সর্বশেষ সংবাদ
ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি : ঘোষণা উপজেলার, বাতিল জেলার  » «   ক্রীড়া সংগঠক আব্দুল কাদিরের মায়ের ইন্তেকাল  » «   রণবীর-দীপিকা বিয়ে নভেম্বরে?  » «   যাদুকর ম্যারাডোনার পায়ের অবস্থা করুণ  » «   একটু আগেবাগেই শীতের আগমণ  » «   চট্টগ্রামে আইয়ুব বাচ্চুর জানাযা বাদ আছর  » «   রাবণ পোড়ানো দর্শনকারী ভিড়ের উপর দিয়ে ছুটে গেলো ট্রেন : নিহত ৬০  » «   গোলাপঞ্জে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন উদ্বোধন করলেন শিক্ষামন্ত্রী  » «   বিসর্জনের দিন সিলেটে আসনে ‘দেবী’  » «   বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে মেয়র আরিফ  » «   সিলেটে স্বয়ংক্রিয় কৃষি-আবহাওয়া স্টেশন স্থাপিত  » «   শীতে ত্বক সজীব রাখতে শাক-সবজি খান  » «   সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সংস্কার হচ্ছে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে  » «   কোম্পানীগঞ্জে টাস্কফোর্সের অভিযানে পেলোডার মেশিন জব্দ  » «   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনে সরকারকে নোটিশ  » «  

ফুল ফুটুক আর না ফুুটুক আজ বসন্ত



আফতাব চৌধুরী:নব ফাল্গুনের এ দিনে মধুর বসন্ত এসেছে—-শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন। ঋতুরাজ বসন্তের আগমন। শীতের কুয়াশার আলো আঁধারি ফোটে নতুন আমেজে, নতুন সাজে ধরা দেয় বসন্ত। বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। বসন্তের আগমনী বার্তা সবাইকে জানিয়ে গেল সাজ-উৎসবের মধ্য দিয়ে। বসন্ত মানেই উৎসব, উৎসব ভাব। জনজমাট এক রঙ্গিন দিন। চারিদিকে যেন নতুন প্রাণের ছোঁয়া। মানুষের জীবন এবং প্রকৃতির মাঝে এক পরিবর্তিত রূপ ধরা পড়ে ঋতুরাজ বসন্তের উজ্জ¦ল উপস্থিতিতে। ফাগুনের আগুন লাগে পলাশের ডালে ডালে, কৃষক্সচূড়ার শাখায়-বসন্ত ডাক দিয়ে যায় আমাদের নতুনের বার্তা শোনায় উজ্জ¦ল উচ্ছ্বাসে-প্রাণের আবেগে।
ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়—
ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় ভরেছে মন প্রাণ। আমাদের উৎসবে, জীবনে লাগুক ফাগুন হাওয়া। ক্ষতি কি! সে হাওয়ায় পাল উড়িয়ে দিতে? কারণ বসন্ত হচ্ছে যৌবনের ঋতু, প্রেমের ঋতু, উজ্জ¦ল-উদ্দমতার ঋতু। তাইতো সবাই ঋতু রাজ বলে বসন্তকে। সারা পৃথিবীর মানুষ বসন্তকে বরণ করে নেয় উৎসবের মাধ্যমে। প্রাচীন গ্রীক পুরাণে ও বসন্তকে বরণ করে নেবার কথা উল্লেখ রয়েছে। এটাকে তারা ফাগেনা উৎসব বলে। আমাদের বাংলাদেশে ও কোন কোন জায়গায় বসন্ত উৎসবকে ‘ফ“গু’ বা ফাগ বলা হয়। আবহমান বাংলার স^কীয় সংস্কৃতির ধারায়, চিরায়ত বাংলার লোক সংস্কৃতির উৎসব হিসাবে ‘বসন্ত উৎসব আমাদের জীবনে স্থান করে নিয়েছে। প্রেমিক-প্রেমিকাদের উৎসব, রাধা কৃষেক্সর উৎসব, কাম দেবতার উৎসব, দোল যাত্রা বা হোলি উৎসব, ঝুলন যাত্রা চরক উৎসব, বহ্নি উৎসব এমনকি ভালবাসার উৎসব ‘ ভ্যালেন্টাইন্সডে ’ সবি এ বসন্ত দিনে।
আহা আজি এ বসন্তে—
ঋতু ভিত্তিক যত কবিতা গল্প-প্রবন্ধ বা শিল্প সাহিত্য রচনা হয়েছে, তার সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে ঋতু রাজ বসন্ত। নানা ফুলের সুবাস আর কোকিলের কুহু কুহু সুমিষ্ট ধ্বনি আমাদের প্রাণকে আন্দোলিত করে। কালের পরিবর্তনের ছোঁয়া অনুভূত হয় বসন্তের পেলব পরশে। প্রকৃতি ও বদলে যায়। গাছের নতুন শাখায় সবুজ কচি পাতা উষার প্রথম আলোতে চিক চিক করে ওঠে। তাইতো কবিতা ও গানে, সুরের তান ও লরীতে , ন–পুরের নিক্কন ছন্দে বসন্ত ধরা দেয়। তাইতো—কবি গেয়ে ওঠেন “আসে বসন্ত ফুল বনে- সাজে বনভূমি সুন্দরী।” কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বলেছেন ব্যর্থ প্রেমের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে, আগুন জ্বালো—
ডাক দিয়েছেন বহ্ন্যুৎসবে। গ্রামে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য খড়খুটো জ্বালিয়ে উৎসব করা হতো। প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক নীহার রঞ্জন রায় এ প্রসঙ্গে বলেছেন-“প্রাকবৈদিক আদিম কৃষি সমাজের বলি ও নৃত্য-গীত উৎসব অভাবেই বর্তমানে হোলিতে রূপান্তরিত হয়েছে”। আজো বাংলার উৎসবে ফা“গুনী পূর্ণিমার দোল-বা হোলি উৎসব আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। রঙ ছিটানো হয় এ উৎসবে লাল-হলুদ, বাসন্তী রঙ। নানা রঙে বর্ণিল করে তোলে মেয়েদের শাড়ী, পু®প বেলীতে সাজিয়ে তোলে চুলের খোঁপা।
সেই বসন্ত সাজে—
ফা“গুন মানে বসন্ত আর রঙ মানে বাসন্তী। তাইতো বসন্ত উৎসবে থাকা চাই বাসন্তীর ছোঁয়া। বসন্তের এ আসা যাওয়ার মাঝে মেয়েদের সাজে ফুটে উঠে বাসন্তীর উজ্জ¦ল রং। নিয়ত নতুন করে সাজিয়ে তোলে বঙ্গ ললনাকে এ বাসন্তী রঙের শাড়ী। ছোট বড় বিভিন্ন বয়সী মেয়েরা গ্রাম বাংলার তাঁতে বোনা শাড়ী পরে জানিয়ে দেয় বসন্তের বার্তা। রঙিন এ ঋতুতে সাজও হওয়া চাই রঙিন। তবে উগ্রতা নয়। আপনার হওয়া চাই উজ্জ¦ল-উজ্জ¦ল প্রাণবন্ত। নারীর নিপূন সাজ তার রূপ লাবণ্যকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। কপালে টিপ, মাথায় সিদুঁর, পায়ে আলতা, অনামিকায় আংটি, হাতে রঙিন চুড়ি, খোঁপায় ফুলের মালা। বাসন্তী শাড়ীর সঙ্গে গাঁদা ফুলেই মানানসই। ছেলেদের জন্য চাই পাঞ্জাবী।
বসন্ত উৎসবে—
সারা বসন্ত জুড়ে থাকে নানা উৎসবের আমেজ। শুধু মাত্র বসন্তকে বরণ করে নেয়ার মধ্যে এ উৎসবের শেষ নয়। বসন্ত বরণ উৎসবে চারুকলা ইনস্টিটিউট, শহীদ মিনার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন ও রমনার বটমূলে মিলিত হয় হাজার প্রাণের মেলা। আমাদের এ অঞ্চলেও এর ব্যতিক্রম নেই-কিছুটা হলেও শহীদ মিনার সহ অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দিনটি থাকে আনন্দ মুখ–র।

বসন্ত ছুঁয়েছে আমাকে—
এ বছর বসন্ত বরণের পরের দিনই প্রেমিক প্রেমিকার জন্য কাঙ্খিত সে দিন- “হাপি ভ্যালেন্টাইনস ডে”। নব ফাগুনের এ দিনে ছড়িয়ে পড়বে ভালবাসার আলোক ধারা এ সত্যকে সামনে রেখে এবারে বেশ উৎসব আনন্দে অতিবাহিত হবে এ ভালবাসা দিবস। প্রিয় জনকে নতুন আবেগে কাছে পাবার আশার প্রতীক্ষায় থাকে প্রেমিক-প্রেমিকারা। এ দিনে প্রিয়জনরা একে অন্যে তাদের মধ্যে বিভিন্ন ফুল,কার্ড ও উপহার সামগ্রী দিয়ে ভালোবাসা জানায়। ১৪ ফেব্রুয়ারির সে হাজার বছরের পুরানো ইতিহাস ইউরোপ ছাড়িয়ে এখন বাংলাদেশে। আমাদের দেশে আজ তা ভালবাসার দিন হিসাবে উদযাপিত হয়। যদিও বা বিদেশি সংস্কৃতি। যায় যায় দিনের ব্যাপক প্রচারণায় ঞ্ছভ্যালেন্টইনস ডেঞ্জ স¤পর্কে তরুণদের মধ্যে পরিচিতি এনে দেয়। ভালবাসার দিন হিসাবে প্রচলিত সে পয়েলা ফা“গুনের পাশাপাশি ভ্যালেন্টাইনস ডে স্থান করে নিচ্ছে। সব মানুষের মনে বসন্ত উৎসবের আমেজ ভ্যালেন্টাইনস ডে আনতে না পারলেও কিন্তু এ দেশের তরুণ-তরুণীদের কাছে এর আবেদন প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। সকল প্রতিবন্ধকতা, নিষেধের প্রাচীর ভেঙ্গে ভালবাসার কাঙ্খিত সে মানুষকে কাছে পাবার অদম্য পৃহা যেন আরো বাড়িয়ে দেয় এ দিনে। ব্যতার এ দিনে শুধু একটি বিশেষ দিনে প্রেমিক-প্রেমিকারা চায় একটু অবসর-ভালবাসার, দু’জনকে আরো কাছে নিবিড়ভাবে একান্তে পাবার জন্য উৎসুক থাকে যুগল বন্দী প্রেম। তাইতো কবি বলেছেন ঃ
“দোহাই তোদের একটুকু চুপকর,
ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর”
ও পলাশ তুমি ফোঁট না….
“ও পলাশ তুমি ফোঁট না
তুমি ফুটলে ভাইকে আমার মনে পড়ে।
ও কোকিল তুমি গেয়ো না
তোমার ঐ কুহু সুরে মন যে কেমন করে ”।
আমাদের চেতনায়, প্রাণের আবেগে, হƒদয়ের তন্তুতে একুশ আজো চির ভাস^র। আমাদের সৃষ্টিতে, আনন্দ-বেদনায়, কৃষ্টিতে মায়ের ভালোবাসায় একুশ আজো অম-ান হয়ে উজ্জ¦ল দীপ্তিতে দেদিপ্যমান হয়ে আছে, আমাদের হƒদয়ে। একুশ আমার গর্ব, একুশ আমার অহংকার, আমার হাজার বছরের প্রেম। আমার জড়ে উঠার দীপ্ত প্রেরণা। বসন্তের এমনি দিনে একুশ আমাদের ধরা দেয়। যখন পলাশ ফুঁটে- লাল হয়ে ওঠে আকাশ, কৃষক্সচূড়ার রঙে রাঙা হয় সবুজ প্রান্তর। তখনি আমাদের জানিয়ে যায় একুশের কথা, বাংলা ভাষার কথা। বসন্ত যেমনি আনন্দের তেমনি বেদনার। মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যাঁদের বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল এ পৃথিবী, তাঁদের কথা যেন আমরা ভূলে না যাই। তাঁদের সে স^প্নকে যেন আমরা বাবে রূপ দান করতে পারি। এ হোক আমাদের অঙ্গীকার। বিশ্ব বলয়ে মাতৃভাষা বাংলার আন্তজাতিক স^ীকৃত বাঙ্গলাকে করেছে গৌরবান্বিত। আমাদের দেশ প্রেম, মুল্যবোধ জাগ্রত হোক অসীম ভালবাসায়, অনন্ত বিশ্বাসে। আমার তারুণ্য,আমার বসন্ত—
আমাদের রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। তাই আমাদের শিল্প সংস্কৃতির শিখরও গভীর থেকে গভীরে প্রোথিত। হঠাৎ বৃষ্টি বা ঝড়ো হাওয়ায় তা মুছে যাবার নয়। আমাদের দেশ, আমাদের বর্ণমালা, আমার তারুণ্য,আমার বসন্ত-আমার অহংকার। চেতনার উৎস মুলে রয়েছে আমাদের দেশ প্রেম-ভালবাসা। সে ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার আমরা,ঐতিহ্য আর শিল্পবোধ এসব প্রকাশ পায় চলনে-বলনে,পোষাক-পরিচ্ছদে। সব কিছুতেই স^াভাবিক ভাবে দেখা যায় নিজস^ সংস্কৃতি,ইতিহাস ইত্যাদি। ষড়ঋতুর পূর্ণতা প্রকাশ পায় বসন্তের বিপুল বৈভবে। তেমনি জীবনের উৎকৃষ্ট সময়, সে যৌবনে প্রকাশ ঘটে সকল সুন্দরের। সকল মলিনতা,আবিলতা দুর করে সুন্দরকে প্রকাশ করতে হবে। আমাদের শিল্প সাহিত্যে, আবহমান বাংলার ঐতিহ্যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বসন্ত চির জাগ্রত থাকুক এ আমাদের প্রত্যাশা। সাংবাদিক-কলামিস্ট।

Developed by: