সর্বশেষ সংবাদ
ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি : ঘোষণা উপজেলার, বাতিল জেলার  » «   ক্রীড়া সংগঠক আব্দুল কাদিরের মায়ের ইন্তেকাল  » «   রণবীর-দীপিকা বিয়ে নভেম্বরে?  » «   যাদুকর ম্যারাডোনার পায়ের অবস্থা করুণ  » «   একটু আগেবাগেই শীতের আগমণ  » «   চট্টগ্রামে আইয়ুব বাচ্চুর জানাযা বাদ আছর  » «   রাবণ পোড়ানো দর্শনকারী ভিড়ের উপর দিয়ে ছুটে গেলো ট্রেন : নিহত ৬০  » «   গোলাপঞ্জে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন উদ্বোধন করলেন শিক্ষামন্ত্রী  » «   বিসর্জনের দিন সিলেটে আসনে ‘দেবী’  » «   বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে মেয়র আরিফ  » «   সিলেটে স্বয়ংক্রিয় কৃষি-আবহাওয়া স্টেশন স্থাপিত  » «   শীতে ত্বক সজীব রাখতে শাক-সবজি খান  » «   সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সংস্কার হচ্ছে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে  » «   কোম্পানীগঞ্জে টাস্কফোর্সের অভিযানে পেলোডার মেশিন জব্দ  » «   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনে সরকারকে নোটিশ  » «  

আজ হুমায়ুন ফরীদির ষষ্ট মৃত্যুবার্ষিকী



31jun প্রান্ত ডেস্ক: ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, পহেলা ফাল্গুন। এমন দিনে সবাই যখন ফাগুন লাগা আগুনে অবগাহনে ব্যস্ত, ঠিক সে সময়ে বিষাদের কালো আভা ছড়িয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন অভিনয়ের কিংবদন্তি পুরুষ হুমায়ুন ফরীদি। কাঁদিয়েছিলেন কোটি ভক্তকে। দেখতে দেখতে ছয়’টি বছর পেরিয়ে গেল। তাকে হারাবার যন্ত্রণা আজও অটুট, আজও সতেজ।
জীবনের রঙ্গমঞ্চ থেকে ৬০ বছর বয়সে গুণী এই মানুষের না ফেরার দেশে চলে যাওয়া কাঁদিয়েছে সবাইকেই। শুধু অভিনয় দিয়েই মানুষকে বিমোহিত করেছিলেন ডাকসাইটে এই অভিনেতা। তাকে বলা হয় অভিনেতাদের অভিনেতা, একজন আদর্শ শিল্পী। তার অভিব্যক্তি, অট্টহাসি, ব্যক্তিত্বের ভক্ত কে না ছিলেন!তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, সনদের প্রয়োজন অনুভব করেননি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য ছিলোনা জীবনভর। তার কাছে এ যেন ছিলো, দায়িত্ব পালন শেষে নিজের ঘরে ফেরার মতো বিষয়।
পুরো নাম হুমায়ুন কামরুল ইসলাম ফরীদি (হুমায়ুন ফরীদি)। বাংলাদেশের অভিনয় জগতের সবচে বর্নাঢ্য মানুষ৷ বাংলাদেশের অবিসংবাদিত অভিনেতা তিনি। মঞ্চ, টিভি আর চলচ্চিত্রে এরকম ভার্সেটাইল অভিনেতা একটিও নেই।
কী অসাধারণ ক্ষমতা নিয়ে এসেছিলেন ফরীদি। বিটিভির সাদাকালো যুগের সবচে অসাধারন, সবচে শক্তিমান এই বর্নিল অভিনেতা। বিটিভির ৮০’র দশকের দর্শক যারা, তারা সৌভাগ্যবান এই গুনী অভিনেতার অভিনয় দেখতে পেরেছে বলে।
প্রবলভাবে বেঁচে ছিলেন আমৃত্যু৷ তার বেঁচে থাকা ছিলো গোপনে, গহিনে আশাবাদী মানুষের মতো৷
হুমায়ুন ফরীদি অভিনীত উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটকের মধ্যে রয়েছে- কিত্তনখোলা, মুন্তাসির ফ্যান্টাসি, কিরামত মঙ্গল, ধূর্ত উই প্রভৃতি।
টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে, নিখোঁজ সংবাদ, হঠাৎ একদিন, পাথর সময়, সংশপ্তক, সমুদ্রে গাংচিল, কাছের মানুষ, মোহনা, নীল নকশাল সন্ধানে, দুরবীন দিয়ে দেখুন, ভাঙ্গনের শব্দ শুনি, কোথাও কেউ নেই, সাত আসমানের সিঁড়ি, সেতু কাহিনী, ভবের হাট, শৃঙ্খল, জহুরা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, প্রতিধ্বনি, গুপ্তধন, সেই চোখ, অক্টোপাস, বকুলপুর কত দূর, মানিক চোর, আমাদের নুরুল হুদা প্রভৃতি।
হুমায়ুন ফরীদি বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রে যেমন অভিনয় করেছেন, তেমনি বিকল্পধারার চলচ্চিত্রেও রেখেছেন কৃতিত্বের স্বাক্ষর। তার অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে আনন্দ অশ্রু, মায়ের অধিকার, আসামি বধূ, একাত্তরের যীশু, প্রাণের চেয়ে প্রিয়, ভালোবাসি তোমাকে, কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি, প্রবেশ নিষেধ, অধিকার চাই, মিথ্যার মৃত্যু, বিদ্রোহী চারদিকে, মনে পড়ে তোমাকে, মাতৃত্ব, ব্যাচেলর, জয়যাত্রা, শ্যামল ছায়া, দূরত্ব, চেহারা, আহা!, কি যাদু করিলা, মেহেরজান প্রভৃতি।
ব্যক্তিগত জীবনে হুমায়ুন ফরিদী দুবার বিয়ে করেন। প্রথম বিয়ে করেন ১৯৮০’র দশকে। ‘দেবযানী’ নামের তাঁর এক মেয়ে রয়েছে এ সংসারে। পরবর্তীতে বিখ্যাত অভিনেত্রী সুবর্ণা মোস্তফাকে তিনি বিয়ে করলেও তাঁদের মধ্যেকার বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে ২০০৮ সালে।
এদিকে, মৃত্যুর ছয় বছরপর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্মান দিল এ অভিনেতাকে। তাই মরণোত্তর একুশে পদক দিয়ে সম্মাননা জানানো হচ্ছে হুমায়ুন ফরীদিকে।

Developed by: