন্ধকারে ঢাকা পড়ে যায়।
সৃষ্টির আদিকাল থেকেই তাপশক্তির মাঝে মানুষ সন্ধান পেয়েছে তার এগিয়ে চলার পাথেয়। তাপশক্তিকে করায়ত্ত করার কৌশলের দ্বারাই আগুনের সৃষ্টি। আর, সভ্যতার চালিকাশক্তি হল আগুন। মানব সভ্যতাকে প্রাগৈতিহাসিককালের স্থবিরতা থেকে বের করে এনে আজকের এই মহাকাশ-বিজয়ী সভ্যতায় উত্তীর্ণ করার পেছনে রয়েছে আগুনেরই বহুমুখী ব্যবহার পদ্ধতির আবিষ্কার। আগুনের আবিষ্কার হল শক্তিরই আবিষ্কার। নানান রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এই শক্তি থেকেই আমরা পাই সব ধরনের উন্নয়নের জন্যে অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। বহু প্রার্থিত বিদ্যুৎশক্তি। এছাড়াও আরও অন্য জ্বালানী শক্তিও আমাদের আছে। যেমন : গ্যাস ও কয়লা, সূর্য থেকে আহরণ করা সৌরবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য সাধারণ দাহ্য উপকরণাদি। এক সময় আমাদের পরিবেশ সম্পর্কে অসচেতনতার যুগে আমরা বন-জঙ্গল উচ্ছেদ করে গাছকে জ্বালানী হিসেবে এবং গৃহস্থালীসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করে পরিবেশ দূষণ ও ওজোনস্তর ধ্বংসজনিত বিপদ ডেকে এনেছি। এই দুর্যোগ সম্পর্কে আমাদের প্রচার মাধ্যম অব্যাহতভাবে তথ্য দিয়ে, চিত্রের মাধ্যমে পরিবেশ, পরিস্থিতির বাস্তবতা মানুষকে প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধির সুযোগ করে দিয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াস পেয়েছে। ফলে, দেশের সব মানুষের কাছে আজ এই সত্যটি অনেকটাই পৌছে গেছে যে, দেশ ও জাতির স্বার্থে, আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রয়োজনে এবং দেশের শিল্প কারখানার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির মাধ্যমে শিল্পায়ন সম্ভব করে তুলতে হলে আমাদের বিদ্যুৎ শক্তি ও অন্যান্য জ্বালীন উপকরণাদির ব্যবহার সাশ্রয় করার দিকে সতর্ক দৃষ্টি দিতে হবে। রোধ করতে হবে এসবের অপচয়। করতে হবে সর্বোত্তম ব্যবহারের উপায়।
প্রকৃতপক্ষে বিদ্যুৎ গ্যাস, কয়লা ইত্যাদি হল একটি দেশ ও তার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ করে দেবার অত্যাবশ্যকীয় মূল চাবিকাঠি। দেশের গণ্যমাধ্যমগুলো এই বার্তা দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে পারে বিভিন্নভাবে। প্রিন্ট মিডিয়াও নানা ধরনের আকর্ষণীয় প্রতিবেদনের মাধ্যমে সাধারণের মাঝে এ সম্পর্কে সচেতনতার বীজ বুনতে পারে। দেশের ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াগুলোও পারে গণসচেতনতামূলক সাধারণ কর্মকা-গুলোর পাশাপাশি নাটকের মাধ্যমে এবং আর্কষণীয় প্রতিবেদন কিংবা বিজ্ঞাপন-চিত্রের মাধ্যমে এবং প্রবার চিত্রের নিয়মিত প্রদর্শনীর মাধ্যমে জ্বালানী ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে তুলতে।
বিশ্বের সকল দেশেরই আজকের উপলব্ধি হলো গ্যাস, তেল, কয়লা অফুরন্ত নয়। এইসব খনিজ প্রাকৃতিক সম্পদ মাটির নিচ থেকে আহরণ করেই আমরা তাকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করি। বিদ্যুৎ উৎপাদন করি। মাটির নীচের এই সম্পদ যে কোনো সময় শেষ হয়ে যেতে পারে।
তাই, এসবের অপচয় রোধ করে এই সর্বোত্তম ব্যবহার যাতে জনগণ করতে সচেষ্ট থাকে এ বিষয়ে সচেতন করার দায়িত্ব আমাদের গণমাধ্যমগুলোকে পালন করতে হবে। আজ বিশ্বের দেশে দেশে সচেতনতার অংশ হিসেবে বিকল্প জ্বালানীর অনুসন্ধান চলছে। জ্বালানী হিসেবে আমাদের দেশে কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে বায়োগ্যাসের ব্যবহার। জ্বালানী-সাশ্রয়ী চুলারও প্রচলন শুরু হয়েছে এদেশের কোনো কোনো এলাকায়। চেষ্টা চলছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার করারও। সূর্যের আলোতে বিরাজমান শক্তিকে রূপান্তরিত করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় বায়ু প্রবাহের গতিকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আয়োজনও চলছে। গণমাধ্যমেরই সুযোগ রয়েছে জ্বালানী-সাশ্রয় ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ করার লক্ষ্যে উপরোল্লিখিত বিকল্প জ্বালানী সমূহের সংবাদ ও ব্যবহার প্রক্রিয়াদি জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার। গতানুগতিকভাবে নয়, জ্বালানী ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হলে গণমাধ্যমগুলোকে নিতে হবে পরিকল্পিত পদক্ষেপ। দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিবর্তন ঘটাতে হলে সকল ক্ষেত্রের অপচয় রোধ জরুরী।

Developed by: