সর্বশেষ সংবাদ
ইলিয়াছ আলীর গাড়ি চালক আনসার আলীর মা-মেয়ে আজও অপেক্ষায়  » «   কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংবাদ সম্মেলন : সাত দিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না করলে ক্লাস বর্জন  » «   ‘করের আওতায় আনা হবে সিএনজি অটোরিকশা মালিকদের’  » «   দীর্ঘ ২৫টি বছর পর…  » «   অবশেষে আরব আমিরাতে খুলেছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার  » «   বালাগঞ্জে ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনা সেতু’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন  » «   দক্ষিণ সুরমায় জোড়া খুনের মামলায় ৪৯ জন কারাগারে : ২ জনের জামিন  » «   প্রেমের টান বড় জোরদার : যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফরিদপুর  » «   অর্ধ মানুষরূপী এটা কি?  » «   ফের আলোচনায় ডিআইজি মিজান : সংবাদ পাঠিকাকে ৬৪ টুকরো করার হুমকি  » «   গোলাপগঞ্জে হামলার শিকার তরুণের মৃত্যু  » «   সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি বারবারা বুশ নেই  » «   ৪০ গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের টিকেট!  » «   প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে পৌঁছেছেন  » «   চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক আজ  » «  

বালাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দালালদের দৌরাত্ম



31junবালাগঞ্জ প্রতিনিধি: বালাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দালালদের দৌরাত্ম মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। শিক্ষা বিভাগের যেকোন কাজ দালালদের সুপারিশ ছাড়া হচ্ছে না। বর্তমান সময়ে শিক্ষক বদলী কে কেন্দ্র করে তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
জানুয়ারী থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত শিক্ষা বিভাগে শিক্ষকদের একাধিক বদলী সম্পন্ন হয়ে থাকে। এ বদলীকে পুঁজি করে শিক্ষা অফিসের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে ওসমানীনগর-বালাগঞ্জ উপজেলায় গড়ে উঠেছে এক শ্রেণীর দালাল চক্র। কোন শিক্ষক নিজের পছন্দমত স্থানে বদলী হতে চাইলে তাকে প্রথমেই দালালদের স্মরণাপন্ন হতে হচ্ছে। বদলীর জন্য দালালদের চাহিদা মতো টাকা না দিয়ে কেউ বদলী হতে পারছেন না। এক্ষেত্রে মহিলা শিক্ষকরাই ভুক্তভোগী হচ্ছেন বেশী। দালালদের ইশারা ছাড়া বালাগঞ্জ শিক্ষা বিভাগের ফাইলও নড়ে না-এমন মন্তব্য অবসরপ্রাপ্ত এক প্রাথমিক শিক্ষকের।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওসমানীনগর-বালাগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বালাগঞ্জ উপজেলার অধিনস্থ রয়েছে। বছরের প্রথম তিনমাস বদলী সংক্রান্ত আবেদনের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন রয়েছে। এ বদলীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলায় এক শ্রেণীর দালাল। এ উপজেলায় এক স্কুল থেকে উপজেলার মধ্যে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলী, উপজেলা বদলী ও মহিলা শিক্ষকদের বিবাহ জনিত কারণে বদলী হওয়ার জন্য সহস্রাধিক প্রার্থী আবেদন করে থাকেন।
এসব বদলী সংক্রান্ত বিষয়ের জন্য দুই উপজেলায় বালাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মনোনিত শিক্ষক নেতাসহ একাধিক দালাল রয়েছে। দালালদের মাধ্যমে বদলীর জন্য প্রার্থীদের নিকট থেকে বিভিন্ন হারে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এই টাকার মধ্যে ভাগ রয়েছে উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বদলীকারী শিক্ষক জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসে বদলীর আবেদন করলে কোন লাভ হয়নি। তাদের নিদিষ্ট টাকা না দিয়ে বদলীর আদেশ হয়নি। শর্ত মতে টাকা দিয়ে বদলী হয়ে যায়।
তারা আরো জানান, উপজেলার মধ্যে বদলী হতে হলে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার, এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় বদলী হতে হলে ৫০ থেকে ১ লক্ষ টাকা ও বালাগঞ্জ থেকে সিলেটের বাইরে কোন জেলায় বদলী হতে হলে ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এ চুক্তিকৃত টাকা না দেওয়া হলে কোন দিনও বদলী হয় না।
একটি বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে, বদলী সংক্রান্ত বিষয়সহ বিভিন্ন কাজে উপজেলায় গড়ে উঠেছে এক শ্রেণীর দালাল। শিক্ষা অফিসে কোন শিক্ষক গেলেই উক্ত দালালরা শিক্ষকের সমস্যাগুলো শুনে ও বিভিন্ন পরামর্শ দেয়। পরবর্তীতে তাদের সাথে যোগাযোগ করে চুক্তির মাধ্যমে কাজগুলো করে দেওয়া হয়। দালালদের মধ্যে রয়েছে শিক্ষক নেতা, শিক্ষা অফিসের কর্মচারি ও শিক্ষা বিভাগ বহির্ভূত কিছু লোক।
এ ব্যাপারে বালাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রকিব ভূইয়া বলেন, জানুয়ারী মাসে কিছু বদলীর আবেদন জমা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে মিটিংয়ের মাধ্যমে বাচাই করে জেলা শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করা হবে।
দালালদের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে অধিকাংশ বদলী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষক বদলীতে কোন টাকা পয়সা নেওয়া হচ্ছে না। কারোর মাধ্যমে বা কোন সুপারিশে বদলী হবে না এবং কোন শিক্ষক যাতে প্রতারিত না হয় সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখা হবে।

Developed by: