সর্বশেষ সংবাদ
ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি : ঘোষণা উপজেলার, বাতিল জেলার  » «   ক্রীড়া সংগঠক আব্দুল কাদিরের মায়ের ইন্তেকাল  » «   রণবীর-দীপিকা বিয়ে নভেম্বরে?  » «   যাদুকর ম্যারাডোনার পায়ের অবস্থা করুণ  » «   একটু আগেবাগেই শীতের আগমণ  » «   চট্টগ্রামে আইয়ুব বাচ্চুর জানাযা বাদ আছর  » «   রাবণ পোড়ানো দর্শনকারী ভিড়ের উপর দিয়ে ছুটে গেলো ট্রেন : নিহত ৬০  » «   গোলাপঞ্জে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন উদ্বোধন করলেন শিক্ষামন্ত্রী  » «   বিসর্জনের দিন সিলেটে আসনে ‘দেবী’  » «   বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে মেয়র আরিফ  » «   সিলেটে স্বয়ংক্রিয় কৃষি-আবহাওয়া স্টেশন স্থাপিত  » «   শীতে ত্বক সজীব রাখতে শাক-সবজি খান  » «   সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সংস্কার হচ্ছে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে  » «   কোম্পানীগঞ্জে টাস্কফোর্সের অভিযানে পেলোডার মেশিন জব্দ  » «   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনে সরকারকে নোটিশ  » «  



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের নিপীড়নের বিচার চাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপরও হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা ওই তাণ্ডবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ভবন, মূল চত্বর, সূর্যসেন হলসহ আশপাশের এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টির খবর গতকাল বিভিন্ন খবরের কাগজে গুরুত্বসহ ছাপা হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি ন্যায্যতার ভিত্তিতেই সুরাহা হবে- এটাইতো প্রত্যাশিত, তা না করে বলপ্রয়োগের নীতি গ্রহণ পরিস্থিতিকে ঘোলাই করছে। আর ক্যাম্পাসে আন্দোলনের নামে যদি নাশকতা ও অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়, তাহলে তো এর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণই উপযুক্ত পন্থা, কিন্তু ছাত্রলীগের ক্যাডারদের শরণ নেয়া, তাদের তাণ্ডবের প্রশ্রয় দেয়া কেন- তা আমাদের বোধগম্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ শান্তিপূর্ণ পরিবেশই বজায় ছিল। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ফের উত্তপ্ত হওয়া নিয়ে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দেয়া খুবই স্বাভাবিক।
গত ১৫ জানুয়ারি ঢাবিতে সাত কলেজের অধিভুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় আন্দোলনরত বাম ছাত্র সংগঠনসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়, ছাত্রীদের গালাগাল ও উত্ত্যক্ত করে এবং আন্দোলনের সমন্বয়কারীসহ অনেককে মারধর করে। এটা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অন্যায় কাজ অবশ্যই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অন্যায়ের শিকার শিক্ষার্থীদের কথা আমলে না নিয়ে উল্টো তাদের মারখাওয়া সমন্বয়কারীকেই থানায় সোপর্দ করেছিল। থানায় তাকে ২৮ ঘণ্টা আটকে রেখে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। এতেই স্পষ্ট যে, প্রশাসন পুলিশি বলপ্রয়োগ ও ছাত্রলীগের পেশিশক্তি ব্যবহার করে আন্দোলন দমন করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাতে ফল হয়নি। আন্দোলন আরো বেগবান হলে প্রক্টর ও উপাচার্যকে আশ্বাস দিতে হয়েছে যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় ঠিকই, কিন্তু দেখা গেল তাতে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি রাখা হয়নি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ড তদন্তের জন্যও একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, তাদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাস-নাশকতার’ মামলাও করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার তারা মিছিল নিয়ে উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাও করেন। দুপুর থেকে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল- অধিভুক্ত ৭ কলেজ বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও যৌন নিপীড়নকারী ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কার, প্রশাসনের করা নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা প্রত্যাহার ও প্রক্টরের পদত্যাগ। এই সময় আন্দোলনকারীদের হাতে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন ঢাবি উপাচার্য। বিকেলের দিকে ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে উপাচার্যকে উদ্ধার করেন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উপাচার্য কার্যালয়ের ফটক ভাঙা, উপাচার্যকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ রয়েছে। এগুলো অবশ্যই বাড়াবাড়ি এবং নিন্দনীয়। কিন্তু এর জবাবে ছাত্রলীগের তাণ্ডব নিশ্চয়ই গ্রহণযোগ্য নয়। কর্তৃপক্ষের বোঝা উচিত তাদের অপরিণামদর্শিতা ও বলপ্রয়োগের নীতিই পরিস্থিতির অবনতির জন্য অনেকাংশে দায়ী।
আমরা আশা করব, উদ্ভূত সংকটের সুরাহা যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণভাবে যাতে হয়, এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক ভ‚মিকা রাখবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয়- এমন কোনো আচরণ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও বিরত থাকবেন। আর শিক্ষাঙ্গনের যে কোনো ইস্যুতেই ছাত্রলীগকে যেন সন্ত্রাসী ভূমিকায় না দেখা যায় সেটাও নিশ্চিত করবেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব¡।

Developed by: