সর্বশেষ সংবাদ
খালেদার চিকিৎসা বিষয়ক রিটের শুনানি ১ অক্টোবর  » «   হবিগেঞ্জ প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি : হামলায় নারী আহত  » «   শিল্পা শেঠি বৈষম্যের শিকার!  » «   মেসি’র বিস্ময়কর কাণ্ড  » «   মাছের পেটে ৬১৪ পিস ইয়াবা!  » «   সিলেটে বসছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আসর  » «   নিজের ছবির নায়িকা রিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে মহেশ ভাটরিয়া চক্রবর্তী ঘনিষ্ঠ!  » «   এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ : ভিয়েতনামকে হারিয়ে গ্রুপসেরা বাংলাদেশের মেয়েরা  » «   বিসিবির প্রধান নির্বাচক নান্নুর বাসায় চুরি  » «   ঢাকায় সামার ওপেন ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার সুপার সিক্সটিন পর্ব : সিলেটী-সিলেটী লড়াই  » «   আটক চার ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর  » «   জগন্নাথপুরের রুহুল আমিন ইতালিতে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত  » «   জিয়াদের পরিবারকে খুঁজছে সিলেট কোতোয়ালি পুলিশ  » «   বন্য হাতির আক্রমণে কুলাউড়ার যুবদল নেতার মৃত্যু  » «   এ কী বললেন পপি!!!  » «  

চিকিৎসাই বড় চ্যালেঞ্জক্যান্সার রোগীদের



31junপ্রান্তডেস্ক:ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি)-এর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর ক্যান্সার আক্রান্ত হন এক লাখ ২২ হাজার ৭১৫ জন। যাদের মধ্যে ধনীরা উন্নত দেশে, মোটামুটি ধনীরা ভারতে, মধ্যবিত্তরা ঢাকার বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা করান। কিন্তু যাদের আর্থিক সঙ্গতি নেই তারা বিনা চিকিৎসায় মারা যান। তবে দেশের সব ক্যান্সার রোগীকে চিকিৎসা নিশ্চিত করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের দাবি, ক্যান্সার আক্রান্ত প্রত্যেক নাগরিককে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে।
আইএআরসি’র তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্তদের মধ্যে- স্তন ক্যান্সার ১২ শতাংশ,খাদ্যনালীর ক্যান্সার ১১ শতাংশ,জরায়ুর ক্যান্সার প্রায় ১০ শতাংশ, ফুসফুসের ক্যান্সার ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, ঠোঁট ও মুখের ক্যান্সার ৮ দশমিক ৬ শতাংশ, গলবিল বা ফ্যারিংস ৮ দশমিক এক শতাংশ, গলব্লাডার ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, কোলন ৩ দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং অন্যান্য ক্যান্সার ২৯ শতাংশ।
সংস্থাটির তথ্যমতে, বাংলাদেশে বছরে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৯১ হাজার ৩৩৯ জন। সবচেয়ে বেশি ১৪ শতাংশ মারা যান খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে। এছাড়া ফুসফুসের ক্যান্সারে ১১ শতাংশ, গলবিলে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ, স্তনে সাত দশমিক আট শতাংশ, জরায়ুতে সাত দশমিক দুই শতাংশ, পেটের ক্যান্সারে ৬ দশমিক আট শতাংশ, ঠোঁট ও মুখের ক্যান্সারে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, গলব্লাডারে চার দশমিক আট শতাংশ,কোলনে তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং অন্যান্য ক্যান্সারে ২৯ শতাংশ।অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথ-ইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান)-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্যান্সার নির্ণয়ের এক বছরের মধ্যে শতকরা ৭৫ ভাগ রোগী হয় মারা যান, না হয় ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়েন।সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দশকে দেশে সরকারি খাতে ক্যান্সার চিকিৎসার আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি এসেছে। তারপরও এখনও পর্যন্ত দেশের ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা পুরোপুরি ঢাকাকেন্দ্রিক। ঢাকার মহাখালীতে ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল একমাত্র বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতাল হিসেবে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। তবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট আটটি প্রতিষ্ঠানে এখন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিলেও নেই প্রয়োজনীয় রেডিওথেরাপি আধুনিক যন্ত্রপাতি। ঢাকার বাইরে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে নেই ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসার কোনও সুযোগ।
স্বাস্থ্য বিশ্লেষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমাদের দেশে ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই হতাশাজনক। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীদের দুই তৃতীয়াংশ সেবা নেন। বাকিদের কী হয়- সেটা নিয়ে আলাদা গবেষণা হতে পারে। তবে দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে পারেন মাত্র ৫ শতাংশ। বাকিরা দেশেই চিকিৎসা করান। অনেকেই চিকিৎসা না নিয়েই মারা যান। আমাদের দেশে রোগীর জন্য ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থা নেই। সরকার থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর জন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের কথা বলা থাকলেও বাস্তবে রোগীদের টাকা পাওয়ার হার খুবই কম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থা বেশ জটিল। এক তো রোগীর জন্য পর্যাপ্ত সেবার ব্যবস্থা নেই। অভিভাবক বা রোগীকে রোগ সম্পর্কে না জানানো রোগের চিকিৎসা নিশ্চিতে বাধা দেয়। তাই রোগীর সেবা দিতে চাইলে সরকারকে সেবা দেওয়ার প্রত্রিয়া সহজলভ্য করতে হবে। হাসপাতালে এলে সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী রোগীর সেবা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালে রোগীকে কোয়ালিটি সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। রোগীকে বুঝিয়ে বলাই হয় না যে তার ক্যান্সার হয়েছে এবং কীভাবে তার চিকিৎসা করা দরকার।’
উদাহারণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনও রোগীকে রেডিওথেরাপি দিতে হলে সরকারি হাসপাতালে ছয় মাস পর সিরিয়াল আসে। ততদিন পর্যন্ত হয়তো ওই রোগী বেঁচে থাকেন না। আর এভাবেই চিকিৎসা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য শুধু স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বাড়ালেই হবে না, চিকিৎসা সিস্টেমেরও পরিবর্তন করতে হবে। চিকিৎসার ক্ষেত্রেও অনেক সমস্যা আছে। বিশেষ করে হাসপাতালের ভেতরে ডাক্তারের সঙ্গে রোগীর সম্পর্কের বিষয়টি মাত্র ১০ শতাংশ। রোগীর চিকিৎসাসহ বাকি দিকগুলো অন্যরা দেখে থাকেন। চিকিৎসার আরও বহু ফ্যাক্টর আছে যেগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ক্যান্সার রোগীর নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ‘ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি। অজ্ঞতা,অসচেতনতা এবং ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসা সুবিধা সুলভ না হওয়ায় রোগ ধরা পড়ে দেরিতে। যার কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আশানুরূপ কোনও ফল পান না রোগীরা। এই অবস্থার পরিবর্তনে অবশ্যই রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারকে ৮টি বিভাগে আলাদা আঞ্চলিক ক্যান্সার কেন্দ্র স্থাপন, সব মেডিক্যাল কলেজে ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যবস্থা, চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে আনা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে।’

Developed by: