সর্বশেষ সংবাদ
খালেদার চিকিৎসা বিষয়ক রিটের শুনানি ১ অক্টোবর  » «   হবিগেঞ্জ প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি : হামলায় নারী আহত  » «   শিল্পা শেঠি বৈষম্যের শিকার!  » «   মেসি’র বিস্ময়কর কাণ্ড  » «   মাছের পেটে ৬১৪ পিস ইয়াবা!  » «   সিলেটে বসছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আসর  » «   নিজের ছবির নায়িকা রিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে মহেশ ভাটরিয়া চক্রবর্তী ঘনিষ্ঠ!  » «   এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ : ভিয়েতনামকে হারিয়ে গ্রুপসেরা বাংলাদেশের মেয়েরা  » «   বিসিবির প্রধান নির্বাচক নান্নুর বাসায় চুরি  » «   ঢাকায় সামার ওপেন ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার সুপার সিক্সটিন পর্ব : সিলেটী-সিলেটী লড়াই  » «   আটক চার ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর  » «   জগন্নাথপুরের রুহুল আমিন ইতালিতে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত  » «   জিয়াদের পরিবারকে খুঁজছে সিলেট কোতোয়ালি পুলিশ  » «   বন্য হাতির আক্রমণে কুলাউড়ার যুবদল নেতার মৃত্যু  » «   এ কী বললেন পপি!!!  » «  

আজম খানের জন্মদিনে নেই কোনো আয়োজন



sylhetপ্রান্তডেস্ক:বাংলাদেশের পপ সঙ্গীতাঙ্গনের সব তারকা নির্দ্বিধায় ভালবাসা ও অসীম শ্রদ্ধায় আজম খানকে বসিয়েছেন আকাশসম সম্মানের আসনে। স্বাধীনতার পর তার সহযোদ্ধারা সবাই ফিরে যান নিজ নিজ পেশায়। কিন্তু তরুণ আজম খান অস্ত্র জমা দিয়ে নেমে পড়েন অন্য এক উন্মাদনায়। গানে গানে তারুণ্যের রক্তে তুলেন মাতম। ২৮ ফেব্রুয়ারি তার জন্মদিন। কোনো আয়োজন ছাড়া এবার নিরবেই পার হচ্ছে পপগুরুর জন্মদিনটি।
পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান। সঙ্গীত অঙ্গনে তিনি আজম খান নামেই পরিচিত। বাংলাদেশের এই রক গানের জনকের জন্ম ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুর সরকারি কলোনির ১০ নম্বর কোয়ার্টারে। বাবা আফতাবউদ্দিন আহমেদ, মা জোবেদা খাতুন।
১৯৫৬ সাল থেকে কমলাপুরে বসবাস শুরু করে আজম খানের পরিবার। একই বছর কমলাপুরের প্রভেনশিয়াল স্কুলে প্রাইমারিতে ভর্তি হন তিনি। ১৯৬৫ সালে সিদ্ধেশ্বরী হাইস্কুলে বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকে ১৯৬৮ সালে এসএসসি পাস করেন আজম খান। ১৯৭০ সালে টিঅ্যান্ডটি কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন।
মাত্র ২১ বছর বয়সে ঢাকা উত্তরের সেকশন কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন আজম খান। দেশ স্বাধীন হবার পর গান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আখন্দ ভ্রাতৃদ্বয় (লাকী আখন্দ ও হ্যাপি আখন্দ), আরও কয়েকজনকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ব্যান্ডদল ‘উচ্চারণ’।
১৯৭২ সালে ‘এতো সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে’ এবং ‘চার কালেমা সাক্ষী দেবে’ গান দু’টি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় বিটিভিতে। ব্যাপক প্রশংসা আর তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয় এ দু’টো গান। দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়ে যায় ‘উচ্চারণ’।
১৯৮১ সালে ১৪ জানুয়ারি, সাহেদা বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় আজম খানের। তখন তার বয়স ছিল ৩১ বছর। সহধর্মিণী মারা যাবার পর থেকে একাকী জীবন কাটাতেন তিনি। আজম খানের দুই মেয়ে এবং এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ে ইমা খান, মেজো ছেলে হৃদয় খান ও ছোট মেয়ে অরনী খান।
১৯৭২ সালে নটরডেম কলেজের প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো দর্শকের সামনে গান করেন তিনি। ১৯৭৩ সালের ১ এপ্রিল এদেশে প্রথম কনসার্ট হয় ওয়াপদা মিলনায়তনে হারুন নামের জনৈক ব্যক্তির অবদানে।
১৯৮২ সালে এক যুগ নামে তার প্রথম ক্যাসেট বের হয়। এরপর তার বেশ কিছু ক্যাসেট এবং সিডি বাজারজাত হয়। তার প্রথম সিডি বের হয় ১৯৯৯ সালের ৩ মে ডিস্কো রেকর্ডিংয়ের প্রযোজনায়।
তার ১৭টি গানের অ্যালবামসহ বেশ কিছু মিক্সড অ্যালবাম প্রকাশ হয়। আজম খানের অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মাঝে উল্লেখযোগ্য কিছু গান হলো- আমি যারে চাইরে, অভিমানী তুমি কোথায়, একদিন-তো চলে যাবো, জীবনে কিছু পাবো নারে, আসি আসি বলে তুমি আর এলেনা, ও চাঁদ সুন্দর চাঁদ, চুপ চুপ অনামিকা চুপ, হারিয়ে গেছো খুঁজে পাবোনা, ঘুম আসেনা ইত্যাদি।
আজম খান ১৯৭৪-১৯৭৫ সালের দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’ শিরোনামে গান গেয়ে হইচই ফেলে দেন।
২০১০ সালে তিনি ক্যানসার আক্রান্ত হন। ২০১১ সালের ৫ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই পপসম্রাট।

Developed by: